আসাদুজ্জামান, স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় ইটভাটার ধোঁয়ায় ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার স্লুইসগেট এলাকায় প্রায় ৪০ বিঘা জমির ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কৃষকদের দাবি। এতে অন্তত ৪৫ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। হঠাৎ করে সবুজ ধানক্ষেত শুকিয়ে কালচে হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, এটি কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, বরং ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণেই এই ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমির ধানগাছ অস্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে গেছে। অনেক জমিতে ধানের শিষ ঝুলে পড়েছে এবং গাছের রঙ পরিবর্তিত হয়ে কালচে হয়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, গত সোমবার রাতে ইটভাটা থেকে হঠাৎ করে অতিরিক্ত ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। এরপরই শুরু হয় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি। স্থানীয়দের মতে, এই ইটভাটার ধোঁয়ায় ধান নষ্ট হওয়ার ঘটনা এই অঞ্চলে নতুন নয়, তবে এবার ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবদুস ছালাম জানান, তিনি প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। ঘটনার আগের দিন পর্যন্ত জমির অবস্থা ভালো ছিল। কিন্তু পরদিন সকালে গিয়ে তিনি দেখেন প্রায় সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমার জীবনে এমন ক্ষতি আগে কখনও হয়নি। ইটভাটার ধোঁয়ায় ধান নষ্ট হয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্ষতিপূরণ চাইতে গেলে ভাটার মালিক পক্ষ থেকে সহযোগিতা তো দূরের কথা, উল্টো অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।
একই এলাকার কৃষক শহীদ মিয়া বলেন, ভাটার মৌসুম শেষ হওয়ার সময় অতিরিক্ত কয়লা পোড়ানোর কারণে ঘন ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই ধোঁয়া আশপাশের ফসলের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তিনি জানান, “ইটভাটার ধোঁয়ায় ধান নষ্ট হওয়ায় আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন আমাদের সামনে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ।” অপর কৃষক আবদুল আজিজ বলেন, দীর্ঘদিন কৃষিকাজ করেও এমন ভয়াবহ ক্ষতির মুখোমুখি হননি তিনি।
শুধু ধানক্ষেত নয়, স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী এই ধোঁয়ার কারণে বসতবাড়ির আশপাশের গাছপালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলজ গাছের পাতা ঝরে পড়ছে এবং বাঁশঝাড় শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের দূষণ মাটির উর্বরতা কমিয়ে দিতে পারে, যা কৃষির জন্য বড় হুমকি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ইটভাটার মালিক রফিকুল ইসলাম মুকুল। তিনি দাবি করেন, তার ভাটার চিমনি প্রায় ১০০ ফুট উঁচু এবং গত এক সপ্তাহ ধরে সেখানে ইট পোড়ানো বন্ধ রয়েছে। তার মতে, তীব্র গরম হাওয়া বা প্রাকৃতিক কারণেই এই ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, “ইটভাটার ধোঁয়ায় ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়, এটি প্রকৃতির প্রভাব হতে পারে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম জানান, ইটভাটার ফায়ারিং চেম্বারে জমে থাকা গ্যাস একসাথে বের হলে আশপাশের পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, এই গ্যাস নির্গমনের সময় সতর্কতা না নিলে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাই ইটভাটার মালিকদের এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং পরিবেশগত নিয়ম মেনে চলতে হবে।
রাজিবপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েকুল হাসান খান জানান, এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের লিখিত অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে কৃষকরা দ্রুত তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ইটভাটার ধোঁয়ায় ধান নষ্ট হওয়া একটি গুরুতর বিষয় এবং এর সঠিক সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমির পাশে ইটভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
আরোও পড়ুন – অসম্পূর্ণ বাঁধে ঝুঁকিতে কুটিবামনডাঙ্গা, দুধকুমার নদীর ভাঙনে আতঙ্ক
রাজিবপুরে ইটভাটার ধোঁয়ায় ধান নষ্ট, ৪০ বিঘা জমির ফসল ক্ষতি
আসাদুজ্জামান, স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলায় ইটভাটার ধোঁয়ায় ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার স্লুইসগেট এলাকায় প্রায় ৪০ বিঘা জমির ধানক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় কৃষকদের দাবি। এতে অন্তত ৪৫ জন কৃষক সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। হঠাৎ করে সবুজ ধানক্ষেত শুকিয়ে কালচে হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, এটি কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়, বরং ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণেই এই ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ জমির ধানগাছ অস্বাভাবিকভাবে শুকিয়ে গেছে। অনেক জমিতে ধানের শিষ ঝুলে পড়েছে এবং গাছের রঙ পরিবর্তিত হয়ে কালচে হয়ে গেছে। কৃষকদের অভিযোগ, গত সোমবার রাতে ইটভাটা থেকে হঠাৎ করে অতিরিক্ত ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। এরপরই শুরু হয় ফসলের ক্ষয়ক্ষতি। স্থানীয়দের মতে, এই ইটভাটার ধোঁয়ায় ধান নষ্ট হওয়ার ঘটনা এই অঞ্চলে নতুন নয়, তবে এবার ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আবদুস ছালাম জানান, তিনি প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছিলেন। ঘটনার আগের দিন পর্যন্ত জমির অবস্থা ভালো ছিল। কিন্তু পরদিন সকালে গিয়ে তিনি দেখেন প্রায় সব ধান নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “আমার জীবনে এমন ক্ষতি আগে কখনও হয়নি। ইটভাটার ধোঁয়ায় ধান নষ্ট হয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্ষতিপূরণ চাইতে গেলে ভাটার মালিক পক্ষ থেকে সহযোগিতা তো দূরের কথা, উল্টো অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।
একই এলাকার কৃষক শহীদ মিয়া বলেন, ভাটার মৌসুম শেষ হওয়ার সময় অতিরিক্ত কয়লা পোড়ানোর কারণে ঘন ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। এই ধোঁয়া আশপাশের ফসলের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তিনি জানান, “ইটভাটার ধোঁয়ায় ধান নষ্ট হওয়ায় আমরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি। এখন আমাদের সামনে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোই বড় চ্যালেঞ্জ।” অপর কৃষক আবদুল আজিজ বলেন, দীর্ঘদিন কৃষিকাজ করেও এমন ভয়াবহ ক্ষতির মুখোমুখি হননি তিনি।
শুধু ধানক্ষেত নয়, স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী এই ধোঁয়ার কারণে বসতবাড়ির আশপাশের গাছপালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলজ গাছের পাতা ঝরে পড়ছে এবং বাঁশঝাড় শুকিয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের দূষণ মাটির উর্বরতা কমিয়ে দিতে পারে, যা কৃষির জন্য বড় হুমকি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ইটভাটার মালিক রফিকুল ইসলাম মুকুল। তিনি দাবি করেন, তার ভাটার চিমনি প্রায় ১০০ ফুট উঁচু এবং গত এক সপ্তাহ ধরে সেখানে ইট পোড়ানো বন্ধ রয়েছে। তার মতে, তীব্র গরম হাওয়া বা প্রাকৃতিক কারণেই এই ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, “ইটভাটার ধোঁয়ায় ধান নষ্ট হওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়, এটি প্রকৃতির প্রভাব হতে পারে।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. রেজাউল করিম জানান, ইটভাটার ফায়ারিং চেম্বারে জমে থাকা গ্যাস একসাথে বের হলে আশপাশের পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি বলেন, এই গ্যাস নির্গমনের সময় সতর্কতা না নিলে ফসলের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। তাই ইটভাটার মালিকদের এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং পরিবেশগত নিয়ম মেনে চলতে হবে।
রাজিবপুর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েকুল হাসান খান জানান, এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের লিখিত অভিযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে কৃষকরা দ্রুত তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, ইটভাটার ধোঁয়ায় ধান নষ্ট হওয়া একটি গুরুতর বিষয় এবং এর সঠিক সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, কৃষিজমির পাশে ইটভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
আরোও পড়ুন – অসম্পূর্ণ বাঁধে ঝুঁকিতে কুটিবামনডাঙ্গা, দুধকুমার নদীর ভাঙনে আতঙ্ক