সেলিম হোসেন রুবেল, জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের মোসলেমগঞ্জ থেকে বৈরাগীহাট সড়কজুড়ে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এলাকাবাসীর দাবি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র রাতের আঁধারে ধারাবাহিকভাবে গাছ কেটে সরিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ইতোমধ্যে কেটে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবেশপ্রেমী মানুষ ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক বনায়নের এই গাছ নিধন এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের বেলায় প্রথমে গাছের ডালপালা ছেঁটে ফেলা হয়। এরপর গভীর রাতে সুযোগ বুঝে পুরো গাছ কেটে ট্রাক বা ভ্যানে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সকালে স্থানীয়রা গিয়ে দেখছেন রাস্তার পাশে শুধু গাছের গুঁড়ি পড়ে আছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্টদের কার্যকর তদারকির অভাবে দুষ্কৃতকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সামাজিক বনায়নের গাছ শুধু পরিবেশ রক্ষাই করে না, বরং ঝড়-ধুলা থেকে সড়ককে সুরক্ষা দেয় এবং এলাকার সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করে। অথচ এখন প্রকাশ্যেই চলছে ভয়াবহ গাছ নিধন।
গাছ দেখভালের দায়িত্বে থাকা ফেরদৌস রহমান জানান, বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে অভিযোগের পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও সাহসী হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “আমরা বারবার জানিয়েছি, কিন্তু রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে নেওয়া বন্ধ করা যাচ্ছে না। সকালে এসে দেখি বড় বড় গাছ নেই, শুধু গোড়া পড়ে আছে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো সড়কের সামাজিক বনায়ন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবেই এই গাছ নিধন পরিচালিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, সামাজিক বনায়নের গাছ রক্ষায় প্রশাসন, বন বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “সামাজিক বনায়নের গাছ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। অবৈধভাবে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে স্থানীয়রা বলছেন, শুধু কমিটি গঠন নয়, দ্রুত মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে, না হলে গাছ নিধন বন্ধ করা কঠিন হবে।
এদিকে পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলনের নেতারা ঘটনাটিকে পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সংগঠনটির স্থানীয় নেতারা বলেন, সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে ফেলা মানে শুধু কাঠ চুরি নয়, বরং পরিবেশ ধ্বংসের পথ তৈরি করা। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে সড়কজুড়ে নিয়মিত টহল ও মনিটরিং বাড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তারা। সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসন, বন বিভাগ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া চলমান গাছ নিধন বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগে এই সড়কে সামাজিক বনায়নের আওতায় গাছ লাগানো হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে গাছগুলো বড় হয়ে এলাকায় সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলেছিল। গরমের সময় পথচারীরা এসব গাছের ছায়ায় স্বস্তি পেতেন। এখন একের পর এক গাছ কেটে ফেলার কারণে পুরো এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও বলছেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকার যখন বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন এভাবে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
আরোও পড়ুন – নাটোরে গাঁজা উদ্ধার: র্যাব-৫ এর অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
কালাইয়ে সামাজিক বনায়নের গাছ নিধন, রাতের আঁধারে উধাও শতাধিক গাছ
সেলিম হোসেন রুবেল, জয়পুরহাট প্রতিনিধি:
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার উদয়পুর ইউনিয়নের মোসলেমগঞ্জ থেকে বৈরাগীহাট সড়কজুড়ে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। এলাকাবাসীর দাবি, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র রাতের আঁধারে ধারাবাহিকভাবে গাছ কেটে সরিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ইতোমধ্যে কেটে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবেশপ্রেমী মানুষ ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে সামাজিক বনায়নের এই গাছ নিধন এলাকার পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দিনের বেলায় প্রথমে গাছের ডালপালা ছেঁটে ফেলা হয়। এরপর গভীর রাতে সুযোগ বুঝে পুরো গাছ কেটে ট্রাক বা ভ্যানে করে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সকালে স্থানীয়রা গিয়ে দেখছেন রাস্তার পাশে শুধু গাছের গুঁড়ি পড়ে আছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চললেও সংশ্লিষ্টদের কার্যকর তদারকির অভাবে দুষ্কৃতকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সামাজিক বনায়নের গাছ শুধু পরিবেশ রক্ষাই করে না, বরং ঝড়-ধুলা থেকে সড়ককে সুরক্ষা দেয় এবং এলাকার সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করে। অথচ এখন প্রকাশ্যেই চলছে ভয়াবহ গাছ নিধন।
গাছ দেখভালের দায়িত্বে থাকা ফেরদৌস রহমান জানান, বিষয়টি একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে অভিযোগের পরও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় অপরাধীরা আরও সাহসী হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, “আমরা বারবার জানিয়েছি, কিন্তু রাতের অন্ধকারে গাছ কেটে নেওয়া বন্ধ করা যাচ্ছে না। সকালে এসে দেখি বড় বড় গাছ নেই, শুধু গোড়া পড়ে আছে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো সড়কের সামাজিক বনায়ন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। স্থানীয়দের অনেকেই মনে করছেন, পরিকল্পিতভাবেই এই গাছ নিধন পরিচালিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, সামাজিক বনায়নের গাছ রক্ষায় প্রশাসন, বন বিভাগ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “সামাজিক বনায়নের গাছ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। অবৈধভাবে গাছ কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে স্থানীয়রা বলছেন, শুধু কমিটি গঠন নয়, দ্রুত মাঠপর্যায়ে নজরদারি বাড়াতে হবে, না হলে গাছ নিধন বন্ধ করা কঠিন হবে।
এদিকে পরিবেশবাদী সংগঠন সবুজ আন্দোলনের নেতারা ঘটনাটিকে পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সংগঠনটির স্থানীয় নেতারা বলেন, সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে ফেলা মানে শুধু কাঠ চুরি নয়, বরং পরিবেশ ধ্বংসের পথ তৈরি করা। তারা দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রোধে সড়কজুড়ে নিয়মিত টহল ও মনিটরিং বাড়ানোর আহ্বানও জানিয়েছেন তারা। সচেতন মহল মনে করছে, প্রশাসন, বন বিভাগ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া চলমান গাছ নিধন বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, কয়েক বছর আগে এই সড়কে সামাজিক বনায়নের আওতায় গাছ লাগানো হয়েছিল। সময়ের সঙ্গে গাছগুলো বড় হয়ে এলাকায় সবুজ পরিবেশ গড়ে তুলেছিল। গরমের সময় পথচারীরা এসব গাছের ছায়ায় স্বস্তি পেতেন। এখন একের পর এক গাছ কেটে ফেলার কারণে পুরো এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে। স্থানীয় শিক্ষার্থীরাও বলছেন, পরিবেশ রক্ষায় সরকার যখন বৃক্ষরোপণে গুরুত্ব দিচ্ছে, তখন এভাবে সামাজিক বনায়নের গাছ কেটে নেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
আরোও পড়ুন – নাটোরে গাঁজা উদ্ধার: র্যাব-৫ এর অভিযানে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার