মোংলায় যুবক নিখোঁজ: কোস্টগার্ড পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

মো:রাজ হাওলাদার,মোংলা প্রতিনিধিঃ

বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ড পরিচয়ে এক যুবককে তুলে নেওয়ার অভিযোগের এক মাস পার হলেও এখনো তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। “মোংলায় যুবক নিখোঁজ” ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ যুবক মিরাজ শেখ (৩২) কে ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তাঁর পরিবার। পরিবারের দাবি, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মণি ঠোটার একটি চায়ের দোকান থেকে সাদা পোশাকে আসা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের কোস্টগার্ড সদস্য পরিচয় দিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

শনিবার মোংলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ মিরাজ শেখের বোন লিজা আক্তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি জানান, মিরাজ পেশায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক ছিলেন। পাশাপাশি জীবিকার তাগিদে নদীতে পোনা মাছ আহরণ করতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাঁকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়দের সামনে ঘটনাটি ঘটলেও আতঙ্কের কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি বলে দাবি পরিবারের।

পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান, মিরাজকে তুলে নেওয়ার সময় তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি দোকানের পাশেই পড়ে ছিল। পরে কয়েকদিন পর গভীর রাতে আবারও কিছু ব্যক্তি এসে নিজেদের কোস্টগার্ড পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেলটিও নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরিবারের সন্দেহ আরও গভীর হয়। “মোংলায় যুবক নিখোঁজ” হওয়ার পরদিন স্বজনরা দিগরাজ কোস্টগার্ড বেজে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে বলে দাবি করা হয়। পরে থানায় সরাসরি অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ প্রথমে তা গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ পরিবারের।

ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর ২৩ এপ্রিল মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তবে এক মাস পার হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিরাজের মা তাসলিমা বেগম বলেন, “আমার ময়নাডারে সবার সামনে ধইরা নিয়ে গেছে। যদি অপরাধ করে থাকে, আইনের মাধ্যমে বিচার হোক। কিন্তু আমার ছেলেডা কোথায়, বেঁচে আছে না মারা গেছে—এটাও জানি না। আমি শুধু আমার ছেলেডারে ফেরত চাই। তাঁর এই আবেগঘন বক্তব্যে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি’র কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। মিরাজ শেখ জীবিত আছেন কি না এবং কোথায় আছেন, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে দ্রুত হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি। “মোংলায় যুবক নিখোঁজ” ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এদিকে, মোংলা থানার এসআই আবু হানিফ কামাল বলেন, জিডির ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পেতে বিভিন্ন জায়গায় অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন (মোংলা)-এর মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার মাহবুব হোসেন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কোস্টগার্ড কোনোভাবেই জড়িত নয়। একটি স্বার্থান্বেষী মহল কোস্টগার্ডের নিয়মিত কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ ছড়াচ্ছে।

নিখোঁজ মিরাজ শেখের স্ত্রী, মা ও ৬ বছরের শিশু সন্তান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত মিরাজকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও এ ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দীর্ঘ এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় “মোংলায় যুবক নিখোঁজ” ঘটনাটি এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আরোও পড়ুন – গ্রিস উপকূলে পৌঁছানোর আগেই ২২ অভিবাসীর মৃত্যু

মোংলায় যুবক নিখোঁজ: কোস্টগার্ড পরিচয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

মে ১০, ২০২৬

মো:রাজ হাওলাদার,মোংলা প্রতিনিধিঃ

বাগেরহাটের মোংলায় কোস্টগার্ড পরিচয়ে এক যুবককে তুলে নেওয়ার অভিযোগের এক মাস পার হলেও এখনো তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। “মোংলায় যুবক নিখোঁজ” ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ যুবক মিরাজ শেখ (৩২) কে ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন করেছে তাঁর পরিবার। পরিবারের দাবি, গত ১০ এপ্রিল সন্ধ্যায় উপজেলার চিলা ইউনিয়নের জয়মণি ঠোটার একটি চায়ের দোকান থেকে সাদা পোশাকে আসা কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের কোস্টগার্ড সদস্য পরিচয় দিয়ে তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁর আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

শনিবার মোংলা প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ মিরাজ শেখের বোন লিজা আক্তার লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। তিনি জানান, মিরাজ পেশায় ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক ছিলেন। পাশাপাশি জীবিকার তাগিদে নদীতে পোনা মাছ আহরণ করতেন। ঘটনার দিন সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাঁকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় স্থানীয়দের সামনে ঘটনাটি ঘটলেও আতঙ্কের কারণে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাননি বলে দাবি পরিবারের।

পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনে আরও জানান, মিরাজকে তুলে নেওয়ার সময় তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি দোকানের পাশেই পড়ে ছিল। পরে কয়েকদিন পর গভীর রাতে আবারও কিছু ব্যক্তি এসে নিজেদের কোস্টগার্ড পরিচয় দিয়ে মোটরসাইকেলটিও নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরিবারের সন্দেহ আরও গভীর হয়। “মোংলায় যুবক নিখোঁজ” হওয়ার পরদিন স্বজনরা দিগরাজ কোস্টগার্ড বেজে যোগাযোগ করলে কর্তৃপক্ষ আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে বলে দাবি করা হয়। পরে থানায় সরাসরি অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ প্রথমে তা গ্রহণ করেনি বলেও অভিযোগ পরিবারের।

ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর ২৩ এপ্রিল মোংলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। তবে এক মাস পার হলেও তদন্তে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় হতাশা প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিরাজের মা তাসলিমা বেগম বলেন, “আমার ময়নাডারে সবার সামনে ধইরা নিয়ে গেছে। যদি অপরাধ করে থাকে, আইনের মাধ্যমে বিচার হোক। কিন্তু আমার ছেলেডা কোথায়, বেঁচে আছে না মারা গেছে—এটাও জানি না। আমি শুধু আমার ছেলেডারে ফেরত চাই। তাঁর এই আবেগঘন বক্তব্যে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি’র কেন্দ্রীয় মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, বিষয়টি মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। মিরাজ শেখ জীবিত আছেন কি না এবং কোথায় আছেন, তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে দ্রুত হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি। “মোংলায় যুবক নিখোঁজ” ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এদিকে, মোংলা থানার এসআই আবু হানিফ কামাল বলেন, জিডির ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজ যুবকের সন্ধান পেতে বিভিন্ন জায়গায় অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন (মোংলা)-এর মিডিয়া কর্মকর্তা লে. কমান্ডার মাহবুব হোসেন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, মিরাজ শেখের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় কোস্টগার্ড কোনোভাবেই জড়িত নয়। একটি স্বার্থান্বেষী মহল কোস্টগার্ডের নিয়মিত কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে এসব অভিযোগ ছড়াচ্ছে।

নিখোঁজ মিরাজ শেখের স্ত্রী, মা ও ৬ বছরের শিশু সন্তান সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করে দ্রুত মিরাজকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও এ ঘটনায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দীর্ঘ এক মাস পেরিয়ে গেলেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় “মোংলায় যুবক নিখোঁজ” ঘটনাটি এখন স্থানীয়দের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

আরোও পড়ুন – গ্রিস উপকূলে পৌঁছানোর আগেই ২২ অভিবাসীর মৃত্যু