এনায়েত করিম রাজিব, বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের পানির সংকট দূর করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা এলাকার সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১১টায় দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের উত্তর মিত্রডাঙ্গা বিররুল ওয়ালেদাইন তাহাফজুল কুরআন মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং সরকারের কৃষিবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামাল ফারুক, বাগেরহাটের এপিপি (দুদক) শেখ নজরুল ইসলাম কাজল, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, এই খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এলাকার কৃষি খাতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে এবং জলাবদ্ধতা সমস্যাও অনেকাংশে কমে আসবে। একইসঙ্গে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সারা দেশে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের হামছাপুর খাল, পুটিখালী ইউনিয়নের পুকুর ডানা খাল এবং বলইবুনিয়া ইউনিয়নের কচুবুনিয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে বছরের বিভিন্ন সময়ে জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে, যা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের তিনটি খালের খাল পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ হাজার হেক্টর কৃষিজমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। তিনি বলেন, এর ফলে এক ফসলি জমি ধীরে ধীরে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে, যা কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পানির অভাবে তারা কাঙ্ক্ষিত ফসল উৎপাদন করতে পারছিলেন না। খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেচ ব্যবস্থায় মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এখন খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের ফলে পানি সংরক্ষণ সহজ হবে এবং শুষ্ক মৌসুমেও জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে করে তাদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং লাভ বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি উন্নয়নে খাল পুনঃখনন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি শুধু কৃষি উৎপাদন বাড়ায় না, বরং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরোও পড়ুন –মেহেরপুরে খাল পুনঃখনন উদ্বোধন: কৃষি উন্নয়নে নতুন দিগন্ত
মোরেলগঞ্জে খাল পুনঃখনন: তিন খালের উদ্বোধনে সেচ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনা
এনায়েত করিম রাজিব, বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর উদ্যোগে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের আওতায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখননের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের পানির সংকট দূর করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা এলাকার সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ১১টায় দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের উত্তর মিত্রডাঙ্গা বিররুল ওয়ালেদাইন তাহাফজুল কুরআন মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং সরকারের কৃষিবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএডিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামাল ফারুক, বাগেরহাটের এপিপি (দুদক) শেখ নজরুল ইসলাম কাজল, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা বলেন, এই খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে এলাকার কৃষি খাতে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব হবে এবং জলাবদ্ধতা সমস্যাও অনেকাংশে কমে আসবে। একইসঙ্গে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সারা দেশে পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের অংশ হিসেবে খাল পুনঃখনন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের হামছাপুর খাল, পুটিখালী ইউনিয়নের পুকুর ডানা খাল এবং বলইবুনিয়া ইউনিয়নের কচুবুনিয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে বছরের বিভিন্ন সময়ে জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে, যা খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রায় ১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের তিনটি খালের খাল পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ হাজার হেক্টর কৃষিজমি সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। তিনি বলেন, এর ফলে এক ফসলি জমি ধীরে ধীরে তিন ফসলি জমিতে রূপান্তরিত হবে, যা কৃষকদের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে পানির অভাবে তারা কাঙ্ক্ষিত ফসল উৎপাদন করতে পারছিলেন না। খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় সেচ ব্যবস্থায় মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। এখন খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের ফলে পানি সংরক্ষণ সহজ হবে এবং শুষ্ক মৌসুমেও জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হবে। এতে করে তাদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং লাভ বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কৃষি উন্নয়নে খাল পুনঃখনন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি শুধু কৃষি উৎপাদন বাড়ায় না, বরং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরোও পড়ুন –মেহেরপুরে খাল পুনঃখনন উদ্বোধন: কৃষি উন্নয়নে নতুন দিগন্ত