সামাউন সাদমান আশিক,প্রতিনিধি, ঢাকা দক্ষিণঃ
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল ঘিরে নতুন আশার বার্তা দিয়েছে সরকার। বিমান লাভজনক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চলতি বছরের শেষ অথবা আগামী বছরের শুরুতেই এই টার্মিনাল সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবা, কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে, যা দেশের বিমান খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) সকালে প্রতিমন্ত্রী এক ব্রিফিংয়ে জানান, বিমান লাভজনক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে থার্ড টার্মিনাল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬ অথবা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্ভব হবে। প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে পরিচালিত হবে এবং ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে এ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা শেষ হয়েছে। RFP (Request for Proposal) দাখিলের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে অগ্রগতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই টার্মিনাল প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের পর আগামী ১৫ বছরের মধ্যে এটি একটি বড় লাভজনক খাতে পরিণত হবে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে উঠতে বিমান লাভজনক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং পরিচালন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দিকেও ইঙ্গিত করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিক বাস্তবায়ন হলে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক বিমানবন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিমানের অভ্যন্তরে থাকা সিন্ডিকেট ও অনিয়ম দূর করতে শুদ্ধিকরণ অভিযান চালানো হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স লাভজনক হতে পারলে রাষ্ট্রীয় বিমান কেন পারবে না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিমান লাভজনক পরিকল্পনা সফল করতে প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
এছাড়া বাজেট অধিবেশনের পরপরই বিমানের আয় বাড়াতে নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু এবং অব্যবহৃত স্লটগুলো সক্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর বিষয়ে কাজ চলছে। এ উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে যাত্রীসংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথও সুগম হবে।
গত ১৬ বছরের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার প্রস্তাব (Comprehensive Proposal) তৈরি করা হচ্ছে। এতে বিমানের বহর আধুনিকীকরণ, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমান লাভজনক পরিকল্পনা সফল হলে শুধু বিমান নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সরকারের বর্তমান মেয়াদের মাত্র দুই মাস অতিবাহিত হলেও আগামী এক বছরের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা চাই বিমান একটি স্বনির্ভর ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক, যেখানে সেবা ও দক্ষতা হবে প্রধান অগ্রাধিকার।
আরোও পড়ুন – সুস্থ জীবন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে পুষ্টির বিকল্প নেই, শুরু হলো জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ
বিমান লাভজনক পরিকল্পনা: থার্ড টার্মিনাল চালু হতে পারে বছর শেষে
সামাউন সাদমান আশিক,প্রতিনিধি, ঢাকা দক্ষিণঃ
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত থার্ড টার্মিনাল ঘিরে নতুন আশার বার্তা দিয়েছে সরকার। বিমান লাভজনক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চলতি বছরের শেষ অথবা আগামী বছরের শুরুতেই এই টার্মিনাল সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, টার্মিনাল চালু হলে যাত্রীসেবা, কার্গো ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে, যা দেশের বিমান খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।
মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬) সকালে প্রতিমন্ত্রী এক ব্রিফিংয়ে জানান, বিমান লাভজনক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে থার্ড টার্মিনাল একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৬ অথবা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্ভব হবে। প্রকল্পটি পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেলে পরিচালিত হবে এবং ইতোমধ্যে জাপানের সঙ্গে এ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা শেষ হয়েছে। RFP (Request for Proposal) দাখিলের মাধ্যমে পরবর্তী ধাপে অগ্রগতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই টার্মিনাল প্রকল্পের ঋণ পরিশোধের পর আগামী ১৫ বছরের মধ্যে এটি একটি বড় লাভজনক খাতে পরিণত হবে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে উঠতে বিমান লাভজনক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা শুধুমাত্র অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং পরিচালন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের দিকেও ইঙ্গিত করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সঠিক বাস্তবায়ন হলে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক বিমানবন্দর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বিমানের অভ্যন্তরে থাকা সিন্ডিকেট ও অনিয়ম দূর করতে শুদ্ধিকরণ অভিযান চালানো হবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স লাভজনক হতে পারলে রাষ্ট্রীয় বিমান কেন পারবে না? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই প্রতিটি স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিমান লাভজনক পরিকল্পনা সফল করতে প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।
এছাড়া বাজেট অধিবেশনের পরপরই বিমানের আয় বাড়াতে নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু এবং অব্যবহৃত স্লটগুলো সক্রিয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নতুন গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর বিষয়ে কাজ চলছে। এ উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে যাত্রীসংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথও সুগম হবে।
গত ১৬ বছরের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে একটি পূর্ণাঙ্গ সংস্কার প্রস্তাব (Comprehensive Proposal) তৈরি করা হচ্ছে। এতে বিমানের বহর আধুনিকীকরণ, কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিমান লাভজনক পরিকল্পনা সফল হলে শুধু বিমান নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সরকারের বর্তমান মেয়াদের মাত্র দুই মাস অতিবাহিত হলেও আগামী এক বছরের মধ্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা চাই বিমান একটি স্বনির্ভর ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক, যেখানে সেবা ও দক্ষতা হবে প্রধান অগ্রাধিকার।
আরোও পড়ুন – সুস্থ জীবন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে পুষ্টির বিকল্প নেই, শুরু হলো জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ