নুরনবী, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সংঘটিত এক ছাত্র নির্যাতন ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক ওমর ফারুক (৪০) বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের কুটি নাওডাঙ্গা তালেপেরহাট গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আনছারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং একইসঙ্গে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই ছাত্র নির্যাতন অভিযোগ সামনে আসার পর তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী স্থানীয় একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র এবং স্কুলের আবাসিকে থাকত। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশলে শিক্ষার্থীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেই সময় বাড়িতে অন্য কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না, যা ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গভীর রাতে শিক্ষকের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীর ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং অনৈতিক আচরণ করা হয়। শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ছাত্র নির্যাতন ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক নিন্দা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত বিচার দাবিতে সামাজিকভাবে চাপ তৈরি হয়েছে।
পরদিন সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীকে আবার আবাসিকে রেখে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। পরে অসুস্থ অবস্থায় শিক্ষার্থী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং পুরো বিষয়টি জানায়। বর্তমানে শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে দুর্বল এবং মানসিকভাবে চাপে রয়েছে, যা এই ছাত্র নির্যাতন ঘটনার গভীরতা আরও স্পষ্ট করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ছিল, তবে তা যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি।
স্থানীয় শিক্ষকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা বাড়তে পারে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং দ্রুত রিপোর্ট দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ছাত্র নির্যাতন ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতন: গর্ভের সন্তান অস্বীকার, সালিশে মারামারি, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা
নাগেশ্বরীতে ছাত্র নির্যাতন: অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক পলাতক
নুরনবী, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সংঘটিত এক ছাত্র নির্যাতন ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক ওমর ফারুক (৪০) বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের কুটি নাওডাঙ্গা তালেপেরহাট গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আনছারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং একইসঙ্গে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন। এই ছাত্র নির্যাতন অভিযোগ সামনে আসার পর তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী স্থানীয় একটি স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র এবং স্কুলের আবাসিকে থাকত। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ রাতে অভিযুক্ত শিক্ষক কৌশলে শিক্ষার্থীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেই সময় বাড়িতে অন্য কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না, যা ঘটনাটিকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গভীর রাতে শিক্ষকের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীর ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং অনৈতিক আচরণ করা হয়। শিক্ষার্থী প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয়। একপর্যায়ে জোরপূর্বক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ছাত্র নির্যাতন ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক নিন্দা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং দ্রুত বিচার দাবিতে সামাজিকভাবে চাপ তৈরি হয়েছে।
পরদিন সকালে অভিযুক্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীকে আবার আবাসিকে রেখে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। পরে অসুস্থ অবস্থায় শিক্ষার্থী পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং পুরো বিষয়টি জানায়। বর্তমানে শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে দুর্বল এবং মানসিকভাবে চাপে রয়েছে, যা এই ছাত্র নির্যাতন ঘটনার গভীরতা আরও স্পষ্ট করে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমে গেছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, এর আগেও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ ছিল, তবে তা যথাযথভাবে গুরুত্ব পায়নি।
স্থানীয় শিক্ষকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত না হলে এ ধরনের ঘটনা বাড়তে পারে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং দ্রুত রিপোর্ট দেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ছাত্র নির্যাতন ঘটনা আরও বাড়তে পারে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোর নজরদারি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।
আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে অন্তঃসত্ত্বা নির্যাতন: গর্ভের সন্তান অস্বীকার, সালিশে মারামারি, পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা