ঈদুল আযহায় নাসিক পশুর হাটের দরপত্র আহ্বান, ২৩ স্থানে প্রস্তুতি

হামিদুর রহমান সবুজ, নারায়ণগঞ্জ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নগরজুড়ে কোরবানির পশুর বাজার ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে। এবার নগরীর তিনটি থানা এলাকার ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ২৩টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব হাটের ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করেছে কর্তৃপক্ষ। নগরবাসীর নিরাপদ কেনাবেচা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবার বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে ঈদ সামনে রেখে নগরজুড়ে “নাসিক পশুর হাট” নিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে।

নাসিক সূত্রে জানা গেছে, ইজারা কার্যক্রম দুই ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রথম ধাপে দরপত্র বিক্রি চলবে আগামী ১১ ও ১২ মে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। জমাদানের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ মে দুপুর ২টা পর্যন্ত এবং একই দিন বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে দরপত্র উন্মুক্ত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ১৮ ও ১৯ মে দরপত্র বিক্রি করা হবে। এরপর ২০ মে দুপুর ২টার মধ্যে দরপত্র জমা নেওয়া হবে এবং বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে তা খোলা হবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। সংশ্লিষ্টদের মতে, “নাসিক পশুর হাট” পরিচালনায় এবার অতীতের তুলনায় আরও আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সিটি কর্পোরেশনের তালিকা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পশুর হাটের মধ্যে রয়েছে ৩নং ওয়ার্ডের সানারপাড় লিথি গার্মেন্টস সংলগ্ন মাঠ, মৌচাক মাদানী নগর বালুর মাঠ এবং ৪নং ওয়ার্ডের টাইগার ওয়্যার রি-রোলিং মিলস মাঠ। এছাড়া ৫নং ওয়ার্ডের সাইলো রোড ও বটতলা বাদশা মিয়ার মাঠেও কোরবানির পশুর বাজার বসবে। ৭নং ওয়ার্ডের নাভানা সিটি খেলার মাঠ, ৮নং ওয়ার্ডের ইব্রাহিম টেক্সটাইল মিলস মাঠ এবং ৯নং ওয়ার্ডের জালকুড়ি দক্ষিণপাড়া, ওয়াপদা রোড ও উত্তরপাড়া এলাকার খালি জায়গাগুলোতেও পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের একাধিক টিম মাঠে কাজ করবে।

এদিকে ১০নং ওয়ার্ডের চিত্তরঞ্জন খেলার মাঠ, ১৮নং ওয়ার্ডের ডিয়ারা লুহিয়ার মাঠ এবং ১৯নং ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা ব্রিজের নিচ ও পাওয়ার হাউজ সংলগ্ন এলাকাকেও গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০নং ওয়ার্ডের সোনাকান্দা ও ফরাজীকান্দা, ২২নং ওয়ার্ডের জহির কাজীর জায়গা এবং ২৩নং ওয়ার্ডের কদমরসুল ডিগ্রি কলেজের পশ্চিম পাশের খালি জায়গায়ও হাট বসবে। ২৪নং ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ খেয়াঘাট ও ২৫নং ওয়ার্ডের লক্ষণখোলা এলাকাতেও ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছরের মতো এবারও “নাসিক পশুর হাট” ঘিরে ব্যাপক অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি হবে, যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খামারিদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

নাসিকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পশুর হাটগুলোতে যাতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, অব্যবস্থাপনা বা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি না হয় সেজন্য বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। প্রতিটি হাটে পর্যাপ্ত বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, অস্থায়ী শৌচাগার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। কোরবানির পশু পরিবহন ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে বিকল্প সড়ক ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে। ফলে এবার “নাসিক পশুর হাট” ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন নগরবাসী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ ইজারা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পশুর হাট পরিচালিত হলে নগরবাসী যেমন স্বস্তিতে কেনাবেচা করতে পারবেন, তেমনি সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন খামারি ও ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য হাটগুলো পরিদর্শন শুরু করেছেন। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে কোরবানির পশুর বাজার কেন্দ্রিক প্রস্তুতি। সব মিলিয়ে এবার ঈদুল আযহাকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতে শুরু করেছে।

আরোও পড়ুন – আংশিক নয়, পুরো কুতুবপুরই সিটি করপোরেশনের আওতায় চান বাসিন্দারা

ঈদুল আযহায় নাসিক পশুর হাটের দরপত্র আহ্বান, ২৩ স্থানে প্রস্তুতি

মে ৯, ২০২৬

হামিদুর রহমান সবুজ, নারায়ণগঞ্জ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নগরজুড়ে কোরবানির পশুর বাজার ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে। এবার নগরীর তিনটি থানা এলাকার ২৭টি ওয়ার্ডে মোট ২৩টি অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব হাটের ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করেছে কর্তৃপক্ষ। নগরবাসীর নিরাপদ কেনাবেচা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবার বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ফলে ঈদ সামনে রেখে নগরজুড়ে “নাসিক পশুর হাট” নিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়তে শুরু করেছে।

নাসিক সূত্রে জানা গেছে, ইজারা কার্যক্রম দুই ধাপে সম্পন্ন করা হবে। প্রথম ধাপে দরপত্র বিক্রি চলবে আগামী ১১ ও ১২ মে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। জমাদানের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ মে দুপুর ২টা পর্যন্ত এবং একই দিন বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে দরপত্র উন্মুক্ত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে ১৮ ও ১৯ মে দরপত্র বিক্রি করা হবে। এরপর ২০ মে দুপুর ২টার মধ্যে দরপত্র জমা নেওয়া হবে এবং বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে তা খোলা হবে। স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পুরো প্রক্রিয়ায় কঠোর নজরদারি থাকবে বলে জানিয়েছে সিটি কর্পোরেশন। সংশ্লিষ্টদের মতে, “নাসিক পশুর হাট” পরিচালনায় এবার অতীতের তুলনায় আরও আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সিটি কর্পোরেশনের তালিকা অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পশুর হাটের মধ্যে রয়েছে ৩নং ওয়ার্ডের সানারপাড় লিথি গার্মেন্টস সংলগ্ন মাঠ, মৌচাক মাদানী নগর বালুর মাঠ এবং ৪নং ওয়ার্ডের টাইগার ওয়্যার রি-রোলিং মিলস মাঠ। এছাড়া ৫নং ওয়ার্ডের সাইলো রোড ও বটতলা বাদশা মিয়ার মাঠেও কোরবানির পশুর বাজার বসবে। ৭নং ওয়ার্ডের নাভানা সিটি খেলার মাঠ, ৮নং ওয়ার্ডের ইব্রাহিম টেক্সটাইল মিলস মাঠ এবং ৯নং ওয়ার্ডের জালকুড়ি দক্ষিণপাড়া, ওয়াপদা রোড ও উত্তরপাড়া এলাকার খালি জায়গাগুলোতেও পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের একাধিক টিম মাঠে কাজ করবে।

এদিকে ১০নং ওয়ার্ডের চিত্তরঞ্জন খেলার মাঠ, ১৮নং ওয়ার্ডের ডিয়ারা লুহিয়ার মাঠ এবং ১৯নং ওয়ার্ডের শীতলক্ষ্যা ব্রিজের নিচ ও পাওয়ার হাউজ সংলগ্ন এলাকাকেও গুরুত্বপূর্ণ পশুর হাট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০নং ওয়ার্ডের সোনাকান্দা ও ফরাজীকান্দা, ২২নং ওয়ার্ডের জহির কাজীর জায়গা এবং ২৩নং ওয়ার্ডের কদমরসুল ডিগ্রি কলেজের পশ্চিম পাশের খালি জায়গায়ও হাট বসবে। ২৪নং ওয়ার্ডের নবীগঞ্জ খেয়াঘাট ও ২৫নং ওয়ার্ডের লক্ষণখোলা এলাকাতেও ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবছরের মতো এবারও “নাসিক পশুর হাট” ঘিরে ব্যাপক অর্থনৈতিক কার্যক্রম সৃষ্টি হবে, যা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও খামারিদের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

নাসিকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পশুর হাটগুলোতে যাতে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, অব্যবস্থাপনা বা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি না হয় সেজন্য বিশেষ মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। প্রতিটি হাটে পর্যাপ্ত বর্জ্য অপসারণ ব্যবস্থা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, অস্থায়ী শৌচাগার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। কোরবানির পশু পরিবহন ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে বিকল্প সড়ক ব্যবস্থাও রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে। ফলে এবার “নাসিক পশুর হাট” ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে মনে করছেন নগরবাসী।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও স্বচ্ছ ইজারা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পশুর হাট পরিচালিত হলে নগরবাসী যেমন স্বস্তিতে কেনাবেচা করতে পারবেন, তেমনি সিটি কর্পোরেশনের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন খামারি ও ব্যবসায়ীরা সম্ভাব্য হাটগুলো পরিদর্শন শুরু করেছেন। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে, ততই জমে উঠছে কোরবানির পশুর বাজার কেন্দ্রিক প্রস্তুতি। সব মিলিয়ে এবার ঈদুল আযহাকে ঘিরে নারায়ণগঞ্জে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হতে শুরু করেছে।

আরোও পড়ুন – আংশিক নয়, পুরো কুতুবপুরই সিটি করপোরেশনের আওতায় চান বাসিন্দারা