মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় প্রধান(রংপুর)
দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদলের অংশ হিসেবে একদিনে ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে এসব নিয়োগের ঘোষণা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করে শিক্ষা কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই দিনে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনাকে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেও দেখছেন শিক্ষাবিদরা।
প্রথমদিকে ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলেও পরবর্তীতে একটি নিয়োগ বাতিল হওয়ায় কার্যকরভাবে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমানকে প্রথমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে নিয়োগের প্রায় এক ঘণ্টা পর পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই আদেশ বাতিল করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষা প্রশাসনে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। যদিও বাতিলের কারণ সম্পর্কে সরকারিভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির লোকপ্রশাসন বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক। এছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন নেতৃত্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজন দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক ও প্রশাসক হিসেবে পরিচিত। নতুন দায়িত্ব পাওয়া একজন বর্তমানে নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য এর আগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় দক্ষতাকে বিবেচনায় রেখেই এই নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সেশনজট, গবেষণার সীমাবদ্ধতা, শিক্ষক সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বিশেষ করে গবেষণা খাতে আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখতে অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। নতুন উপাচার্যরা দায়িত্ব গ্রহণের পর গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে দক্ষ ও দূরদর্শী প্রশাসনের বিকল্প নেই। তাই একযোগে এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনকে শুধু প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা নীতির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন নেতৃত্বকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে এই বড় পরিবর্তনের ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম বৃদ্ধিতে নবনিযুক্ত উপাচার্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
আরোও পড়ুন – মাভাবিপ্রবির নতুন ভিসি অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম | শিক্ষার্থীদের নতুন প্রত্যাশা
একদিনে ১০ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ, উচ্চশিক্ষায় বড় প্রশাসনিক পরিবর্তন
মোঃ আলমগীর হোসাইন,বিভাগীয় প্রধান(রংপুর)
দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে বড় ধরনের প্রশাসনিক রদবদলের অংশ হিসেবে একদিনে ১০টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করে এসব নিয়োগের ঘোষণা দেয়। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করে শিক্ষা কার্যক্রমে গতি ফিরিয়ে আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই দিনে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনের ঘটনাকে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেও দেখছেন শিক্ষাবিদরা।
প্রথমদিকে ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হলেও পরবর্তীতে একটি নিয়োগ বাতিল হওয়ায় কার্যকরভাবে ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমানকে প্রথমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তবে নিয়োগের প্রায় এক ঘণ্টা পর পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই আদেশ বাতিল করা হয়। এ ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষা প্রশাসনে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। যদিও বাতিলের কারণ সম্পর্কে সরকারিভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫তম উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির লোকপ্রশাসন বিভাগের একজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক। এছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের আশা, নতুন নেতৃত্ব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে কয়েকজন দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক ও প্রশাসক হিসেবে পরিচিত। নতুন দায়িত্ব পাওয়া একজন বর্তমানে নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য এর আগে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় দক্ষতাকে বিবেচনায় রেখেই এই নতুন ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে সেশনজট, গবেষণার সীমাবদ্ধতা, শিক্ষক সংকট ও প্রশাসনিক জটিলতা নিয়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। বিশেষ করে গবেষণা খাতে আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখতে অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা চলছিল। নতুন উপাচার্যরা দায়িত্ব গ্রহণের পর গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে দক্ষ ও দূরদর্শী প্রশাসনের বিকল্প নেই। তাই একযোগে এতগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ে নেতৃত্ব পরিবর্তনকে শুধু প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং ভবিষ্যৎ উচ্চশিক্ষা নীতির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গবেষণাভিত্তিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন নেতৃত্বকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে এই বড় পরিবর্তনের ফলে শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে আশা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রশাসনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রম বৃদ্ধিতে নবনিযুক্ত উপাচার্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
আরোও পড়ুন – মাভাবিপ্রবির নতুন ভিসি অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম | শিক্ষার্থীদের নতুন প্রত্যাশা