মির্জাগঞ্জে ডাকাত বাবু গ্রেফতার: ১১ মামলার আসামিকে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক

মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার | পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে রুহুল আমিন বাবু (৩৮) নামে এক চিহ্নিত ও পেশাদার ডাকাত দলের সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে উপজেলার শ্রীনগর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস, চুরি, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল এই ব্যক্তি। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘ডাকাত বাবু’ নামেই পরিচিত ছিলেন। ডাকাত বাবু গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।

গ্রেফতারকৃত রুহুল আমিন বাবু উপজেলার ১নং ওয়ার্ডের শ্রীনগর এলাকার খালেক হাওলাদার ওরফে লম্বা খালেকের ছেলে। থানা পুলিশ জানিয়েছে, তিনি একজন তালিকাভুক্ত চিহ্নিত অপরাধী এবং সক্রিয় ডাকাত দলের সদস্য। তার বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় মোট ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১টি হত্যা মামলা, ১টি দস্যুতা মামলা, ১টি ডাকাতি মামলা, ১টি মাদক মামলা এবং ৭টি চুরির মামলা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ডাকাত বাবু গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মির্জাগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ নজরদারি শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতভর টহল ও গোপন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার গভীর রাতে শ্রীনগর বাজার এলাকায় সন্দেহভাজন কয়েকজনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে রুহুল আমিন বাবুকে আটক করা হয়। এ সময় তার সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও তাদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। স্থানীয়দের ভাষ্য, ডাকাত বাবু গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় অপরাধ প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে বলে তারা আশা করছেন।

মির্জাগঞ্জ থানা প্রশাসন জানিয়েছে, উপজেলাকে অপরাধমুক্ত রাখতে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চিহ্নিত ডাকাত, সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, যারা এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ। ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাত বাবু গ্রেফতার হওয়া সাম্প্রতিক সময়ের বড় সফলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, শ্রীনগর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তাদের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিন ধরে রুহুল আমিন বাবু ও তার সহযোগীদের কারণে বাজার এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছিল। অনেক ব্যবসায়ী রাতের বেলা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। কেউ কেউ চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন। স্থানীয়দের মতে, পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা আরও বাড়বে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, গ্রেফতার হওয়া অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ফলে ভবিষ্যতে অপরাধীরা এমন কর্মকাণ্ডে জড়াতে ভয় পাবে।

আরোও পড়ুন – নরসিংদির পলাশে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামী গ্রেপ্তার

মির্জাগঞ্জে ডাকাত বাবু গ্রেফতার: ১১ মামলার আসামিকে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক

মে ১৬, ২০২৬

মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার | পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে রুহুল আমিন বাবু (৩৮) নামে এক চিহ্নিত ও পেশাদার ডাকাত দলের সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে উপজেলার শ্রীনগর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পুলিশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাস, চুরি, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল এই ব্যক্তি। স্থানীয়দের কাছে তিনি ‘ডাকাত বাবু’ নামেই পরিচিত ছিলেন। ডাকাত বাবু গ্রেফতার হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।

গ্রেফতারকৃত রুহুল আমিন বাবু উপজেলার ১নং ওয়ার্ডের শ্রীনগর এলাকার খালেক হাওলাদার ওরফে লম্বা খালেকের ছেলে। থানা পুলিশ জানিয়েছে, তিনি একজন তালিকাভুক্ত চিহ্নিত অপরাধী এবং সক্রিয় ডাকাত দলের সদস্য। তার বিরুদ্ধে মির্জাগঞ্জ থানাসহ বিভিন্ন থানায় মোট ১১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১টি হত্যা মামলা, ১টি দস্যুতা মামলা, ১টি ডাকাতি মামলা, ১টি মাদক মামলা এবং ৭টি চুরির মামলা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ডাকাত বাবু গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মির্জাগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বিশেষ নজরদারি শুরু করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে বাজারকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতভর টহল ও গোপন অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। এরই অংশ হিসেবে শুক্রবার গভীর রাতে শ্রীনগর বাজার এলাকায় সন্দেহভাজন কয়েকজনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের একপর্যায়ে রুহুল আমিন বাবুকে আটক করা হয়। এ সময় তার সহযোগীরা পালিয়ে গেলেও তাদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ। স্থানীয়দের ভাষ্য, ডাকাত বাবু গ্রেফতার হওয়ায় এলাকায় অপরাধ প্রবণতা অনেকটাই কমে আসবে বলে তারা আশা করছেন।

মির্জাগঞ্জ থানা প্রশাসন জানিয়েছে, উপজেলাকে অপরাধমুক্ত রাখতে নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চিহ্নিত ডাকাত, সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, যারা এলাকায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে পুলিশ। ইতোমধ্যে গ্রেফতারকৃত আসামিকে শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাত বাবু গ্রেফতার হওয়া সাম্প্রতিক সময়ের বড় সফলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, শ্রীনগর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তাদের অভিযোগ ছিল, দীর্ঘদিন ধরে রুহুল আমিন বাবু ও তার সহযোগীদের কারণে বাজার এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছিল। অনেক ব্যবসায়ী রাতের বেলা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন। কেউ কেউ চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন। স্থানীয়দের মতে, পুলিশের ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকলে এলাকায় স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা আরও বাড়বে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, গ্রেফতার হওয়া অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ফলে ভবিষ্যতে অপরাধীরা এমন কর্মকাণ্ডে জড়াতে ভয় পাবে।

আরোও পড়ুন – নরসিংদির পলাশে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামী গ্রেপ্তার