কুড়িগ্রাম উন্নয়ন: দারিদ্র্য ও নদীভাঙনের দুষ্টচক্র ভাঙতে যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও চর ব্যবস্থাপনা জরুরি

মোঃ সাইফুর রহমান,স্টাফ রিপোর্টারঃ

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য, ভূমিহীনতা এবং নদীভাঙনের এক কঠিন দুষ্টচক্রে আবদ্ধ। প্রায় ২,২৫৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জেলায় ২৩ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করলেও ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে কুড়িগ্রাম উন্নয়ন প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ছাড়া এই পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জেলায় দারিদ্র্যের হার ৭০ শতাংশেরও বেশি এবং অতিদরিদ্রের হার অর্ধেকের বেশি। চর রাজিবপুর এলাকায় এই হার আরও ভয়াবহ। ফলে কুড়িগ্রাম উন্নয়ন এখন শুধু একটি প্রশাসনিক ইস্যু নয়, বরং মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ঘাটতি এই দারিদ্র্যকে আরও গভীর করছে।

নদীভাঙন এই জেলার আরেকটি বড় সংকট। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলাসহ ১৬টি নদ-নদী কুড়িগ্রামকে ঘিরে রেখেছে। প্রতি বছর হাজারো পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে টেকসই কুড়িগ্রাম উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন ছাড়া স্থায়ী সমাধান আসবে না।

শিল্পায়নের অভাব জেলাটিকে আরও পিছিয়ে রেখেছে। ১৯৮৭ সালের টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন কোনো বড় শিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে কর্মসংস্থানের অভাবে তরুণ সমাজ বাধ্য হয়ে অন্য জেলায় চলে যাচ্ছে। বাস্তবিক অর্থে কুড়িগ্রাম উন্নয়ন এখন শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

স্থানীয় মানুষের জীবন সংগ্রামও কঠিন। চরের বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত নদীভাঙনের আতঙ্কে থাকেন। বাজার, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় তারা উন্নয়নের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন। তাই টেকসই কুড়িগ্রাম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে চর ব্যবস্থাপনা, রেল ও সড়ক যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক জোন বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরোও পড়ুন – নাগেশ্বরীতে ছাত্র নির্যাতন: অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক পলাতক

কুড়িগ্রাম উন্নয়ন: দারিদ্র্য ও নদীভাঙনের দুষ্টচক্র ভাঙতে যোগাযোগ, শিল্পায়ন ও চর ব্যবস্থাপনা জরুরি

এপ্রিল ১৯, ২০২৬

মোঃ সাইফুর রহমান,স্টাফ রিপোর্টারঃ

উত্তরের সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রাম দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য, ভূমিহীনতা এবং নদীভাঙনের এক কঠিন দুষ্টচক্রে আবদ্ধ। প্রায় ২,২৫৫ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই জেলায় ২৩ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করলেও ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার কারণে কুড়িগ্রাম উন্নয়ন প্রত্যাশিত গতিতে এগোতে পারছে না। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিকল্পিত উদ্যোগ ছাড়া এই পরিস্থিতির উন্নতি কঠিন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জেলায় দারিদ্র্যের হার ৭০ শতাংশেরও বেশি এবং অতিদরিদ্রের হার অর্ধেকের বেশি। চর রাজিবপুর এলাকায় এই হার আরও ভয়াবহ। ফলে কুড়িগ্রাম উন্নয়ন এখন শুধু একটি প্রশাসনিক ইস্যু নয়, বরং মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ঘাটতি এই দারিদ্র্যকে আরও গভীর করছে।

নদীভাঙন এই জেলার আরেকটি বড় সংকট। ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ধরলাসহ ১৬টি নদ-নদী কুড়িগ্রামকে ঘিরে রেখেছে। প্রতি বছর হাজারো পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে টেকসই কুড়িগ্রাম উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন ছাড়া স্থায়ী সমাধান আসবে না।

শিল্পায়নের অভাব জেলাটিকে আরও পিছিয়ে রেখেছে। ১৯৮৭ সালের টেক্সটাইল মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর নতুন কোনো বড় শিল্প গড়ে ওঠেনি। ফলে কর্মসংস্থানের অভাবে তরুণ সমাজ বাধ্য হয়ে অন্য জেলায় চলে যাচ্ছে। বাস্তবিক অর্থে কুড়িগ্রাম উন্নয়ন এখন শিল্পায়ন ও বিনিয়োগের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

স্থানীয় মানুষের জীবন সংগ্রামও কঠিন। চরের বাসিন্দারা প্রতিনিয়ত নদীভাঙনের আতঙ্কে থাকেন। বাজার, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় তারা উন্নয়নের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন। তাই টেকসই কুড়িগ্রাম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে চর ব্যবস্থাপনা, রেল ও সড়ক যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক জোন বাস্তবায়ন জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরোও পড়ুন – নাগেশ্বরীতে ছাত্র নির্যাতন: অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষক পলাতক