মো:রোকন মিয়া (বিশেষ) প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় কৃষির আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে “পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬”। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম হলে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কৃষকদের মাঝে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত শতাধিক কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রামের উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থার বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনা চালুর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আর্থিকভাবে লাভবান করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ সরবরাহ এবং প্রযুক্তিভিত্তিক চাষাবাদের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সহকারী কর্মকর্তা আফরোজা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষিবিদ অশোক কুমার রায় এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন। বক্তারা জানান, সরকারের কৃষি ভর্তুকি কার্যক্রম, আধুনিক কৃষিযন্ত্র সরবরাহ এবং মাঠ পর্যায়ের কৃষি সহায়তা কার্যক্রম ইতোমধ্যে কৃষকদের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ধান, গম, ভুট্টা ও রবি শস্য উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। তারা বলেন, কৃষকদের মধ্যে স্মার্ট কৃষি ধারণা ছড়িয়ে দিতে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, কৃষকরাই দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এবং কৃষি উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। উলিপুরে কৃষিকে আরও লাভজনক ও টেকসই করতে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ কৃষকদের সময় ও খরচ কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনও বাড়াচ্ছে। ফলে কৃষকদের মাঝে স্মার্ট কৃষি বিষয়ে আগ্রহ বাড়ছে এবং নতুন প্রজন্মও কৃষিখাতে যুক্ত হতে উৎসাহিত হচ্ছে।
দিনব্যাপী এ কংগ্রেসে স্মার্ট কৃষি, প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৃষি ব্যবস্থা, উচ্চফলনশীল ধান ও রবি শস্যের জাত সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনে ড্রোন প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় সেচ ব্যবস্থা এবং মোবাইলভিত্তিক কৃষি তথ্যসেবা ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
কংগ্রেসে অংশ নেওয়া কৃষকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়। তারা মাঠ পর্যায়ে আধুনিক কৃষি পদ্ধতির ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। অনেক কৃষক জানান, আগের তুলনায় এখন উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক কৃষিযন্ত্র এবং সরকারি সহায়তা সহজে পাওয়া যাচ্ছে। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। কৃষকদের মতে, স্মার্ট কৃষি কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হলে দেশের কৃষি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে সফল কৃষকদের মাঝে সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকরা জানান, কৃষকদের উৎসাহিত করতে এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় কৃষক ও জনপ্রতিনিধিরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রাম সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির কড়া নজরদারি
উলিপুরে পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬: স্মার্ট কৃষিতে টেকসই উন্নয়নের বার্তা
মো:রোকন মিয়া (বিশেষ) প্রতিনিধি কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় কৃষির আধুনিকায়ন, প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে “পার্টনার কংগ্রেস ২০২৬”। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম হলে দিনব্যাপী এ কর্মসূচির আয়োজন করে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কৃষকদের মাঝে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এ আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত শতাধিক কৃষক, জনপ্রতিনিধি ও কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কুড়িগ্রামের উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থার বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজিটাল কৃষি ব্যবস্থাপনা চালুর মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আর্থিকভাবে লাভবান করা সম্ভব। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, উন্নত বীজ সরবরাহ এবং প্রযুক্তিভিত্তিক চাষাবাদের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে। একইসঙ্গে কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি সহকারী কর্মকর্তা আফরোজা বেগমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষিবিদ অশোক কুমার রায় এবং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোশারফ হোসেন। বক্তারা জানান, সরকারের কৃষি ভর্তুকি কার্যক্রম, আধুনিক কৃষিযন্ত্র সরবরাহ এবং মাঠ পর্যায়ের কৃষি সহায়তা কার্যক্রম ইতোমধ্যে কৃষকদের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে ধান, গম, ভুট্টা ও রবি শস্য উৎপাদনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। তারা বলেন, কৃষকদের মধ্যে স্মার্ট কৃষি ধারণা ছড়িয়ে দিতে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এস এম মেহেদী হাসান। তিনি বলেন, কৃষকরাই দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এবং কৃষি উন্নয়ন ছাড়া জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়। উলিপুরে কৃষিকে আরও লাভজনক ও টেকসই করতে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ কৃষকদের সময় ও খরচ কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনও বাড়াচ্ছে। ফলে কৃষকদের মাঝে স্মার্ট কৃষি বিষয়ে আগ্রহ বাড়ছে এবং নতুন প্রজন্মও কৃষিখাতে যুক্ত হতে উৎসাহিত হচ্ছে।
দিনব্যাপী এ কংগ্রেসে স্মার্ট কৃষি, প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কৃষি ব্যবস্থা, উচ্চফলনশীল ধান ও রবি শস্যের জাত সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের দক্ষতা উন্নয়ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনে ড্রোন প্রযুক্তি, স্বয়ংক্রিয় সেচ ব্যবস্থা এবং মোবাইলভিত্তিক কৃষি তথ্যসেবা ব্যবহারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে।
কংগ্রেসে অংশ নেওয়া কৃষকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার সুযোগ করে দেয়। তারা মাঠ পর্যায়ে আধুনিক কৃষি পদ্ধতির ব্যবহার সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছেন। অনেক কৃষক জানান, আগের তুলনায় এখন উন্নত জাতের বীজ, আধুনিক কৃষিযন্ত্র এবং সরকারি সহায়তা সহজে পাওয়া যাচ্ছে। এতে উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। কৃষকদের মতে, স্মার্ট কৃষি কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হলে দেশের কৃষি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে সফল কৃষকদের মাঝে সম্মাননা প্রদান করা হয়। আয়োজকরা জানান, কৃষকদের উৎসাহিত করতে এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় কৃষক ও জনপ্রতিনিধিরা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী হিসেবে উল্লেখ করে সরকারের কৃষি উন্নয়ন কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।
আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রাম সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির কড়া নজরদারি