সীমান্ত রক্ষা ও রাষ্ট্র সংস্কারে ঐক্যের আহ্বান জানালেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

শাহরিয়ার শাকিল, বড়লেখা প্রতিনিধিঃ

দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর রাষ্ট্র সংস্কার এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি। একই সঙ্গে সীমান্তে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

রোববার (২৮ জুন) মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি ছাড়াও ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা, এনসিপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মী, যুবশক্তি, ছাত্রশক্তি এবং কেন্দ্রীয় যুবশক্তির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত শুধু একটি ভৌগোলিক রেখা নয়; এটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রতীক। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলি ও হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় রাষ্ট্রকে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সীমান্তে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, সুশাসন, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন যুগোপযোগী সংস্কার। একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস বা রাজনৈতিক সমঝোতার সুযোগ নেই। তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং কার্যকর রাষ্ট্র সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভার শেষ পর্যায়ে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব, সামাজিক সম্প্রীতি, শান্তি ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে এগিয়ে গেলে দেশ আরও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক অঙ্গনের সব পক্ষকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

আরোও পড়ুন – বড়লেখায় জনদুর্ভোগ নিরসনে ইউএনও’র সাথে নিসচার মতবিনিময়

সীমান্ত রক্ষা ও রাষ্ট্র সংস্কারে ঐক্যের আহ্বান জানালেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

জুন ২৯, ২০২৬

শাহরিয়ার শাকিল, বড়লেখা প্রতিনিধিঃ

দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, রাষ্ট্র সংস্কার বাস্তবায়ন এবং জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর রাষ্ট্র সংস্কার এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি। একই সঙ্গে সীমান্তে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

রোববার (২৮ জুন) মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি ছাড়াও ১১ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতারা, এনসিপির জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাকর্মী, যুবশক্তি, ছাত্রশক্তি এবং কেন্দ্রীয় যুবশক্তির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সীমান্ত নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক চর্চা এবং জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত শুধু একটি ভৌগোলিক রেখা নয়; এটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রতীক। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেশের জন্য উদ্বেগের বিষয়। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলি ও হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় রাষ্ট্রকে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে এবং সীমান্তে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। তাঁর ভাষায়, সুশাসন, আইনের শাসন, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করতে হলে প্রয়োজন যুগোপযোগী সংস্কার। একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

জুলাইয়ের শহীদদের স্মরণ করে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তাঁদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস বা রাজনৈতিক সমঝোতার সুযোগ নেই। তাঁদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে ন্যায়বিচার, সুশাসন এবং কার্যকর রাষ্ট্র সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভার শেষ পর্যায়ে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব, সামাজিক সম্প্রীতি, শান্তি ও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে সব রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে এগিয়ে গেলে দেশ আরও স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক অঙ্গনের সব পক্ষকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখারও আহ্বান জানান তিনি।

আরোও পড়ুন – বড়লেখায় জনদুর্ভোগ নিরসনে ইউএনও’র সাথে নিসচার মতবিনিময়