সাংগ্রাই পোয়ে উৎসব শুরু বান্দরবানে | মারমা সম্প্রদায়ের মৈত্রী বর্ষণ ২০২৬

মোঃ মোস্তফা কামাল জয়

বান্দরবানে শুরু হতে যাচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব ‘সাংগ্রাই পোয়ে’, যা পাহাড়ি জনপদের মানুষের জন্য নতুন বছরের আনন্দ ও সম্প্রীতির প্রতীক। সবুজ পাহাড়, নদী ও প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্যের মাঝে এই উৎসবকে ঘিরে এখন পুরো অঞ্চল উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের কাছে এই সাংগ্রাই পোয়ে শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং পুরোনো বছরের দুঃখ-কষ্ট ধুয়ে নতুন জীবনের সূচনা করার এক অনন্য আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়।

পাহাড়ি জনপদে সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবকে ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক তৈরি, বিভিন্ন রকম পাহাড়ি খাবার রান্না এবং সাংস্কৃতিক অনুশীলন এখন দৈনন্দিন কাজে পরিণত হয়েছে। তরুণ-তরুণীরা নাচ-গানের মহড়ায় ব্যস্ত, আর প্রবীণরা আচার-অনুষ্ঠানের খুঁটিনাটি তদারকি করছেন। পুরো বান্দরবান যেন এই সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবকে কেন্দ্র করে নতুন রঙে সেজে উঠেছে, যা পাহাড়ি সংস্কৃতির এক অনন্য পরিচয় বহন করে।

সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো জলকেলি বা পানি খেলা। এখানে মানুষ একে অপরের দিকে পানি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে, যা নতুন বছরের শুভ সূচনা ও পবিত্রতার প্রতীক। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবের পানির ফোঁটা পুরোনো বছরের সব দুঃখ, ক্লান্তি ও অন্ধকার দূর করে দেয় এবং নতুন বছরকে করে তোলে আরও নির্মল ও আনন্দময়। নদীর তীরজুড়ে তৈরি হয় এক অপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশ।

একসময় কেবল মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ সাংগ্রাই পোয়ে উৎসব বান্দরবানের সব জাতিগোষ্ঠীর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়ে এটিকে সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পাহাড়, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবকে আরও সমৃদ্ধ ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

বান্দরবানে আগামী ১৩ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবের মূল আয়োজন। সাঙ্গু নদীর তীরে জলকেলি, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, পিঠা উৎসব এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করা হবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় সাংগ্রাই পোয়ে উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পানির প্রতিটি ফোঁটায় ধুয়ে যাক সব পুরোনো বেদনা—এই শুভকামনায় শেষ হয় সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবের বার্তা। নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির আলো। পাহাড়ের এই রঙিন উৎসব শুধু বান্দরবান নয়, পুরো বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।

আরোও পড়ুন – রাউজানে গীতা আবৃত্তি ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, সম্বর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন

সাংগ্রাই পোয়ে উৎসব শুরু বান্দরবানে | মারমা সম্প্রদায়ের মৈত্রী বর্ষণ ২০২৬

এপ্রিল ১১, ২০২৬

মোঃ মোস্তফা কামাল জয়

বান্দরবানে শুরু হতে যাচ্ছে মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী উৎসব ‘সাংগ্রাই পোয়ে’, যা পাহাড়ি জনপদের মানুষের জন্য নতুন বছরের আনন্দ ও সম্প্রীতির প্রতীক। সবুজ পাহাড়, নদী ও প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্যের মাঝে এই উৎসবকে ঘিরে এখন পুরো অঞ্চল উৎসবমুখর হয়ে উঠেছে। স্থানীয়দের কাছে এই সাংগ্রাই পোয়ে শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং পুরোনো বছরের দুঃখ-কষ্ট ধুয়ে নতুন জীবনের সূচনা করার এক অনন্য আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়।

পাহাড়ি জনপদে সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবকে ঘিরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক তৈরি, বিভিন্ন রকম পাহাড়ি খাবার রান্না এবং সাংস্কৃতিক অনুশীলন এখন দৈনন্দিন কাজে পরিণত হয়েছে। তরুণ-তরুণীরা নাচ-গানের মহড়ায় ব্যস্ত, আর প্রবীণরা আচার-অনুষ্ঠানের খুঁটিনাটি তদারকি করছেন। পুরো বান্দরবান যেন এই সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবকে কেন্দ্র করে নতুন রঙে সেজে উঠেছে, যা পাহাড়ি সংস্কৃতির এক অনন্য পরিচয় বহন করে।

সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো জলকেলি বা পানি খেলা। এখানে মানুষ একে অপরের দিকে পানি ছিটিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করে, যা নতুন বছরের শুভ সূচনা ও পবিত্রতার প্রতীক। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবের পানির ফোঁটা পুরোনো বছরের সব দুঃখ, ক্লান্তি ও অন্ধকার দূর করে দেয় এবং নতুন বছরকে করে তোলে আরও নির্মল ও আনন্দময়। নদীর তীরজুড়ে তৈরি হয় এক অপূর্ব উৎসবমুখর পরিবেশ।

একসময় কেবল মারমা সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আজ সাংগ্রাই পোয়ে উৎসব বান্দরবানের সব জাতিগোষ্ঠীর মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়ে এটিকে সম্প্রীতি ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। পাহাড়, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবকে আরও সমৃদ্ধ ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কাছেও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

বান্দরবানে আগামী ১৩ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবের মূল আয়োজন। সাঙ্গু নদীর তীরে জলকেলি, ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, পিঠা উৎসব এবং ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন বছরকে বরণ করা হবে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় সাংগ্রাই পোয়ে উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পানির প্রতিটি ফোঁটায় ধুয়ে যাক সব পুরোনো বেদনা—এই শুভকামনায় শেষ হয় সাংগ্রাই পোয়ে উৎসবের বার্তা। নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির আলো। পাহাড়ের এই রঙিন উৎসব শুধু বান্দরবান নয়, পুরো বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে।

আরোও পড়ুন – রাউজানে গীতা আবৃত্তি ও নৃত্য প্রতিযোগিতা, সম্বর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ সম্পন্ন