হাবিপ্রবি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু | ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স সম্মেলনে ৩০০ গবেষক

সারোয়ার আলম রিজন, হাবিপ্রবি, দিনাজপুরঃ

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন হাবিপ্রবি কনফারেন্স। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর কমপিউটেশনাল ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স (বিএসিএমএস) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত “৩য় ইন্টারন্যাশনাল ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড কম্পিউটেশন (আইসিএমএসসি-২৬)” শীর্ষক এই সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৩০০ গবেষক, শিক্ষক, শিল্প বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম-২ এ আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এই গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক আয়োজন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা। গেস্ট অব অনার হিসেবে যোগ দেন জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব দুসেলদর্ফের প্রফেসর ড. ক্রিস্টোফ জানিয়াক। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. মমিনুল ইসলাম, কনফারেন্স সেক্রেটারি প্রফেসর ড. নাজিম উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া। পুরো আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন কো-কনভেনর প্রফেসর ড. বলরাম রায়।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন যেমন হাবিপ্রবি কনফারেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমকে গতিশীল করে, তেমনি দেশি-বিদেশি গবেষকদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময় ও সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করে। বিশেষ অতিথিরা শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তারা মনে করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষণার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার জন্য এমন প্ল্যাটফর্ম অপরিহার্য।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, বর্তমান বিশ্বে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানসম্মত গবেষণার বিকল্প নেই এবং কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স, গণিত ও বায়োলজিক্যাল সায়েন্স একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তিনি উল্লেখ করেন, কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রির অবদানের জন্য ইতোমধ্যে নোবেল পুরস্কার অর্জিত হয়েছে, যা এই ক্ষেত্রটির আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় গবেষণার গতি বাড়াতে এবং নতুন উপকরণ উদ্ভাবনে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মত দেন।

এই হাবিপ্রবি কনফারেন্স এর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “গ্রিন কেমিস্ট্রি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ইনোভেশন: ফ্রম মলিকুলার ডিজাইন টু ক্লিন টেকনোলজি”। সম্মেলনের লক্ষ্য হলো শিক্ষক, গবেষক, শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে গ্রিন কেমিস্ট্রি, রিনিউএবল এনার্জি, অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনী ধারণা বিনিময় করা যায়।

দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কী-নোট লেকচার, প্লেনারি টক, টেকনিক্যাল সেশন, পোস্টার উপস্থাপনা এবং প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা জানান, এই হাবিপ্রবি কনফারেন্স দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সহযোগিতা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরোও পড়ুন – মাভাবিপ্রবির শিক্ষক দম্পতি একই সঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন: অসাধারণ সাফল্যের গল্প

হাবিপ্রবি আন্তর্জাতিক কনফারেন্স শুরু | ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স সম্মেলনে ৩০০ গবেষক

এপ্রিল ৫, ২০২৬

সারোয়ার আলম রিজন, হাবিপ্রবি, দিনাজপুরঃ

হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন হাবিপ্রবি কনফারেন্স। বাংলাদেশ এসোসিয়েশন ফর কমপিউটেশনাল ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স (বিএসিএমএস) এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত “৩য় ইন্টারন্যাশনাল ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড কম্পিউটেশন (আইসিএমএসসি-২৬)” শীর্ষক এই সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় ৩০০ গবেষক, শিক্ষক, শিল্প বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। রবিবার (৫ এপ্রিল) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম-২ এ আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় এই গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক আয়োজন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. এনামউল্যা। গেস্ট অব অনার হিসেবে যোগ দেন জার্মানির ইউনিভার্সিটি অব দুসেলদর্ফের প্রফেসর ড. ক্রিস্টোফ জানিয়াক। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম সিকদার এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. এম. জাহাঙ্গীর কবির। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. মমিনুল ইসলাম, কনফারেন্স সেক্রেটারি প্রফেসর ড. নাজিম উদ্দিন এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া। পুরো আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন কো-কনভেনর প্রফেসর ড. বলরাম রায়।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, এই ধরনের আন্তর্জাতিক আয়োজন যেমন হাবিপ্রবি কনফারেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমকে গতিশীল করে, তেমনি দেশি-বিদেশি গবেষকদের মধ্যে জ্ঞান বিনিময় ও সহযোগিতার নতুন দ্বার উন্মোচন করে। বিশেষ অতিথিরা শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করে তুলতে এ ধরনের সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তারা মনে করেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষণার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার জন্য এমন প্ল্যাটফর্ম অপরিহার্য।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, বর্তমান বিশ্বে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মানসম্মত গবেষণার বিকল্প নেই এবং কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রি, ফিজিক্স, গণিত ও বায়োলজিক্যাল সায়েন্স একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তিনি উল্লেখ করেন, কম্পিউটেশনাল কেমিস্ট্রির অবদানের জন্য ইতোমধ্যে নোবেল পুরস্কার অর্জিত হয়েছে, যা এই ক্ষেত্রটির আন্তর্জাতিক গুরুত্বকে আরও সুদৃঢ় করেছে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় গবেষণার গতি বাড়াতে এবং নতুন উপকরণ উদ্ভাবনে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মত দেন।

এই হাবিপ্রবি কনফারেন্স এর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “গ্রিন কেমিস্ট্রি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ইনোভেশন: ফ্রম মলিকুলার ডিজাইন টু ক্লিন টেকনোলজি”। সম্মেলনের লক্ষ্য হলো শিক্ষক, গবেষক, শিল্পখাত সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও নীতিনির্ধারকদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে গ্রিন কেমিস্ট্রি, রিনিউএবল এনার্জি, অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনী ধারণা বিনিময় করা যায়।

দুই দিনব্যাপী এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে কী-নোট লেকচার, প্লেনারি টক, টেকনিক্যাল সেশন, পোস্টার উপস্থাপনা এবং প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। আয়োজকরা জানান, এই হাবিপ্রবি কনফারেন্স দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সহযোগিতা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরোও পড়ুন – মাভাবিপ্রবির শিক্ষক দম্পতি একই সঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন: অসাধারণ সাফল্যের গল্প