কানাইঘাটে স্ত্রী খুন: ৩ সন্তানের জননীকে হত্যা, স্বামী পলাতক

মিজানুর রহমান (লাভলু), সিলেট প্রতিনিধিঃ

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় চাঞ্চল্যকর স্ত্রী খুন ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিন সন্তানের জননী ফারহানা বেগম (২৮)। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ প্রথম খন্ড গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত ফারহানা বেগম পার্শ্ববর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার চারীকাটা ইউনিয়নের নয়াখেল আলীবাড়ি গ্রামের মুহিবুর রহমানের মেয়ে। কয়েক বছর আগে তার বিয়ে হয় বড়বন্দ গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে সোহেল আহমদের সঙ্গে। স্থানীয়রা জানান, বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে অশান্তি চলছিল। প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া, কলহ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি।

পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, সোহেল আহমদ মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই ফারহানাকে মারধর করতেন। এসব কারণে কয়েক দিন আগে ফারহানা তার তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত সোহেল এক আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান এবং স্ত্রী ও সন্তানদের নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। পরিবারের দাবি, বিষয়টি জোরপূর্বক করা হয়েছিল।

বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর গভীর রাতে ফের তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী খুন ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই ফারহানা বেগমের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত স্বামী সোহেল আহমদ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী খুন ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং পলাতক আসামিকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পরিবারে সহিংসতা, মাদকাসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণেই এমন স্ত্রী খুন ঘটনা বাড়ছে। তারা নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরোও পড়ুন – হালুয়াঘাটে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে যুবক আটক, সামাজিক দরবারে ১ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ

কানাইঘাটে স্ত্রী খুন: ৩ সন্তানের জননীকে হত্যা, স্বামী পলাতক

এপ্রিল ২৯, ২০২৬

মিজানুর রহমান (লাভলু), সিলেট প্রতিনিধিঃ

সিলেটের কানাইঘাট উপজেলায় চাঞ্চল্যকর স্ত্রী খুন ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিন সন্তানের জননী ফারহানা বেগম (২৮)। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ প্রথম খন্ড গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নিহত ফারহানা বেগম পার্শ্ববর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার চারীকাটা ইউনিয়নের নয়াখেল আলীবাড়ি গ্রামের মুহিবুর রহমানের মেয়ে। কয়েক বছর আগে তার বিয়ে হয় বড়বন্দ গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে সোহেল আহমদের সঙ্গে। স্থানীয়রা জানান, বিয়ের পর থেকেই তাদের সংসারে অশান্তি চলছিল। প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া, কলহ ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটত। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হয়নি।

পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, সোহেল আহমদ মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই ফারহানাকে মারধর করতেন। এসব কারণে কয়েক দিন আগে ফারহানা তার তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সোমবার সন্ধ্যায় অভিযুক্ত সোহেল এক আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে সেখানে যান এবং স্ত্রী ও সন্তানদের নিজ বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন। পরিবারের দাবি, বিষয়টি জোরপূর্বক করা হয়েছিল।

বাড়িতে ফিরিয়ে আনার পর গভীর রাতে ফের তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে স্ত্রী খুন ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ঘটনাস্থলেই ফারহানা বেগমের মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত স্বামী সোহেল আহমদ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম জানান, পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী খুন ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে এবং পলাতক আসামিকে ধরতে অভিযান শুরু করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, পরিবারে সহিংসতা, মাদকাসক্তি ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণেই এমন স্ত্রী খুন ঘটনা বাড়ছে। তারা নারী নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং পারিবারিক সহিংসতার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরোও পড়ুন – হালুয়াঘাটে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে যুবক আটক, সামাজিক দরবারে ১ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ