মো: ইলিয়াস চৌধুরী, কালিয়াকৈর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে সার্ভিস লেন দখল করে প্রতিদিন বসছে বিশাল অবৈধ হাটবাজার। আশ্চর্যের বিষয়, ট্রাফিক পুলিশ বক্স থেকে অতি অল্প দূরত্বে দিনের আলোয় শত শত দোকান নিয়ে এই বাজার পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যত নির্বিকার রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি বাড়ছে এবং জনমনে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।
শুধু পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা নয়, মহাসড়কের মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা ও খাড়া জোড়া এলাকাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এসব স্থানে নিয়মিতভাবে সার্ভিস লেন দখল করে বসানো হচ্ছে ভাসমান দোকান, যার কারণে পথচারীদের জন্য ফুটপাত ও বিকল্প চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়কে চলাচল করছে, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সার্ভিস লেন ও ফুটপাতজুড়ে কাপড়, জুতা, খেলনা, সবজি, রান্নার সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শত শত দোকান বসেছে। এছাড়া খাড়া জোড়া এলাকায় সার্ভিস লেন দখল করে অবৈধভাবে কার ওয়াশ পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে পুরো লেন জুড়ে কোনো খালি জায়গা নেই, পথচারীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নারী শ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই অবৈধ বাজারের কারণে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় জরুরি সেবার যানবাহন, এমনকি অ্যাম্বুলেন্সও আটকে পড়ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত যানজট স্থায়ী হয়, যার অন্যতম কারণ এই সার্ভিস লেন দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ হাটবাজার।কলেজছাত্র রাকিব হাসান বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকতে হয়, অথচ পুলিশ বক্সের সামনেই এমন অবস্থা কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী গার্মেন্টস শ্রমিক বলেন, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে মূল সড়কে হাঁটতে হয়। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রভাবশালী একটি চক্র ‘যুবনেতা’ পরিচয়ে এই অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতিদিন ৪০০-৫০০ দোকান থেকে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ অসাধু কিছু ব্যক্তির কাছে পৌঁছায়, যার কারণে উচ্ছেদ অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হয় না এবং পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হুসাইন বলেন, মহাসড়ক দখল করে বাজার বসানো সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি শওগাতুল আলম জানান, পূর্বেও অভিযান চালানো হয়েছে। পুনরায় দখলমুক্ত করতে শিগগিরই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত এই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।আরোও পড়ুন – গাজীপুরে ঝড়ো বৃষ্টি: সারারাত ভারি বর্ষণে স্বস্তি ফিরল জনজীবনে
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সার্ভিস লেন দখল করে রমরমা ব্যবসা
মো: ইলিয়াস চৌধুরী, কালিয়াকৈর প্রতিনিধিঃ
গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে সার্ভিস লেন দখল করে প্রতিদিন বসছে বিশাল অবৈধ হাটবাজার। আশ্চর্যের বিষয়, ট্রাফিক পুলিশ বক্স থেকে অতি অল্প দূরত্বে দিনের আলোয় শত শত দোকান নিয়ে এই বাজার পরিচালিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যত নির্বিকার রয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ফলে প্রতিনিয়ত ভোগান্তি বাড়ছে এবং জনমনে ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে।
শুধু পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা নয়, মহাসড়কের মৌচাক, সফিপুর, চন্দ্রা ও খাড়া জোড়া এলাকাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। এসব স্থানে নিয়মিতভাবে সার্ভিস লেন দখল করে বসানো হচ্ছে ভাসমান দোকান, যার কারণে পথচারীদের জন্য ফুটপাত ও বিকল্প চলাচলের পথ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। এতে সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়কে চলাচল করছে, যা দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, সার্ভিস লেন ও ফুটপাতজুড়ে কাপড়, জুতা, খেলনা, সবজি, রান্নার সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শত শত দোকান বসেছে। এছাড়া খাড়া জোড়া এলাকায় সার্ভিস লেন দখল করে অবৈধভাবে কার ওয়াশ পরিচালনা করা হচ্ছে। ফলে পুরো লেন জুড়ে কোনো খালি জায়গা নেই, পথচারীদের চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নারী শ্রমিক ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ছেন।স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলা এই অবৈধ বাজারের কারণে প্রতিদিন দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। অনেক সময় জরুরি সেবার যানবাহন, এমনকি অ্যাম্বুলেন্সও আটকে পড়ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিন গড়ে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত যানজট স্থায়ী হয়, যার অন্যতম কারণ এই সার্ভিস লেন দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ হাটবাজার।কলেজছাত্র রাকিব হাসান বলেন, প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে বসে থাকতে হয়, অথচ পুলিশ বক্সের সামনেই এমন অবস্থা কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী গার্মেন্টস শ্রমিক বলেন, ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে মূল সড়কে হাঁটতে হয়। এতে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিতে হচ্ছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রভাবশালী একটি চক্র ‘যুবনেতা’ পরিচয়ে এই অবৈধ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। প্রতিদিন ৪০০-৫০০ দোকান থেকে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ অসাধু কিছু ব্যক্তির কাছে পৌঁছায়, যার কারণে উচ্ছেদ অভিযান দীর্ঘস্থায়ী হয় না এবং পরিস্থিতির কোনো স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না।এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ.এইচ.এম. ফখরুল হুসাইন বলেন, মহাসড়ক দখল করে বাজার বসানো সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।নাওজোর হাইওয়ে থানার ওসি শওগাতুল আলম জানান, পূর্বেও অভিযান চালানো হয়েছে। পুনরায় দখলমুক্ত করতে শিগগিরই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।স্থানীয় বাসিন্দা ও শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত এই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হোক। অন্যথায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।আরোও পড়ুন – গাজীপুরে ঝড়ো বৃষ্টি: সারারাত ভারি বর্ষণে স্বস্তি ফিরল জনজীবনে