ময়মনসিংহে জাল নোট চক্রের ২ নারী গ্রেফতার, উদ্ধার ৬০ হাজার টাকা

ময়মনসিংহ সদর প্রতিনিধি, নাদিমুল হকঃ

ময়মনসিংহে সক্রিয় জাল নোট চক্র এর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬০ হাজার টাকার জাল নোটসহ দুই নারী সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার (৭ মে) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন শম্ভুগঞ্জ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। ডিবি পুলিশের দাবি, আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বাজারে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল এই চক্রের। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া জাল নোটগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে তা সহজে শনাক্ত করা কঠিন ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাননীয় পুলিশ সুপার ময়মনসিংহের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এর দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি (উত্তর) ও ওসি (দক্ষিণ) এর নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, একটি সক্রিয় জাল নোট চক্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জাল টাকা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহসহ আশপাশের বাজারগুলোতে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এরপরই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে অভিযানে নামে ডিবি পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন পারুল বেগম (২৮) ও রুবি আক্তার (২৫)। পারুল বেগমের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার গলকুন্ডা এলাকায় এবং রুবি আক্তারের স্থায়ী ঠিকানা নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায়। তবে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভাসমানভাবে ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত দুই নারী জাল নোট চক্র এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করতেন এবং ঈদের আগে বড় অঙ্কের জাল টাকা বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। এ ঘটনায় রুবি আক্তারের বিরুদ্ধে পূর্বেও একই অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে অপরাধীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে জাল টাকা তৈরি করছে। এসব জাল নোট সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে গেলে ব্যবসায়ী, দোকানদার ও সাধারণ ক্রেতারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাই ঈদকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে ওঠা জাল নোট চক্র শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জাল নোটগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে এবং এর উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। ডিবি পুলিশের মতে, ঈদ মৌসুমে জাল টাকার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে নোট গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে বড় লেনদেনের সময় নোট যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

এদিকে ডিবি পুলিশের সফল এ অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সচেতন মহল মনে করছে, সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে পারে সাধারণ মানুষ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের এমন তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিকরা। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে গোয়েন্দা পুলিশের ভূমিকার প্রশংসাও করেছেন অনেকে।

আরোও পড়ুন – মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

ময়মনসিংহে জাল নোট চক্রের ২ নারী গ্রেফতার, উদ্ধার ৬০ হাজার টাকা

মে ৯, ২০২৬

ময়মনসিংহ সদর প্রতিনিধি, নাদিমুল হকঃ

ময়মনসিংহে সক্রিয় জাল নোট চক্র এর বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৬০ হাজার টাকার জাল নোটসহ দুই নারী সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার (৭ মে) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে কোতোয়ালী মডেল থানাধীন শম্ভুগঞ্জ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়। ডিবি পুলিশের দাবি, আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে বাজারে বিপুল পরিমাণ জাল টাকা ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল এই চক্রের। গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া জাল নোটগুলো অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি হওয়ায় সাধারণ মানুষের পক্ষে তা সহজে শনাক্ত করা কঠিন ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাননীয় পুলিশ সুপার ময়মনসিংহের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এর দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি (উত্তর) ও ওসি (দক্ষিণ) এর নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম এ অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, একটি সক্রিয় জাল নোট চক্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে জাল টাকা সংগ্রহ করে ময়মনসিংহসহ আশপাশের বাজারগুলোতে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এরপরই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে অভিযানে নামে ডিবি পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন পারুল বেগম (২৮) ও রুবি আক্তার (২৫)। পারুল বেগমের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার গলকুন্ডা এলাকায় এবং রুবি আক্তারের স্থায়ী ঠিকানা নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায়। তবে তারা দীর্ঘদিন ধরে ভাসমানভাবে ময়মনসিংহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত দুই নারী জাল নোট চক্র এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করতেন এবং ঈদের আগে বড় অঙ্কের জাল টাকা বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। এ ঘটনায় রুবি আক্তারের বিরুদ্ধে পূর্বেও একই অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ডিবি পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে অপরাধীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে জাল টাকা তৈরি করছে। এসব জাল নোট সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছে গেলে ব্যবসায়ী, দোকানদার ও সাধারণ ক্রেতারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন। তাই ঈদকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে ওঠা জাল নোট চক্র শনাক্তে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া জাল নোটগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে এবং এর উৎস খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। ডিবি পুলিশের মতে, ঈদ মৌসুমে জাল টাকার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে নোট গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে বড় লেনদেনের সময় নোট যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

এদিকে ডিবি পুলিশের সফল এ অভিযানে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সচেতন মহল মনে করছে, সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে পারে সাধারণ মানুষ। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের এমন তৎপরতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নাগরিকরা। একই সঙ্গে অপরাধ দমনে গোয়েন্দা পুলিশের ভূমিকার প্রশংসাও করেছেন অনেকে।

আরোও পড়ুন – মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জমি দখলের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন