মোস্তাফিজুর রহমান রানা,রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীতে পরিবহন খাতে কর্মরত শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ৩ দফা দাবি ঘোষণা করেছে রাজশাহী জেলা কার মাইক্রো শ্রমিক ইউনিয়ন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম ও কর্মক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা কার মাইক্রো শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় এই ঘোষণা নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সংগঠন সবসময় সক্রিয় থাকবে এবং প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হবে।
ইউনিয়নের ঘোষিত ৩ দফা দাবির মধ্যে প্রথম দফায় বলা হয়েছে, সকল চালক ও শ্রমিকের জন্য দৈনিক ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। নেতৃবৃন্দের দাবি, অতিরিক্ত সময় কাজ করানোর কারণে অনেক শ্রমিক শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। দ্বিতীয় দফায় দুই ঈদে পূর্ণাঙ্গ বোনাস প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে। কার মাইক্রো শ্রমিকদের মতে, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে ঈদের সময় পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলতে এই বোনাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয় দফায় কোনো ড্রাইভারকে চাকরিচ্যুত করার আগে অন্তত তিন মাসের নোটিশ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে, যাতে শ্রমিকরা হঠাৎ কর্মহীন হয়ে মানবেতর পরিস্থিতিতে না পড়েন।
শুধু দাবি আদায় নয়, ইউনিয়ন কার্ডধারী সদস্যদের জন্য বেশ কিছু কল্যাণমূলক উদ্যোগও ঘোষণা করা হয়েছে। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সদস্যদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা চালু করা হবে, যাতে দরিদ্র শ্রমিক পরিবারের সন্তানরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে। এছাড়া কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারকে মেয়ের বিয়ের সময় এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো কার মাইক্রো শ্রমিক নিহত হলে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ে ইউনিয়ন সহায়তা করবে। পাশাপাশি ইউনিয়নের নিজস্ব তহবিল থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রাজশাহী জেলা কার মাইক্রো শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ জেলাহাজ হোসেন রাজশাহী পুলিশ কমিশনারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি জনগণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজশাহীতে প্রতিদিন শত শত কার মাইক্রো শ্রমিক জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন রুটে কাজ করছেন। কিন্তু কর্মঘণ্টা, বেতন-বোনাস ও চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় ইউনিয়নের নতুন এই উদ্যোগ শ্রমিকদের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক শ্রমিক মনে করছেন, ঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং কর্মক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
রাজশাহী জেলা কার মাইক্রো শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে খুব শিগগিরই বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নতুন সদস্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং শ্রমিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও গ্রহণ করা হবে। তারা বলেন, “শ্রমিকের অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সংগঠনটি সবসময় শ্রমজীবী মানুষের পাশে থাকবে।
আরোও পড়ুন – রাজশাহীতে ঢোপকল সংরক্ষণে রাসিকের উদ্যোগ: ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনছে নগর ইতিহাস
রাজশাহীতে কার মাইক্রো শ্রমিকদের ৩ দফা দাবি ঘোষণা
মোস্তাফিজুর রহমান রানা,রাজশাহী প্রতিনিধিঃ
রাজশাহীতে পরিবহন খাতে কর্মরত শ্রমিকদের অধিকার ও ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ৩ দফা দাবি ঘোষণা করেছে রাজশাহী জেলা কার মাইক্রো শ্রমিক ইউনিয়ন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যা, অনিয়ম ও কর্মক্ষেত্রে অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা কার মাইক্রো শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় এই ঘোষণা নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সংগঠন সবসময় সক্রিয় থাকবে এবং প্রয়োজনে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হবে।
ইউনিয়নের ঘোষিত ৩ দফা দাবির মধ্যে প্রথম দফায় বলা হয়েছে, সকল চালক ও শ্রমিকের জন্য দৈনিক ৮ ঘণ্টা কর্মঘণ্টা বাধ্যতামূলকভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। নেতৃবৃন্দের দাবি, অতিরিক্ত সময় কাজ করানোর কারণে অনেক শ্রমিক শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। দ্বিতীয় দফায় দুই ঈদে পূর্ণাঙ্গ বোনাস প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে। কার মাইক্রো শ্রমিকদের মতে, বর্তমান দ্রব্যমূল্যের বাজারে ঈদের সময় পরিবার নিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলতে এই বোনাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তৃতীয় দফায় কোনো ড্রাইভারকে চাকরিচ্যুত করার আগে অন্তত তিন মাসের নোটিশ প্রদানের দাবি জানানো হয়েছে, যাতে শ্রমিকরা হঠাৎ কর্মহীন হয়ে মানবেতর পরিস্থিতিতে না পড়েন।
শুধু দাবি আদায় নয়, ইউনিয়ন কার্ডধারী সদস্যদের জন্য বেশ কিছু কল্যাণমূলক উদ্যোগও ঘোষণা করা হয়েছে। ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সদস্যদের সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা চালু করা হবে, যাতে দরিদ্র শ্রমিক পরিবারের সন্তানরা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে। এছাড়া কন্যাদায়গ্রস্ত পরিবারকে মেয়ের বিয়ের সময় এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় কোনো কার মাইক্রো শ্রমিক নিহত হলে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায়ে ইউনিয়ন সহায়তা করবে। পাশাপাশি ইউনিয়নের নিজস্ব তহবিল থেকেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি রাজশাহী জেলা কার মাইক্রো শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। এ সময় ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ শফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ জেলাহাজ হোসেন রাজশাহী পুলিশ কমিশনারকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়ন, যানবাহন চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। নেতৃবৃন্দ বলেন, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি জনগণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাও তাদের অন্যতম লক্ষ্য।
পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজশাহীতে প্রতিদিন শত শত কার মাইক্রো শ্রমিক জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন রুটে কাজ করছেন। কিন্তু কর্মঘণ্টা, বেতন-বোনাস ও চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ অবস্থায় ইউনিয়নের নতুন এই উদ্যোগ শ্রমিকদের মাঝে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক শ্রমিক মনে করছেন, ঘোষিত দাবিগুলো বাস্তবায়িত হলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে এবং কর্মক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।
রাজশাহী জেলা কার মাইক্রো শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা জানান, শ্রমিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে খুব শিগগিরই বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নতুন সদস্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং শ্রমিকদের সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগও গ্রহণ করা হবে। তারা বলেন, “শ্রমিকের অধিকার, আমাদের অঙ্গীকার”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সংগঠনটি সবসময় শ্রমজীবী মানুষের পাশে থাকবে।
আরোও পড়ুন – রাজশাহীতে ঢোপকল সংরক্ষণে রাসিকের উদ্যোগ: ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনছে নগর ইতিহাস