কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের দুর্গমচরের আশীর্বাদ আমবাড়ি ফ্রেন্ডশিপ বিদ্যালয়

মোঃ সাইফুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

বছরের অর্ধেক সময় বন্যা ও নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হয় কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষদের। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার এখানে এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। এমন বাস্তবতায় আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে আমবাড়ি বিদ্যালয়। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দারিদ্র্যের বাধা পেরিয়ে এই বিদ্যালয়টি শুধু পাঠদানই নয়, বরং প্রজন্মের স্বপ্ন গড়ার এক নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত আমবাড়ি গ্রামে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, আগে যেখানে স্কুলে যাওয়া মানেই ছিল দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া, এখন সেখানে আমবাড়ি বিদ্যালয় তাদের দোরগোড়ায় শিক্ষা পৌঁছে দিয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমেছে এবং অভিভাবকদের মধ্যেও সচেতনতা বেড়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বপ্নও এখন অনেক বড়। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশামনি জানায়, সে চিকিৎসক হয়ে নিজের এলাকার মানুষের সেবা করতে চায়। অন্য এক শিক্ষার্থী বলে, উচ্চশিক্ষা নিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত মানুষ হতে চায়। আরেকজন শিক্ষার্থী বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এসব স্বপ্নের পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে আমবাড়ি বিদ্যালয়, যা তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষার্থী হাসান আলী জানায়, তারা এখানে নিয়মিত খেলাধুলা করে যেমন,ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টন। এতে করে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ঘটছে এবং বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। শিক্ষকদের মতে, আমবাড়ি বিদ্যালয় শুধু বইয়ের শিক্ষা নয়, বরং জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা দিতেও সচেষ্ট।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইদুজ্জামান বলেন, এখানে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়। নিয়মিত সভা-সেমিনারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলা হচ্ছে। তিনি জানান, অনেক শিক্ষার্থী এখন উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছে, যা এই এলাকার জন্য একটি বড় পরিবর্তন।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান জানান, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তারা নিজের জমি দান করেছেন। তিনি বলেন, “চারপাশে কোনো স্কুল না থাকায় আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ছিল। তাই আমরা এগিয়ে এসে জমি দেই। এখন এই আমবাড়ি বিদ্যালয় আমাদের গ্রামের গর্ব।” তার ছেলে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে, যা এই উদ্যোগের সফলতার একটি উদাহরণ।

২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করা এই বিদ্যালয়টি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এ পর্যন্ত ১৪৬ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং ৩৮ জন এসএসসি পাশ করেছে। বর্তমানে প্রাথমিক শাখায় ১৫২ জন এবং মাধ্যমিক শাখায় ৩৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। স্থানীয়দের মতে, এই বিদ্যালয় চরাঞ্চলের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে ঘর নির্মাণ সহায়তা পেয়ে হাসি ফিরল ২ অসহায় পরিবার

কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের দুর্গমচরের আশীর্বাদ আমবাড়ি ফ্রেন্ডশিপ বিদ্যালয়

মে ৫, ২০২৬

মোঃ সাইফুর রহমান, স্টাফ রিপোর্টারঃ

বছরের অর্ধেক সময় বন্যা ও নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হয় কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত চরাঞ্চলের মানুষদের। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক অধিকার এখানে এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। এমন বাস্তবতায় আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে আমবাড়ি বিদ্যালয়। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দারিদ্র্যের বাধা পেরিয়ে এই বিদ্যালয়টি শুধু পাঠদানই নয়, বরং প্রজন্মের স্বপ্ন গড়ার এক নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।

রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত আমবাড়ি গ্রামে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের ভাষায়, আগে যেখানে স্কুলে যাওয়া মানেই ছিল দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া, এখন সেখানে আমবাড়ি বিদ্যালয় তাদের দোরগোড়ায় শিক্ষা পৌঁছে দিয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার কমেছে এবং অভিভাবকদের মধ্যেও সচেতনতা বেড়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বপ্নও এখন অনেক বড়। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশামনি জানায়, সে চিকিৎসক হয়ে নিজের এলাকার মানুষের সেবা করতে চায়। অন্য এক শিক্ষার্থী বলে, উচ্চশিক্ষা নিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত মানুষ হতে চায়। আরেকজন শিক্ষার্থী বিচারক হওয়ার স্বপ্ন দেখছে। এসব স্বপ্নের পেছনে অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে আমবাড়ি বিদ্যালয়, যা তাদের ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। শিক্ষার্থী হাসান আলী জানায়, তারা এখানে নিয়মিত খেলাধুলা করে যেমন,ক্রিকেট, ফুটবল, ভলিবল, কাবাডি ও ব্যাডমিন্টন। এতে করে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ঘটছে এবং বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। শিক্ষকদের মতে, আমবাড়ি বিদ্যালয় শুধু বইয়ের শিক্ষা নয়, বরং জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষা দিতেও সচেষ্ট।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইদুজ্জামান বলেন, এখানে শিক্ষার্থীদের নৈতিক শিক্ষা, বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়। নিয়মিত সভা-সেমিনারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সচেতন করে তোলা হচ্ছে। তিনি জানান, অনেক শিক্ষার্থী এখন উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছে, যা এই এলাকার জন্য একটি বড় পরিবর্তন।

স্থানীয় বাসিন্দা মাহবুবুর রহমান জানান, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য তারা নিজের জমি দান করেছেন। তিনি বলেন, “চারপাশে কোনো স্কুল না থাকায় আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত ছিল। তাই আমরা এগিয়ে এসে জমি দেই। এখন এই আমবাড়ি বিদ্যালয় আমাদের গ্রামের গর্ব।” তার ছেলে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে, যা এই উদ্যোগের সফলতার একটি উদাহরণ।

২০০৮ সালে যাত্রা শুরু করা এই বিদ্যালয়টি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এ পর্যন্ত ১৪৬ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেছে এবং ৩৮ জন এসএসসি পাশ করেছে। বর্তমানে প্রাথমিক শাখায় ১৫২ জন এবং মাধ্যমিক শাখায় ৩৬ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। স্থানীয়দের মতে, এই বিদ্যালয় চরাঞ্চলের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে ঘর নির্মাণ সহায়তা পেয়ে হাসি ফিরল ২ অসহায় পরিবার