রাজশাহীতে শহীদ জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী পালিত, বিএনপির দিনব্যাপী কর্মসূচি

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীতে গভীর শোক, শ্রদ্ধা ও রাজনৈতিক আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী। শহীদ জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর বিএনপি, জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, গণসংযোগ এবং দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়। বিএনপির নেতারা শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ ও দেশের প্রতি তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন।

শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় নগরীর মালোপাড়ায় মহানগর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দলীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে শহীদ জিয়াউর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও উপস্থিত ছিলেন। শহীদ জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে শহীদ জিয়ার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু দিনটিকে জাতির জন্য গভীর শোকের দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাষ্ট্রপতিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম পথপ্রদর্শক। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন আজও দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশা, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক ও রাসিকের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বক্তারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শহীদ জিয়ার আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা জরুরি। তারা দাবি করেন, দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শহীদ জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল আবেগ ও উদ্দীপনার মিশ্র প্রতিফলন।

এদিকে জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোও পৃথক ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আলোচনা সভা, কোরআন খতম, মিলাদ মাহফিল ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। কয়েকটি এলাকায় রক্তদান কর্মসূচিও আয়োজন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপি তাদের সাংগঠনিক শক্তি আরও দৃঢ় করার বার্তা দিচ্ছে। রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে শহীদ জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবে বিএনপি। তাদের দাবি, দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা ফিরিয়ে আনতে শহীদ জিয়ার আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘিরে রাজশাহী নগরীতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দলীয় নেতারা।

আরোও পড়ুন – ঈদে রাজশাহীতে র‍্যাবের কড়া নিরাপত্তা, নজরদারিতে ৫ জেলা!

রাজশাহীতে শহীদ জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী পালিত, বিএনপির দিনব্যাপী কর্মসূচি

মে ৩০, ২০২৬

মোস্তাফিজুর রহমান রানা, রাজশাহী প্রতিনিধিঃ

রাজশাহীতে গভীর শোক, শ্রদ্ধা ও রাজনৈতিক আবেগঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তম-এর ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী। শহীদ জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর বিএনপি, জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলো দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করে। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা, গণসংযোগ এবং দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করা হয়। বিএনপির নেতারা শহীদ জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শ ও দেশের প্রতি তাঁর অবদানের কথা স্মরণ করেন।

শনিবার সকাল সাড়ে ৭টায় নগরীর মালোপাড়ায় মহানগর বিএনপি কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, দলীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা হয়। পরে শহীদ জিয়াউর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও উপস্থিত ছিলেন। শহীদ জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে শহীদ জিয়ার ভূমিকা ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু দিনটিকে জাতির জন্য গভীর শোকের দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান শুধু একজন রাষ্ট্রপতিই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম পথপ্রদর্শক। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন আজও দেশের মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। তিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান এবং বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈশা, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদ মামুন, সাধারণ সম্পাদক ও রাসিকের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। বক্তারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় শহীদ জিয়ার আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা জরুরি। তারা দাবি করেন, দেশের গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শহীদ জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে নেতাকর্মীদের মধ্যে ছিল আবেগ ও উদ্দীপনার মিশ্র প্রতিফলন।

এদিকে জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনগুলোও পৃথক ব্যানারে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আলোচনা সভা, কোরআন খতম, মিলাদ মাহফিল ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়। কয়েকটি এলাকায় রক্তদান কর্মসূচিও আয়োজন করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপি তাদের সাংগঠনিক শক্তি আরও দৃঢ় করার বার্তা দিচ্ছে। রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে শহীদ জিয়ার শাহাদতবার্ষিকী ঘিরে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শকে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাবে বিএনপি। তাদের দাবি, দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক সহনশীলতা ফিরিয়ে আনতে শহীদ জিয়ার আদর্শ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘিরে রাজশাহী নগরীতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কর্মসূচি সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন দলীয় নেতারা।

আরোও পড়ুন – ঈদে রাজশাহীতে র‍্যাবের কড়া নিরাপত্তা, নজরদারিতে ৫ জেলা!