নোয়াখালীতে আবাসিক হোটেলে অভিযান, ৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক ৬

৩৮

নজরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার (নোয়াখালী)

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ছয়জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হক টাওয়ারের নবম তলায় অবস্থিত মিড নাইট আবাসিক হোটেলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নোয়াখালী জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযানের বিষয়টি জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই (নিঃ) মো. নূরুল আলম। এ সময় তাঁর সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের একপর্যায়ে ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের দেহ তল্লাশি করে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে উদ্ধার করা ইয়াবার উৎস, সেগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল কিংবা কার কাছে কী পরিমাণ পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর এলাকার মো. সাইফুল (৩২), মো. ইকবাল হোসেন (২৮) ও মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৭)। এ ছাড়া নোয়াখালী সদর উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জহিরুল ইসলাম জুয়েল (২৫) এবং বেগমগঞ্জ উপজেলার নরোত্তমপুর এলাকার সাকিবুল ইসলাম (৩০) ও মো. নিজাম (৩০) রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগের পৃথক ভূমিকা রয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তদন্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফল জানা প্রয়োজন।

জেলা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলা দায়েরের পর তদন্তের মাধ্যমে উদ্ধার করা মাদকের প্রকৃত উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার সুযোগ থাকবে। তবে এ বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি, আদালতে হাজির করা কিংবা পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই মামলার পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট থানা ও জেলা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।

নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অভিযানের এসব তথ্য জানান। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, অভিযানের সময়, স্থান এবং উদ্ধার করা ইয়াবার পরিমাণ সম্পর্কে জানা গেছে। এ ঘটনায় পুলিশি অভিযান ও মাদক উদ্ধারসংক্রান্ত তথ্য সামনে এলেও তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আগে অতিরিক্ত কোনো অভিযোগকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।

চৌমুহনী পৌরসভার একটি আবাসিক হোটেলে পরিচালিত এই অভিযান স্থানীয়ভাবে মাদকবিরোধী আইন প্রয়োগের বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনার কারণ, সেখানে আগে থেকে কোনো গোয়েন্দা তথ্য ছিল কি না কিংবা অভিযানের আগে কত দিন ধরে নজরদারি চলেছে, সে সম্পর্কে পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ নেই। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো, মিড নাইট আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক এবং ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের কথা জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না। এদিকে আবাসিক হোটেলে অভিযানসংক্রান্ত ঘটনায় উদ্ধার করা মাদকের উৎস ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি জানার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। নোয়াখালী জেলা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বেগমগঞ্জ থানায় আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদসূত্র: নোয়াখালী জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আরোও পড়ুন – হাইমচর আইডিয়াল স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ

নোয়াখালীতে আবাসিক হোটেলে অভিযান, ৩০ পিস ইয়াবাসহ আটক ৬

অক্টোবর ২৩, ২০২৬
৩৮

নজরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার (নোয়াখালী)

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ছয়জনকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হক টাওয়ারের নবম তলায় অবস্থিত মিড নাইট আবাসিক হোটেলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। নোয়াখালী জেলা পুলিশের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে অভিযানের বিষয়টি জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযানটি পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই (নিঃ) মো. নূরুল আলম। এ সময় তাঁর সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের একপর্যায়ে ছয়জনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের দেহ তল্লাশি করে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়। তবে উদ্ধার করা ইয়াবার উৎস, সেগুলো কোথা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল কিংবা কার কাছে কী পরিমাণ পাওয়া গেছে, সে বিষয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বেগমগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর এলাকার মো. সাইফুল (৩২), মো. ইকবাল হোসেন (২৮) ও মো. সাদ্দাম হোসেন (৩৭)। এ ছাড়া নোয়াখালী সদর উপজেলার লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার জহিরুল ইসলাম জুয়েল (২৫) এবং বেগমগঞ্জ উপজেলার নরোত্তমপুর এলাকার সাকিবুল ইসলাম (৩০) ও মো. নিজাম (৩০) রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগের পৃথক ভূমিকা রয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি ও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে তদন্ত এবং আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফল জানা প্রয়োজন।

জেলা পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। মামলা দায়েরের পর তদন্তের মাধ্যমে উদ্ধার করা মাদকের প্রকৃত উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার সুযোগ থাকবে। তবে এ বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি, আদালতে হাজির করা কিংবা পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই মামলার পরবর্তী অবস্থা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট থানা ও জেলা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।

নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে অভিযানের এসব তথ্য জানান। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আটক ব্যক্তিদের পরিচয়, অভিযানের সময়, স্থান এবং উদ্ধার করা ইয়াবার পরিমাণ সম্পর্কে জানা গেছে। এ ঘটনায় পুলিশি অভিযান ও মাদক উদ্ধারসংক্রান্ত তথ্য সামনে এলেও তদন্তের ফলাফল প্রকাশের আগে অতিরিক্ত কোনো অভিযোগকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।

চৌমুহনী পৌরসভার একটি আবাসিক হোটেলে পরিচালিত এই অভিযান স্থানীয়ভাবে মাদকবিরোধী আইন প্রয়োগের বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে আবাসিক হোটেলে অভিযান পরিচালনার কারণ, সেখানে আগে থেকে কোনো গোয়েন্দা তথ্য ছিল কি না কিংবা অভিযানের আগে কত দিন ধরে নজরদারি চলেছে, সে সম্পর্কে পুলিশের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ নেই। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো, মিড নাইট আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে আটক এবং ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধারের কথা জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করা যায় না। এদিকে আবাসিক হোটেলে অভিযানসংক্রান্ত ঘটনায় উদ্ধার করা মাদকের উৎস ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি জানার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্টরা। নোয়াখালী জেলা পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বেগমগঞ্জ থানায় আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়া হচ্ছে।

সংবাদসূত্র: নোয়াখালী জেলা পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

আরোও পড়ুন – হাইমচর আইডিয়াল স্কুলে অভিভাবক সমাবেশ ও পুরস্কার বিতরণ

⇧