মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে ভয়াবহ পিকআপ দুর্ঘটনাে একজন হেল্পার নিহত ও চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে, ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে আমতলী উপজেলার চুনাখালী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি হলেন টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার ফুলকি গ্রামের আইয়ুব মোল্লার ছেলে মো. আজাদ মোল্লা (২৭)। আহত চালক মেহেদী (২৮) বর্তমানে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভোরবেলায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, টাঙ্গাইল থেকে আসবাবপত্র বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ন-১২-৫৯৭৭) আমতলীর দিকে যাচ্ছিল। পথে চুনাখালী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ গাড়িটির বাম পাশের চাকা বিকট শব্দে ফেটে যায়। এতে চালক মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। নিয়ন্ত্রণহীন পিকআপটি দ্রুতগতিতে ব্রিজের কংক্রিটের রেলিংয়ের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। ভয়াবহ এই পিকআপ দুর্ঘটনায় গাড়ির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে আটকা পড়েন চালক ও হেল্পার।
দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় আধাঘণ্টার চেষ্টায় পিকআপের লোহার বডি কেটে আহতদের বের করা হয়। তবে উদ্ধারকর্মীরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হেল্পার আজাদ মোল্লা ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ধাক্কা এতটাই তীব্র ছিল যে ব্রিজের রেলিংয়ের একটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গুরুতর আহত চালক মেহেদীকে দ্রুত আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুল হোসেন জানান, আহত ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার মাথা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লেগেছে। চিকিৎসক আরও জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রয়োজন হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হতে পারে। এদিকে নিহত আজাদ মোল্লার স্বজনদের কাছে খবর পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি জব্দ করেছে। নিহতের মরদেহ থানায় আনা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।” তিনি আরও জানান, মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত গতি ও অনিয়মিত যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণের কারণে প্রায়ই এমন পিকআপ দুর্ঘটনা ঘটছে। চালকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কুয়াকাটা মহাসড়কে ভারী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু অনেক গাড়িই পর্যাপ্ত ফিটনেস পরীক্ষা ছাড়া চলাচল করছে। বিশেষ করে পুরোনো চাকা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত মহাসড়কে কঠোর নজরদারি এবং যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এই পিকআপ দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
আরোও পড়ুন – সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু
কুয়াকাটা মহাসড়কে পিকআপ দুর্ঘটনা, চাকা ফেটে ব্রিজে ধাক্কা লেগে হেল্পার নিহত
মো. আতিকুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে ভয়াবহ পিকআপ দুর্ঘটনাে একজন হেল্পার নিহত ও চালক গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৬ মে, ২০২৬) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে আমতলী উপজেলার চুনাখালী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তি হলেন টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার ফুলকি গ্রামের আইয়ুব মোল্লার ছেলে মো. আজাদ মোল্লা (২৭)। আহত চালক মেহেদী (২৮) বর্তমানে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভোরবেলায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, টাঙ্গাইল থেকে আসবাবপত্র বোঝাই একটি পিকআপ ভ্যান (ঢাকা মেট্রো-ন-১২-৫৯৭৭) আমতলীর দিকে যাচ্ছিল। পথে চুনাখালী ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ গাড়িটির বাম পাশের চাকা বিকট শব্দে ফেটে যায়। এতে চালক মুহূর্তের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। নিয়ন্ত্রণহীন পিকআপটি দ্রুতগতিতে ব্রিজের কংক্রিটের রেলিংয়ের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। ভয়াবহ এই পিকআপ দুর্ঘটনায় গাড়ির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ভেতরে আটকা পড়েন চালক ও হেল্পার।
দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় আধাঘণ্টার চেষ্টায় পিকআপের লোহার বডি কেটে আহতদের বের করা হয়। তবে উদ্ধারকর্মীরা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হেল্পার আজাদ মোল্লা ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার ধাক্কা এতটাই তীব্র ছিল যে ব্রিজের রেলিংয়ের একটি অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গুরুতর আহত চালক মেহেদীকে দ্রুত আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজমুল হোসেন জানান, আহত ব্যক্তির অবস্থা আশঙ্কাজনক। তার মাথা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লেগেছে। চিকিৎসক আরও জানান, প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে প্রয়োজন হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হতে পারে। এদিকে নিহত আজাদ মোল্লার স্বজনদের কাছে খবর পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ মো. হাচনাইন পারভেজ বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি জব্দ করেছে। নিহতের মরদেহ থানায় আনা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।” তিনি আরও জানান, মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত গতি ও অনিয়মিত যানবাহন রক্ষণাবেক্ষণের কারণে প্রায়ই এমন পিকআপ দুর্ঘটনা ঘটছে। চালকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, কুয়াকাটা মহাসড়কে ভারী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চাপ দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু অনেক গাড়িই পর্যাপ্ত ফিটনেস পরীক্ষা ছাড়া চলাচল করছে। বিশেষ করে পুরোনো চাকা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত মহাসড়কে কঠোর নজরদারি এবং যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। এই পিকআপ দুর্ঘটনা আবারও মহাসড়কের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
আরোও পড়ুন – সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহীর মর্মান্তিক মৃত্যু