মো. রেজওয়ান, রাবি প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান আবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সম্মিলিত হল সংসদ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া এ স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীদের আবাসন নিরাপত্তা, সিট বণ্টনে স্বচ্ছতা এবং পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাবির আবাসন সংকট বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে বহু শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে ক্যাম্পাসের বাইরে অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদেশ সফরে থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্বরত উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাঈনউদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি তুলে দেন সম্মিলিত হল সংসদের নেতারা। এ সময় বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন এসএম হল সংসদের ভিপি শামীম পাটোয়ারী, আমীর আলী হল সংসদের ভিপি নাইম ইসলাম, জিয়া হল সংসদের ভিপি মোজাম্মেল হক, লতিফ হল সংসদের ভিপি নেয়ামত উল্লাহ, বিজয়-২৪ হল সংসদের ভিপি রাসেল মিয়া এবং শেরে বাংলা হল সংসদের জিএস তানজিল হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা।
স্মারকলিপিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক আবাসন ভাতা চালু করা, বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক রোডম্যাপ প্রকাশ করা এবং আবাসিক হলগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সিট বণ্টন নিশ্চিত করা। নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই রাবির আবাসন সংকট শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বর্তমানে আবাসিক হলগুলোতে আসনের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় অনেককে গণরুম কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে হচ্ছে। আবার অনেকে সিট না পেয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাদের মতে, রাবির আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষার পরিবেশ আরও ব্যাহত হবে।
সম্মিলিত হল সংসদের নেতারা আরও বলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো নিরাপদ ও পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তবে অনেক শিক্ষার্থী সিট বণ্টনে বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলছেন। তারা মনে করেন, স্বচ্ছ নীতিমালার মাধ্যমে সিট বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে। পাশাপাশি নতুন হল নির্মাণ ও পুরোনো হল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানান তারা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাবির আবাসন সংকট এখন শুধুমাত্র অবকাঠামোগত সমস্যা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও শিক্ষার মানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি বড় ইস্যু।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। দায়িত্বরত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হবে। তবে শিক্ষার্থীরা দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চান। তাদের দাবি, দীর্ঘসূত্রতা নয় বরং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়নই পারে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান আনতে।
সম্মিলিত হল সংসদের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং দ্রুত তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে আসবে। তারা বলেন, আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক কার্যক্রম ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাবে।
আরোও পড়ুন – শাহজাদপুরে সেলাই প্রশিক্ষণ ব্যাচ উদ্বোধন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে নতুন উদ্যোগ
রাবির আবাসন সংকট নিরসনে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিল সম্মিলিত হল সংসদ
মো. রেজওয়ান, রাবি প্রতিনিধিঃ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান আবাসন সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে সম্মিলিত হল সংসদ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া এ স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীদের আবাসন নিরাপত্তা, সিট বণ্টনে স্বচ্ছতা এবং পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাবির আবাসন সংকট বর্তমানে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে বহু শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত খরচে ক্যাম্পাসের বাইরে অনিরাপদ পরিবেশে বসবাস করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদেশ সফরে থাকায় তাঁর অনুপস্থিতিতে দায়িত্বরত উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাঈনউদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি তুলে দেন সম্মিলিত হল সংসদের নেতারা। এ সময় বিভিন্ন হল সংসদের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিতদের মধ্যে ছিলেন এসএম হল সংসদের ভিপি শামীম পাটোয়ারী, আমীর আলী হল সংসদের ভিপি নাইম ইসলাম, জিয়া হল সংসদের ভিপি মোজাম্মেল হক, লতিফ হল সংসদের ভিপি নেয়ামত উল্লাহ, বিজয়-২৪ হল সংসদের ভিপি রাসেল মিয়া এবং শেরে বাংলা হল সংসদের জিএস তানজিল হোসেনসহ অন্যান্য নেতারা।
স্মারকলিপিতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক আবাসন ভাতা চালু করা, বিশ্ববিদ্যালয়কে পূর্ণাঙ্গ আবাসিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক রোডম্যাপ প্রকাশ করা এবং আবাসিক হলগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সিট বণ্টন নিশ্চিত করা। নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই রাবির আবাসন সংকট শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বর্তমানে আবাসিক হলগুলোতে আসনের তুলনায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় অনেককে গণরুম কিংবা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকতে হচ্ছে। আবার অনেকে সিট না পেয়ে ক্যাম্পাসের বাইরে মেস বা ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অতিরিক্ত আর্থিক চাপের পাশাপাশি নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তাদের মতে, রাবির আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষার পরিবেশ আরও ব্যাহত হবে।
সম্মিলিত হল সংসদের নেতারা আরও বলেন, একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো নিরাপদ ও পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা। কিন্তু বাস্তবে অনেক শিক্ষার্থী সিট বণ্টনে বৈষম্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলছেন। তারা মনে করেন, স্বচ্ছ নীতিমালার মাধ্যমে সিট বণ্টন নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে। পাশাপাশি নতুন হল নির্মাণ ও পুরোনো হল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানান তারা। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাবির আবাসন সংকট এখন শুধুমাত্র অবকাঠামোগত সমস্যা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার ও শিক্ষার মানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত একটি বড় ইস্যু।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। দায়িত্বরত প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবিগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হবে। তবে শিক্ষার্থীরা দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চান। তাদের দাবি, দীর্ঘসূত্রতা নয় বরং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়নই পারে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান আনতে।
সম্মিলিত হল সংসদের নেতারা আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে এবং দ্রুত তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে আসবে। তারা বলেন, আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক কার্যক্রম ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাবে।
আরোও পড়ুন – শাহজাদপুরে সেলাই প্রশিক্ষণ ব্যাচ উদ্বোধন, নারীদের স্বাবলম্বী করতে নতুন উদ্যোগ