উলিপুরে বিদ্যুতের স্পর্শে যুবকের মৃত্যু, কাজ করতে গিয়েই প্রাণ গেল নাজমুলের

নুর মোহাম্মদ রোকন,( বিশেষ প্রতিনিধি)

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় বিদ্যুতের স্পর্শে মৃত্যু হয়েছে নাজমুল হাসান (২২) নামে এক যুবকের। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে উপজেলার ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের কিশামত মালতিবাড়ী এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাজমুল স্থানীয় মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার একমাত্র ছেলে বলে জানা গেছে। হঠাৎ এমন মৃত্যুতে পুরো পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এলাকাবাসীও এই ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন। বিশেষ করে পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ায় স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটের দিকে প্রতিবেশী মো. মমিনুল ইসলামের বাড়িতে নির্মাণাধীন কাজে সহযোগিতা করছিলেন নাজমুল। সেখানে একটি বৈদ্যুতিক বাল্বের সংযোগ দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের তারে স্পর্শ লাগে তার শরীরে। মেইন সুইচ চালু থাকায় মুহূর্তেই গুরুতরভাবে আহত হন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় উপস্থিত লোকজন দ্রুত বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

এলাকাবাসীর দাবি, গ্রামাঞ্চলে এখনও অনেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বৈদ্যুতিক কাজ করে থাকেন। সচেতনতার অভাব এবং অসতর্কতার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনায় বিদ্যুতের স্পর্শে মৃত্যু নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। অনেকে বলছেন, বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ করার আগে মেইন সুইচ বন্ধ রাখা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা উচিত। বিশেষ করে তরুণদের বৈদ্যুতিক ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণা বাড়ানোরও দাবি উঠেছে।

খবর পেয়ে উলিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়িতে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং নিহতের পিতা লিখিত আবেদন দেওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, ঘটনাটি একটি দুর্ঘটনা হিসেবে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নাজমুল হাসানের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, তিনি শান্ত ও পরিশ্রমী স্বভাবের যুবক ছিলেন। পরিবারের হাল ধরার চেষ্টা করছিলেন তিনি। বিদ্যুতের স্পর্শে মৃত্যু হওয়ায় তার স্বজনরা এখনো শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। প্রতিবেশীরা নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য সবাইকে বৈদ্যুতিক কাজের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ভাঙন: স্কুল রক্ষায় শিশুদের মানববন্ধন, আতঙ্কে জনপদ

উলিপুরে বিদ্যুতের স্পর্শে যুবকের মৃত্যু, কাজ করতে গিয়েই প্রাণ গেল নাজমুলের

মে ৭, ২০২৬

নুর মোহাম্মদ রোকন,( বিশেষ প্রতিনিধি)

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় বিদ্যুতের স্পর্শে মৃত্যু হয়েছে নাজমুল হাসান (২২) নামে এক যুবকের। বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে উপজেলার ধরণীবাড়ী ইউনিয়নের কিশামত মালতিবাড়ী এলাকায় মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নাজমুল স্থানীয় মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফার একমাত্র ছেলে বলে জানা গেছে। হঠাৎ এমন মৃত্যুতে পুরো পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এলাকাবাসীও এই ঘটনায় গভীরভাবে মর্মাহত হয়েছেন। বিশেষ করে পরিবারের একমাত্র সন্তান হওয়ায় স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটের দিকে প্রতিবেশী মো. মমিনুল ইসলামের বাড়িতে নির্মাণাধীন কাজে সহযোগিতা করছিলেন নাজমুল। সেখানে একটি বৈদ্যুতিক বাল্বের সংযোগ দিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত বিদ্যুতের তারে স্পর্শ লাগে তার শরীরে। মেইন সুইচ চালু থাকায় মুহূর্তেই গুরুতরভাবে আহত হন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় উপস্থিত লোকজন দ্রুত বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তাকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত উলিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।

এলাকাবাসীর দাবি, গ্রামাঞ্চলে এখনও অনেকেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই বৈদ্যুতিক কাজ করে থাকেন। সচেতনতার অভাব এবং অসতর্কতার কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ঘটনায় বিদ্যুতের স্পর্শে মৃত্যু নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। অনেকে বলছেন, বৈদ্যুতিক সংযোগের কাজ করার আগে মেইন সুইচ বন্ধ রাখা এবং নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা উচিত। বিশেষ করে তরুণদের বৈদ্যুতিক ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে স্থানীয় পর্যায়ে প্রচারণা বাড়ানোরও দাবি উঠেছে।

খবর পেয়ে উলিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়িতে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করে। পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় এবং নিহতের পিতা লিখিত আবেদন দেওয়ায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাঈদ ইবনে সিদ্দিক জানান, ঘটনাটি একটি দুর্ঘটনা হিসেবে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নাজমুল হাসানের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, তিনি শান্ত ও পরিশ্রমী স্বভাবের যুবক ছিলেন। পরিবারের হাল ধরার চেষ্টা করছিলেন তিনি। বিদ্যুতের স্পর্শে মৃত্যু হওয়ায় তার স্বজনরা এখনো শোক কাটিয়ে উঠতে পারেননি। প্রতিবেশীরা নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে সেজন্য সবাইকে বৈদ্যুতিক কাজের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আরোও পড়ুন – কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্র ভাঙন: স্কুল রক্ষায় শিশুদের মানববন্ধন, আতঙ্কে জনপদ