রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

৩৫

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শুটার শাকিল নামে পরিচিত এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার তারাব পৌরসভার বরাব এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শাকিলকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তারাব পৌরসভার বরাব ও রসুলপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং নির্মাণকাজ নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে শুটার শাকিলের অনুসারী ও ছাত্রদল নেতা মিরাজের পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই দুই এলাকায় কেউ নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের লোকজনের কাছ থেকে চাপের মুখে পড়তেন। অভিযোগ রয়েছে, বাড়ি নির্মাণের জন্য চাঁদা দাবি করা হতো অথবা নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ ও নির্মাণকাজ নির্দিষ্ট লোকজনকে দেওয়ার জন্য বলা হতো। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি কারামুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরার পর শুটার শাকিলকে ঘিরে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। কয়েক দিন আগে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শুটার শাকিলের নেতৃত্বে সিয়ামসহ কয়েকজন ছাত্রদল নেতা মিরাজ ও মাহিনের ওপর হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই হামলার সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলেও স্থানীয়দের দাবি। ঘটনার পর শাকিল, সিয়াম ও তাঁদের সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে সূত্রের ভাষ্য। তবে ওই ঘটনার বিষয়ে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বরাব এলাকায় শুটার শাকিলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাদের দাবি, ছাত্রদল নেতা মিরাজের পক্ষের লোকজন তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হামলার সময় ঠিক কতজন উপস্থিত ছিলেন, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে তাৎক্ষণিক কোনো কারণ ছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর উভয় পক্ষের বক্তব্য জানতে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কারও বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে পূর্বের বিরোধ, হামলার অভিযোগ এবং মঙ্গলবারের ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, তারাব পৌরসভার বরাব এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শুটার শাকিল নামে একজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

বরাব ও রসুলপুর এলাকায় বাড়িঘর নির্মাণ এবং স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে বিরোধের যে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর প্রকৃত চিত্র তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে নির্মাণকাজে বাধা, চাঁদা দাবি কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ থাকলে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসা, হামলার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের শনাক্তের বিষয়েও পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, রূপগঞ্জের বরাব এলাকায় দুই পক্ষের বিরোধের জেরে সংঘর্ষ ও একজনের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার পেছনের অভিযোগগুলোর সত্যতা, হামলায় কারা অংশ নিয়েছে এবং এর আগে সংঘটিত বলে দাবি করা হামলার সঙ্গে মঙ্গলবারের ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আরোও পড়ুন – নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আলোচনায় যারা

রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, আহত ১

নভেম্বর ৪, ২০২৬
৩৫

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শুটার শাকিল নামে পরিচিত এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার তারাব পৌরসভার বরাব এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত শাকিলকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়ালেও বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তারাব পৌরসভার বরাব ও রসুলপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি এবং নির্মাণকাজ নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে শুটার শাকিলের অনুসারী ও ছাত্রদল নেতা মিরাজের পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই দুই এলাকায় কেউ নতুন বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে সংশ্লিষ্ট পক্ষের লোকজনের কাছ থেকে চাপের মুখে পড়তেন। অভিযোগ রয়েছে, বাড়ি নির্মাণের জন্য চাঁদা দাবি করা হতো অথবা নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ ও নির্মাণকাজ নির্দিষ্ট লোকজনকে দেওয়ার জন্য বলা হতো। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, সম্প্রতি কারামুক্ত হয়ে এলাকায় ফেরার পর শুটার শাকিলকে ঘিরে নতুন করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। কয়েক দিন আগে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শুটার শাকিলের নেতৃত্বে সিয়ামসহ কয়েকজন ছাত্রদল নেতা মিরাজ ও মাহিনের ওপর হামলা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই হামলার সময় আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলেও স্থানীয়দের দাবি। ঘটনার পর শাকিল, সিয়াম ও তাঁদের সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে সূত্রের ভাষ্য। তবে ওই ঘটনার বিষয়ে থানায় কোনো মামলা বা অভিযোগের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বরাব এলাকায় শুটার শাকিলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। তাদের দাবি, ছাত্রদল নেতা মিরাজের পক্ষের লোকজন তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। হামলার সময় ঠিক কতজন উপস্থিত ছিলেন, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে তাৎক্ষণিক কোনো কারণ ছিল কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর উভয় পক্ষের বক্তব্য জানতে বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কারও বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে পূর্বের বিরোধ, হামলার অভিযোগ এবং মঙ্গলবারের ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিন জানান, তারাব পৌরসভার বরাব এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে শুটার শাকিল নামে একজন আহত হয়েছেন। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।

বরাব ও রসুলপুর এলাকায় বাড়িঘর নির্মাণ এবং স্থানীয় প্রভাব বিস্তারকে ঘিরে বিরোধের যে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর প্রকৃত চিত্র তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে নির্মাণকাজে বাধা, চাঁদা দাবি কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ থাকলে সেগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত ব্যক্তির চিকিৎসা, হামলার প্রকৃত কারণ এবং জড়িতদের শনাক্তের বিষয়েও পুলিশের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, রূপগঞ্জের বরাব এলাকায় দুই পক্ষের বিরোধের জেরে সংঘর্ষ ও একজনের আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার পেছনের অভিযোগগুলোর সত্যতা, হামলায় কারা অংশ নিয়েছে এবং এর আগে সংঘটিত বলে দাবি করা হামলার সঙ্গে মঙ্গলবারের ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আরোও পড়ুন – নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আলোচনায় যারা

⇧