লৌহজংয়ে চায়না দুয়ারী জব্দ, পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার ১ লাখ মিটার কারেন্ট জাল

মো. সুবিন, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদীর বিভিন্ন অংশে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে চায়না দুয়ারী জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য অফিস ও কোস্ট গার্ড। বুধবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিচালিত যৌথ অভিযানে ২০ পিস অবৈধ চায়না দুয়ারী এবং প্রায় ১ লাখ মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা, মা মাছ সংরক্ষণ এবং জেলেদের জন্য নিরাপদ মৎস্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উদ্ধারকৃত জাল নদীর তীরেই ধ্বংস করা হয়েছে।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদীর কয়েকটি অংশে অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করা হচ্ছিল। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে কারেন্ট জাল ও ফাঁদজাতীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করে ছোট মাছ, ডিমওয়ালা মাছ এবং মা ইলিশ নিধনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় চায়না দুয়ারী জব্দ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে অভিযান চলাকালে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল নদীর স্বাভাবিক মাছ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব জালে ছোট মাছ আটকা পড়ে দ্রুত নিধন হয়, ফলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যায়। তাই সরকার প্রতিবছর নিয়মিতভাবে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। বুধবারের অভিযানে চায়না দুয়ারী জব্দ হওয়াকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা। উদ্ধার হওয়া জালগুলো পরে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয় যাতে পুনরায় ব্যবহার করা না যায়।

অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান, লৌহজং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম এবং কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। তারা বলেন, নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান আরও জোরদার করা হবে যাতে চায়না দুয়ারী জব্দ করে নদীকে সুরক্ষিত রাখা যায়।

স্থানীয় জেলেরা বলেন, অবৈধ জালের কারণে বৈধভাবে মাছ ধরা জেলেরা ক্ষতির মুখে পড়েন। নদীতে মাছের সংখ্যা কমে গেলে তাদের আয়ও কমে যায়। তাই তারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। সচেতন মহল মনে করছে, নিয়মিত অভিযান এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা থাকলে পদ্মা নদীতে মাছের উৎপাদন আবারও বাড়বে। একই সঙ্গে অবৈধ জালমুক্ত নদী গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ অভিযানে চায়না দুয়ারী জব্দ হওয়া নদী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – সিরাজদিখানে আওয়ামী লীগ নেতা মেহের আলী মেম্বারের খুঁটির জোর কোথায়!

লৌহজংয়ে চায়না দুয়ারী জব্দ, পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার ১ লাখ মিটার কারেন্ট জাল

এপ্রিল ৩০, ২০২৬

মো. সুবিন, লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ)

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় পদ্মা নদীর বিভিন্ন অংশে ব্যাপক অভিযান চালিয়ে চায়না দুয়ারী জব্দ করেছে উপজেলা মৎস্য অফিস ও কোস্ট গার্ড। বুধবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরিচালিত যৌথ অভিযানে ২০ পিস অবৈধ চায়না দুয়ারী এবং প্রায় ১ লাখ মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষা, মা মাছ সংরক্ষণ এবং জেলেদের জন্য নিরাপদ মৎস্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উদ্ধারকৃত জাল নদীর তীরেই ধ্বংস করা হয়েছে।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে পদ্মা নদীর কয়েকটি অংশে অবৈধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করা হচ্ছিল। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে কারেন্ট জাল ও ফাঁদজাতীয় সরঞ্জাম ব্যবহার করে ছোট মাছ, ডিমওয়ালা মাছ এবং মা ইলিশ নিধনের অভিযোগ ছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন পরিকল্পিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় চায়না দুয়ারী জব্দ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে অভিযান চলাকালে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল নদীর স্বাভাবিক মাছ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এসব জালে ছোট মাছ আটকা পড়ে দ্রুত নিধন হয়, ফলে ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যায়। তাই সরকার প্রতিবছর নিয়মিতভাবে অবৈধ জালের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করছে। বুধবারের অভিযানে চায়না দুয়ারী জব্দ হওয়াকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন কর্মকর্তারা। উদ্ধার হওয়া জালগুলো পরে আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয় যাতে পুনরায় ব্যবহার করা না যায়।

অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম, মুন্সীগঞ্জ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. গোলাম মেহেদী হাসান, লৌহজং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম এবং কোস্ট গার্ডের সদস্যরা। তারা বলেন, নদীতে অবৈধ জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত নজরদারি অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতেও এমন অভিযান আরও জোরদার করা হবে যাতে চায়না দুয়ারী জব্দ করে নদীকে সুরক্ষিত রাখা যায়।

স্থানীয় জেলেরা বলেন, অবৈধ জালের কারণে বৈধভাবে মাছ ধরা জেলেরা ক্ষতির মুখে পড়েন। নদীতে মাছের সংখ্যা কমে গেলে তাদের আয়ও কমে যায়। তাই তারা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। সচেতন মহল মনে করছে, নিয়মিত অভিযান এবং স্থানীয়দের সহযোগিতা থাকলে পদ্মা নদীতে মাছের উৎপাদন আবারও বাড়বে। একই সঙ্গে অবৈধ জালমুক্ত নদী গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। এ অভিযানে চায়না দুয়ারী জব্দ হওয়া নদী রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরোও পড়ুন – সিরাজদিখানে আওয়ামী লীগ নেতা মেহের আলী মেম্বারের খুঁটির জোর কোথায়!