কলাপাড়ায় জেলেদের চাল উদ্ধার: মধ্যরাতে ইউএনও’র অভিযানে ২৬ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার, (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মধ্যরাতে উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ অভিযানে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ২৬ বস্তা চাল উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল গোপনে মজুত করে কালোবাজারে বিক্রির পরিকল্পনা করছিল। “জেলেদের চাল উদ্ধার” অভিযানের মাধ্যমে সেই চক্রের একটি বড় অংশের তথ্য সামনে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব চাল উদ্ধার করা হয়। একই সাথে চাল পরিবহন ও পাচারের কাজে ব্যবহৃত আরও ২৪টি খালি বস্তাও জব্দ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামের ইতালি বাড়ির বাসিন্দা ইমরান হোসেনের বাড়িতে সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল অবৈধভাবে মজুত রাখা হয়েছে এমন গোপন সংবাদ পায় প্রশাসন। পরে তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব কাউছার হামিদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গভীর রাতে ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনার সাথে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে সরকারি বস্তাভর্তি চাল উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া চালগুলো মূলত মা ইলিশ সংরক্ষণ ও প্রজনন মৌসুমে কর্মহীন জেলেদের সহায়তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রকৃত জেলেদের কাছ থেকে কম দামে চাল কিনে অথবা বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি চাল সংগ্রহ করে মজুত করছিল। “জেলেদের চাল উদ্ধার” ঘটনায় নতুন করে সরকারি খাদ্য সহায়তা বিতরণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় জেলেরা বলছেন, অনেক প্রকৃত কার্ডধারী সময়মতো চাল পান না, অথচ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সেই চাল কালোবাজারে বিক্রির সুযোগ তৈরি করছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব কাউছার হামিদ বলেন, “সরকার গরিব ও অসহায় জেলেদের সহায়তার জন্য এই চাল বরাদ্দ দিয়েছে। কেউ যদি জেলেদের অধিকার নষ্ট করে সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুত বা বিক্রি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা চাল সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। খুব দ্রুত নিয়মিত মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।

এদিকে “জেলেদের চাল উদ্ধার” অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাল পাচার ও মজুত নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও এবার প্রশাসনের সরাসরি অভিযানে বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে। প্রকৃত জেলেরা প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের দাবি, নিয়মিত নজরদারি থাকলে অসাধু চক্র আর সরকারি খাদ্য সহায়তা নিয়ে অনিয়ম করার সুযোগ পাবে না। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান চালু থাকলে সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছানো আরও নিশ্চিত হবে।

আরোও পড়ুন – পটুয়াখালীতে মানবিক জেলা প্রশাসক, তিন পরিবার পেল ঘর নির্মাণ সহায়তা

কলাপাড়ায় জেলেদের চাল উদ্ধার: মধ্যরাতে ইউএনও’র অভিযানে ২৬ বস্তা সরকারি চাল জব্দ

মে ১৬, ২০২৬

মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার, (পটুয়াখালী)

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মধ্যরাতে উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ অভিযানে জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ২৬ বস্তা চাল উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি অসাধু চক্র সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল গোপনে মজুত করে কালোবাজারে বিক্রির পরিকল্পনা করছিল। “জেলেদের চাল উদ্ধার” অভিযানের মাধ্যমে সেই চক্রের একটি বড় অংশের তথ্য সামনে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার (১৫ মে, ২০২৬) দিবাগত রাত ১২টার দিকে উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এসব চাল উদ্ধার করা হয়। একই সাথে চাল পরিবহন ও পাচারের কাজে ব্যবহৃত আরও ২৪টি খালি বস্তাও জব্দ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের আমিরাবাদ গ্রামের ইতালি বাড়ির বাসিন্দা ইমরান হোসেনের বাড়িতে সরকারি খাদ্য সহায়তার চাল অবৈধভাবে মজুত রাখা হয়েছে এমন গোপন সংবাদ পায় প্রশাসন। পরে তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব কাউছার হামিদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গভীর রাতে ওই বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনার সাথে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে পালিয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। তবে ঘরের ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে সরকারি বস্তাভর্তি চাল উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে উদ্ধার হওয়া চালগুলো মূলত মা ইলিশ সংরক্ষণ ও প্রজনন মৌসুমে কর্মহীন জেলেদের সহায়তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রকৃত জেলেদের কাছ থেকে কম দামে চাল কিনে অথবা বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি চাল সংগ্রহ করে মজুত করছিল। “জেলেদের চাল উদ্ধার” ঘটনায় নতুন করে সরকারি খাদ্য সহায়তা বিতরণ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় জেলেরা বলছেন, অনেক প্রকৃত কার্ডধারী সময়মতো চাল পান না, অথচ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সেই চাল কালোবাজারে বিক্রির সুযোগ তৈরি করছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব কাউছার হামিদ বলেন, “সরকার গরিব ও অসহায় জেলেদের সহায়তার জন্য এই চাল বরাদ্দ দিয়েছে। কেউ যদি জেলেদের অধিকার নষ্ট করে সরকারি চাল অবৈধভাবে মজুত বা বিক্রি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আরও জানান, উদ্ধার করা চাল সরকারি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। খুব দ্রুত নিয়মিত মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ।

এদিকে “জেলেদের চাল উদ্ধার” অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাল পাচার ও মজুত নিয়ে নানা অভিযোগ থাকলেও এবার প্রশাসনের সরাসরি অভিযানে বাস্তব চিত্র সামনে এসেছে। প্রকৃত জেলেরা প্রশাসনের এমন পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের দাবি, নিয়মিত নজরদারি থাকলে অসাধু চক্র আর সরকারি খাদ্য সহায়তা নিয়ে অনিয়ম করার সুযোগ পাবে না। অনেকেই মনে করছেন, প্রশাসনের ধারাবাহিক অভিযান চালু থাকলে সরকারি সহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছানো আরও নিশ্চিত হবে।

আরোও পড়ুন – পটুয়াখালীতে মানবিক জেলা প্রশাসক, তিন পরিবার পেল ঘর নির্মাণ সহায়তা