বেতাগীতে মাদকবিরোধী অভিযান, ৫ মাদকসেবীর কারাদণ্ড ও জরিমানা

মো. আতিকুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বরগুনার বেতাগীতে মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে বিশেষ মোবাইল কোর্ট। বেতাগীতে মাদক অভিযান পরিচালনা করে পাঁচজন মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাদ্দাম হোসেন। শনিবার (১০ মে) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন। প্রশাসনের এমন উদ্যোগে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় মাদক সেবন ও মাদক কেনাবেচার অভিযোগ উঠে আসছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন গোপন তথ্য সংগ্রহ করে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে দিনব্যাপী পরিচালিত বেতাগীতে মাদক অভিযান চলাকালে কয়েকজনকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাৎক্ষণিক সাজা প্রদান করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজনকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও মাদক বহনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় আদালত এ রায় প্রদান করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে মনে করছেন, নিয়মিত বেতাগীতে মাদক অভিযান পরিচালিত হলে যুবসমাজ মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা পাবে এবং অপরাধ প্রবণতাও কমে আসবে।

অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাদ্দাম হোসেন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। কোনো মাদকসেবী কিংবা মাদক কারবারির জন্য বেতাগীতে কোনো ছাড় নেই।” তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যদি প্রশাসনকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন তাহলে খুব দ্রুতই মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং সামাজিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু চক্র গোপনে তরুণদের মধ্যে মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রশাসনের সাম্প্রতিক বেতাগীতে মাদক অভিযান এসব চক্রের জন্য কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা বলছেন, নিয়মিত নজরদারি ও আইনগত পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথ থেকে ফিরে আসবে। অনেকেই প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অভিযান চলাকালে পুলিশ প্রশাসনের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সার্বিক সহযোগিতা করেন। সাজাপ্রাপ্তদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। সচেতন মহল বলছে, ধারাবাহিক বেতাগীতে মাদক অভিযান এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্বস্তির অনুভূতি তৈরি করেছে।

আরোও পড়ুন – সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক অভিযান: যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে মাদকসহ আটক ১১ জন

বেতাগীতে মাদকবিরোধী অভিযান, ৫ মাদকসেবীর কারাদণ্ড ও জরিমানা

মে ১১, ২০২৬

মো. আতিকুল ইসলাম, নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বরগুনার বেতাগীতে মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে বিশেষ মোবাইল কোর্ট। বেতাগীতে মাদক অভিযান পরিচালনা করে পাঁচজন মাদকসেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাদ্দাম হোসেন। শনিবার (১০ মে) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে এই অভিযান চালানো হয়। অভিযানে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও অংশ নেন। প্রশাসনের এমন উদ্যোগে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার কয়েকটি এলাকায় মাদক সেবন ও মাদক কেনাবেচার অভিযোগ উঠে আসছিল। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন গোপন তথ্য সংগ্রহ করে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে দিনব্যাপী পরিচালিত বেতাগীতে মাদক অভিযান চলাকালে কয়েকজনকে সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে তাদের কাছ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাৎক্ষণিক সাজা প্রদান করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজনকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও মাদক বহনের সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় আদালত এ রায় প্রদান করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে মনে করছেন, নিয়মিত বেতাগীতে মাদক অভিযান পরিচালিত হলে যুবসমাজ মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা পাবে এবং অপরাধ প্রবণতাও কমে আসবে।

অভিযান শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাদ্দাম হোসেন বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। কোনো মাদকসেবী কিংবা মাদক কারবারির জন্য বেতাগীতে কোনো ছাড় নেই।” তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যদি প্রশাসনকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন তাহলে খুব দ্রুতই মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং সামাজিকভাবে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার পরামর্শ দেন।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু চক্র গোপনে তরুণদের মধ্যে মাদক ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রশাসনের সাম্প্রতিক বেতাগীতে মাদক অভিযান এসব চক্রের জন্য কঠোর বার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। তারা বলছেন, নিয়মিত নজরদারি ও আইনগত পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং তরুণ সমাজ ধ্বংসের পথ থেকে ফিরে আসবে। অনেকেই প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অভিযান চলাকালে পুলিশ প্রশাসনের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সার্বিক সহযোগিতা করেন। সাজাপ্রাপ্তদের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। সচেতন মহল বলছে, ধারাবাহিক বেতাগীতে মাদক অভিযান এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা ও স্বস্তির অনুভূতি তৈরি করেছে।

আরোও পড়ুন – সিদ্ধিরগঞ্জে মাদক অভিযান: যৌথ বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে মাদকসহ আটক ১১ জন