হাইমচরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ৫ জনের কারাদণ্ড

৪০

আফতাবুল ইসলাম মেহেরাব, হাইমচর প্রতিনিধিঃ

চাঁদপুরের হাইমচরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে পৃথক দুটি অভিযানে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ বিক্রি ও আহরণের অভিযোগে আটজনকে আটক করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৫৩ কেজি ৫০০ গ্রাম ইলিশ এবং প্রায় এক লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক তিনজনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের ঈশানবালাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

প্রথম অভিযানটি শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের ঈশানবালায় কাসেমুল উলুম মাদ্রাসাসংলগ্ন এলাকায় পরিচালনা করা হয়। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা সেখানে অভিযান চালান। এতে উপজেলা প্রশাসন, হাইমচর থানা পুলিশ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশের আহরণ ও বিক্রি বন্ধ করা এবং প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এ সময় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ বিক্রির অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়।

প্রথম অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রায় ১১৮ কেজি ৫০০ গ্রাম ইলিশ জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা মাছ উপজেলার ১২টি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। অভিযানের পর এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানানো হয়েছে। তবে আটক দুজনের নাম-পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করা গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যাবে।

এদিকে, একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে মা ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগে আরও ছয়জনকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ কেজি ইলিশ ও এক লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬-এর আওতায় পরিচালিত এ অভিযানে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ আহরণ বন্ধ করা এবং অবৈধভাবে ব্যবহৃত জাল জব্দ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জব্দ করা ইলিশ চারটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে, জব্দ করা কারেন্ট জাল বিধি অনুযায়ী বিনষ্ট করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযানে আটক ছয়জনের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে অভিভাবকদের জিম্মায় তাঁদের হস্তান্তর করা হয়। বাকি তিনজনকে প্রত্যেককে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় অভিযানে মোট তিনজনের কারাদণ্ড হয়। প্রথম অভিযানে আটক দুজনের বিষয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান থাকলেও তাঁদের শাস্তি বা পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই দুই অভিযানে আটক আটজনের মধ্যে পাঁচজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে—এ তথ্যের বাইরে অন্য কোনো শাস্তির বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা ও দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি বন্ধ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা এবং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। হাইমচরে পরিচালিত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬-এর মতো সমন্বিত কার্যক্রমে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে হাইমচরে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অগ্রগতি, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা এবং জব্দ করা জালের পরিমাণ সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন। মা ইলিশ রক্ষায় আইন মেনে চলা, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ আহরণ ও বিক্রি থেকে বিরত থাকা এবং অবৈধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরোও পড়ুন – হাইমচর আইডিয়াল স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ

হাইমচরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে ৫ জনের কারাদণ্ড

অক্টোবর ২৪, ২০২৬
৪০

আফতাবুল ইসলাম মেহেরাব, হাইমচর প্রতিনিধিঃ

চাঁদপুরের হাইমচরে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে পৃথক দুটি অভিযানে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ বিক্রি ও আহরণের অভিযোগে আটজনকে আটক করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৫৩ কেজি ৫০০ গ্রাম ইলিশ এবং প্রায় এক লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক তিনজনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের ঈশানবালাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ডের সমন্বয়ে এসব অভিযান পরিচালিত হয়।

প্রথম অভিযানটি শনিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের ঈশানবালায় কাসেমুল উলুম মাদ্রাসাসংলগ্ন এলাকায় পরিচালনা করা হয়। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যরা সেখানে অভিযান চালান। এতে উপজেলা প্রশাসন, হাইমচর থানা পুলিশ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় এবং কোস্টগার্ডের সদস্যরা অংশ নেন। অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশের আহরণ ও বিক্রি বন্ধ করা এবং প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এ সময় নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ বিক্রির অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়।

প্রথম অভিযানে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রায় ১১৮ কেজি ৫০০ গ্রাম ইলিশ জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা মাছ উপজেলার ১২টি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। অভিযানের পর এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানানো হয়েছে। তবে আটক দুজনের নাম-পরিচয়, তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং মামলার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করা গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ পাওয়া যাবে।

এদিকে, একই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত দ্বিতীয় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ অভিযানে মা ইলিশ আহরণে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগে আরও ছয়জনকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ৩৫ কেজি ইলিশ ও এক লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬-এর আওতায় পরিচালিত এ অভিযানে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ আহরণ বন্ধ করা এবং অবৈধভাবে ব্যবহৃত জাল জব্দ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। জব্দ করা ইলিশ চারটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। অন্যদিকে, জব্দ করা কারেন্ট জাল বিধি অনুযায়ী বিনষ্ট করা হয়।

দ্বিতীয় অভিযানে আটক ছয়জনের মধ্যে তিনজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাঁদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। পরে অভিভাবকদের জিম্মায় তাঁদের হস্তান্তর করা হয়। বাকি তিনজনকে প্রত্যেককে ১০ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় অভিযানে মোট তিনজনের কারাদণ্ড হয়। প্রথম অভিযানে আটক দুজনের বিষয়ে নিয়মিত মামলা দায়েরের কার্যক্রম চলমান থাকলেও তাঁদের শাস্তি বা পরবর্তী আইনি সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই দুই অভিযানে আটক আটজনের মধ্যে পাঁচজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে—এ তথ্যের বাইরে অন্য কোনো শাস্তির বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।

মা ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা ও দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুত ও বিক্রি বন্ধ রাখা গুরুত্বপূর্ণ। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়াতে সহায়তা করতে পারে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা এবং আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। হাইমচরে পরিচালিত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬-এর মতো সমন্বিত কার্যক্রমে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে হাইমচরে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অগ্রগতি, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা এবং জব্দ করা জালের পরিমাণ সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রয়োজন। মা ইলিশ রক্ষায় আইন মেনে চলা, নিষিদ্ধ সময়ে মাছ আহরণ ও বিক্রি থেকে বিরত থাকা এবং অবৈধ জাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করা মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আরোও পড়ুন – হাইমচর আইডিয়াল স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ

⇧