হারুনুর রশিদ, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর সাপাহারে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে জেন্ডার ইকুয়ালিটি ট্রান্সফর্মস ক্লাইমেট অ্যাকশন (গেটকা) প্রকল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে বরেন্দ্রভূমি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (বিএসডিও)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বাড়াতে “গেটকা সভা” বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খরা, অতিবৃষ্টি, নদীভাঙন ও কৃষি ক্ষতির মতো নানা দুর্যোগ বেড়ে যাচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, নারীদের দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে পারলে সমাজ আরও শক্তিশালী হবে। বক্তারা মনে করেন, “গেটকা সভা” স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি ও ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মতবিনিময় সভায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি, স্বাস্থ্য ও জীবিকায় যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির সংকট, ফসল উৎপাদন কমে যাওয়া এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমানের অবনতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সভায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি জোরদার, সচেতনতামূলক প্রচারণা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যক্রম আরও বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। এ ধরনের “গেটকা সভা” নিয়মিত আয়োজনেরও দাবি জানান উপস্থিতরা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গেটকা প্রকল্পের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর লরেন্স বারুয়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান টকি, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশিষ কুমার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ওহেদুজ্জামান প্রামানিক, গোয়ালা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান, লোকমর্চা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক কামরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সোহেল চৌধুরী রানা এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যরা। বক্তারা বলেন, স্থানীয় জনগণকে দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতন করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নারী ও তরুণদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় শক্তিশালী সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন সংস্থা এবং জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব নয়। সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার, আগাম সতর্কবার্তা প্রচার এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব বলেও মত দেন তারা। “গেটকা সভা” এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
আরোও পড়ুন – সাপাহারে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ জনের কারাদণ্ড
সাপাহারে গেটকা প্রকল্পের মতবিনিময় সভা, দুর্যোগ প্রস্তুতিতে জোর
হারুনুর রশিদ, সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধিঃ
নওগাঁর সাপাহারে জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে জেন্ডার ইকুয়ালিটি ট্রান্সফর্মস ক্লাইমেট অ্যাকশন (গেটকা) প্রকল্পের এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে বরেন্দ্রভূমি সমাজ উন্নয়ন সংস্থা (বিএসডিও)-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণের সক্ষমতা বাড়াতে “গেটকা সভা” বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খরা, অতিবৃষ্টি, নদীভাঙন ও কৃষি ক্ষতির মতো নানা দুর্যোগ বেড়ে যাচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, নারীদের দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে পারলে সমাজ আরও শক্তিশালী হবে। বক্তারা মনে করেন, “গেটকা সভা” স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি ও ঝুঁকি হ্রাস কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মতবিনিময় সভায় জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষি, স্বাস্থ্য ও জীবিকায় যে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে খরাপ্রবণ বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির সংকট, ফসল উৎপাদন কমে যাওয়া এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমানের অবনতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সভায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, স্থানীয় পর্যায়ে দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতি জোরদার, সচেতনতামূলক প্রচারণা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত কার্যক্রম আরও বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। এ ধরনের “গেটকা সভা” নিয়মিত আয়োজনেরও দাবি জানান উপস্থিতরা।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গেটকা প্রকল্পের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর লরেন্স বারুয়া। এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান টকি, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশিষ কুমার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাঈদুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ওহেদুজ্জামান প্রামানিক, গোয়ালা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান, লোকমর্চা কমিটির সভাপতি সাংবাদিক কামরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সোহেল চৌধুরী রানা এবং কমিটির অন্যান্য সদস্যরা। বক্তারা বলেন, স্থানীয় জনগণকে দুর্যোগ সম্পর্কে সচেতন করতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে প্রশিক্ষণ ও বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে। পাশাপাশি নারী ও তরুণদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে দুর্যোগ মোকাবিলায় শক্তিশালী সামাজিক কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, জলবায়ু সহনশীল সমাজ গঠনে স্থানীয় প্রশাসন, উন্নয়ন সংস্থা এবং জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন সম্ভব নয়। সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির ব্যবহার, আগাম সতর্কবার্তা প্রচার এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়েও আলোচনা হয়। বক্তারা বলেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে। সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব বলেও মত দেন তারা। “গেটকা সভা” এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
আরোও পড়ুন – সাপাহারে মাদকবিরোধী অভিযানে ৪ জনের কারাদণ্ড