কুষ্টিয়ায় একদিনে নিখোঁজ তিনজন, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে পরিবার

ইমরান হোসেন, কুষ্টিয়াঃ

সারাদেশে শিশু নিখোঁজ, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে যখন উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময় কুষ্টিয়ায় একদিনে তিনজন কিশোর-কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২২ মে) দিনের বিভিন্ন সময়ে পৃথক এলাকা থেকে তিন শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শহরজুড়ে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিশেষ করে অভিভাবকদের মধ্যে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ঘটে যাওয়া নানা অপরাধের ঘটনায় মানুষের মানসিক চাপ বেড়েছে, আর এর মধ্যেই কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ তিনজনের সংবাদ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

নিখোঁজদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে নিখোঁজ হয় মোঃ সাবিদ (১৪) নামের এক কিশোর। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে কুষ্টিয়া এনএস রোডের রক্সি গলি এলাকা থেকে তাকে শেষবার দেখা যায়। পরে তোফাজ্জেল হেলথ সেন্টার (রতন ক্লিনিক) এলাকার আশপাশে তার অবস্থান ছিল বলে জানা গেলেও এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাননি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারটির দাবি, সাবিদ খুবই শান্ত স্বভাবের ছেলে এবং পূর্বে কখনও বাড়ি থেকে এভাবে নিখোঁজ হয়নি। ফলে কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।

এর কিছুক্ষণ পর আরেকটি নিখোঁজের ঘটনা সামনে আসে। রুপা খাতুন (১৩/১৪) নামের এক কিশোরী শুক্রবার বিকেলের দিকে বাসা থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হয়। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার এলোঙ্গী রেলপাড়া এলাকায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্ধ্যার পর মাদ্রাসায় খাবার পৌঁছে দিতে গেলে তারা জানতে পারেন রুপা ওইদিন মাদ্রাসায় যায়নি। এরপর থেকেই পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বলছেন, একদিনে পরপর দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মেয়েশিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে। সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি ও দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনাও কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

দিনের শেষভাগে তৃতীয় নিখোঁজের খবর আসে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড় এলাকা থেকে। নিখোঁজ হওয়া তৌফিক হোসাইন কুষ্টিয়ার সানআপ স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। পরিবারের দাবি, শুক্রবার দুপুর ৩টার পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যরা জানান, তৌফিক নিয়মিত পড়াশোনা করত এবং পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করেছিল। হঠাৎ তার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, একই দিনে তিন শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও নজরদারি বৃদ্ধির দাবি উঠেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ তিনজনের ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুত তাদের সন্ধান পাওয়া যায়।

এদিকে কুষ্টিয়া মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজদের বিষয়ে পরিবারগুলো যোগাযোগ করেছে এবং বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্ভাব্য বিভিন্ন দিক তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশু-কিশোরদের একা বাইরে পাঠানোর ক্ষেত্রে পরিবারগুলোকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সাধারণ মানুষও নিখোঁজদের খোঁজে সামাজিকভাবে সহযোগিতা করছেন। পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ, কেউ যদি নিখোঁজ এই তিনজনের সন্ধান পেয়ে থাকেন, তাহলে দ্রুত কুষ্টিয়া মডেল থানায় যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।

আরোও পড়ুন – শ্রীনগরে স্কুলপথে নিখোঁজ কিশোরী, থানায় অপহরণের অভিযোগ

কুষ্টিয়ায় একদিনে নিখোঁজ তিনজন, সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে পরিবার

মে ২৩, ২০২৬

ইমরান হোসেন, কুষ্টিয়াঃ

সারাদেশে শিশু নিখোঁজ, ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে যখন উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে, ঠিক সেই সময় কুষ্টিয়ায় একদিনে তিনজন কিশোর-কিশোরীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার (২২ মে) দিনের বিভিন্ন সময়ে পৃথক এলাকা থেকে তিন শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শহরজুড়ে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। বিশেষ করে অভিভাবকদের মধ্যে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্ক আরও বেড়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্থানীয়রা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ঘটে যাওয়া নানা অপরাধের ঘটনায় মানুষের মানসিক চাপ বেড়েছে, আর এর মধ্যেই কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ তিনজনের সংবাদ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

নিখোঁজদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে নিখোঁজ হয় মোঃ সাবিদ (১৪) নামের এক কিশোর। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে কুষ্টিয়া এনএস রোডের রক্সি গলি এলাকা থেকে তাকে শেষবার দেখা যায়। পরে তোফাজ্জেল হেলথ সেন্টার (রতন ক্লিনিক) এলাকার আশপাশে তার অবস্থান ছিল বলে জানা গেলেও এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান পাননি। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারটির দাবি, সাবিদ খুবই শান্ত স্বভাবের ছেলে এবং পূর্বে কখনও বাড়ি থেকে এভাবে নিখোঁজ হয়নি। ফলে কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কিনা, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।

এর কিছুক্ষণ পর আরেকটি নিখোঁজের ঘটনা সামনে আসে। রুপা খাতুন (১৩/১৪) নামের এক কিশোরী শুক্রবার বিকেলের দিকে বাসা থেকে মাদ্রাসায় যাওয়ার কথা বলে বের হয়। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার এলোঙ্গী রেলপাড়া এলাকায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্ধ্যার পর মাদ্রাসায় খাবার পৌঁছে দিতে গেলে তারা জানতে পারেন রুপা ওইদিন মাদ্রাসায় যায়নি। এরপর থেকেই পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা বলছেন, একদিনে পরপর দুই শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মেয়েশিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে। সামাজিকভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি ও দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনাও কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ পরিস্থিতিকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

দিনের শেষভাগে তৃতীয় নিখোঁজের খবর আসে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড় এলাকা থেকে। নিখোঁজ হওয়া তৌফিক হোসাইন কুষ্টিয়ার সানআপ স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। পরিবারের দাবি, শুক্রবার দুপুর ৩টার পর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের সদস্যরা জানান, তৌফিক নিয়মিত পড়াশোনা করত এবং পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিক আচরণ করেছিল। হঠাৎ তার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, একই দিনে তিন শিক্ষার্থীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে প্রশাসনের দ্রুত তদন্ত ও নজরদারি বৃদ্ধির দাবি উঠেছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিখোঁজ তিনজনের ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে দ্রুত তাদের সন্ধান পাওয়া যায়।

এদিকে কুষ্টিয়া মডেল থানা সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজদের বিষয়ে পরিবারগুলো যোগাযোগ করেছে এবং বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্ভাব্য বিভিন্ন দিক তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশু-কিশোরদের একা বাইরে পাঠানোর ক্ষেত্রে পরিবারগুলোকে আরও সতর্ক থাকতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সাধারণ মানুষও নিখোঁজদের খোঁজে সামাজিকভাবে সহযোগিতা করছেন। পরিবারের সদস্যদের অনুরোধ, কেউ যদি নিখোঁজ এই তিনজনের সন্ধান পেয়ে থাকেন, তাহলে দ্রুত কুষ্টিয়া মডেল থানায় যোগাযোগ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুষ্টিয়ায় নিখোঁজ তিন শিক্ষার্থীর এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।

আরোও পড়ুন – শ্রীনগরে স্কুলপথে নিখোঁজ কিশোরী, থানায় অপহরণের অভিযোগ