স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহীঃ
রাজশাহী বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ, চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভাগের বিভিন্ন জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে সেবার বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলা সদর হাসপাতাল ও ৬৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
দায়িত্ব পালনে শুধু দাপ্তরিক নির্দেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি হাসপাতাল পরিদর্শনে গুরুত্ব দিচ্ছেন পরিচালক হাবিবুর রহমান। প্রতি মাসে বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় গিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার এবং ওষুধের মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি। রোগীদের চিকিৎসা পেতে কোথায় সমস্যা হচ্ছে, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না এবং হাসপাতালের পরিবেশ কতটা স্বাস্থ্যসম্মত, সেসব বিষয় সরেজমিনে দেখছেন। পরিদর্শনের সময় চিহ্নিত সমস্যাগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
স্বাস্থ্য বিভাগের এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য সরকারি হাসপাতালগুলোকে দালালমুক্ত করা। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের একটি অংশ দালালচক্রের কারণে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের শিকার হন। বিশেষ করে অসহায় ও গ্রামাঞ্চল থেকে আসা রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল চত্বরে দালালদের প্রবেশ ও তৎপরতা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অফিস চলাকালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাসপাতালের ভেতরে অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনাও রয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।
রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম চলছে। বিশেষ করে রাজশাহী জেলার পবা, দুর্গাপুর, মোহনপুর, চারঘাট, পুঠিয়া, বাঘা, গোদাগাড়ী, তানোর ও বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালমুক্ত পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়মিত নজরদারি ও প্রশাসনিক তৎপরতার ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে দালালদের অবাধ বিচরণ আগের তুলনায় কমেছে। তবে এই পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী করতে নিয়মিত অভিযান, অভিযোগ গ্রহণ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সরকারি ওষুধের সঠিক ব্যবহার এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, সকাল ৮টার মধ্যে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি বরাদ্দের ওষুধ যেন প্রকৃত রোগীদের হাতে পৌঁছায়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ওষুধের অপচয়, অনিয়ম ও সম্ভাব্য চুরি প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের ওয়ার্ড, শৌচাগার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়টিও তদারকির আওতায় রয়েছে।
রোগীদের সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীদের আচরণ উন্নত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ শুধু চিকিৎসক কিংবা ওষুধের ব্যবস্থা থাকলেই মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয় না; রোগীর প্রতি আন্তরিকতা, দ্রুত সেবা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অসীম কর্মকার বলেন, রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান শুধু একজন অভিভাবক নন, তিনি একজন সংস্কারক হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, নিয়মিত মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন এবং জিরো টলারেন্স নীতির কারণে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দালাল ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, সরকারি হাসপাতাল মূলত সাধারণ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল। তাই রোগীদের সন্তুষ্টি ও সেবার মান উন্নয়নই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট সবার প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে নাটোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী নাটোর জেলায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি নাটোর সদর হাসপাতালে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে এক দালালকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে রোগীদের হয়রানি বন্ধ এবং সেবার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু নির্দেশনা জারি নয়, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় হাসপাতালকেন্দ্রিক অনিয়ম প্রতিরোধের উদ্যোগ আরও কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতাল হবে গরিব ও অসহায় মানুষের শেষ ভরসার জায়গা। এখানে দালালদের কোনো স্থান নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সবার জন্য স্বাস্থ্য এবং মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্মার্ট স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং চিকিৎসার মান বাড়াতে এ ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে নিয়মিত পরিদর্শন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি, ওষুধের যথাযথ ব্যবহার, পরিচ্ছন্নতা এবং দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিচালক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে রাজশাহী বিভাগে নেওয়া এসব উদ্যোগের ইতিবাচক ফল ধরে রাখতে হলে প্রতিটি হাসপাতালেই নিয়মিত নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রোগীদের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা আরও বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এসব উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে রোগীরা কতটা হয়রানিমুক্ত, সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন, তার ওপর।
আরোও পড়ুন – রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের বক্তব্য নিয়ে ছাত্রদল নেতার পাল্টা প্রতিক্রিয়া
রাজশাহীতে হাসপাতাল সংস্কারে পরিচালক হাবিবুর রহমানের উদ্যোগ, দালালমুক্ত করতে অভিযান
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহীঃ
রাজশাহী বিভাগের সরকারি হাসপাতালগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়ন, দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ, চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিভাগের বিভিন্ন জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে সেবার বাস্তব চিত্র পর্যবেক্ষণ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের ৮টি জেলা সদর হাসপাতাল ও ৬৭টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকারি হাসপাতালগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
দায়িত্ব পালনে শুধু দাপ্তরিক নির্দেশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সরাসরি হাসপাতাল পরিদর্শনে গুরুত্ব দিচ্ছেন পরিচালক হাবিবুর রহমান। প্রতি মাসে বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় গিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার এবং ওষুধের মজুত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন তিনি। রোগীদের চিকিৎসা পেতে কোথায় সমস্যা হচ্ছে, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না এবং হাসপাতালের পরিবেশ কতটা স্বাস্থ্যসম্মত, সেসব বিষয় সরেজমিনে দেখছেন। পরিদর্শনের সময় চিহ্নিত সমস্যাগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি।
স্বাস্থ্য বিভাগের এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য সরকারি হাসপাতালগুলোকে দালালমুক্ত করা। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের একটি অংশ দালালচক্রের কারণে হয়রানি ও অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের শিকার হন। বিশেষ করে অসহায় ও গ্রামাঞ্চল থেকে আসা রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতাল চত্বরে দালালদের প্রবেশ ও তৎপরতা বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অফিস চলাকালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের হাসপাতালের ভেতরে অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণের নির্দেশনাও রয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করা হয়েছে।
রাজশাহী, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম চলছে। বিশেষ করে রাজশাহী জেলার পবা, দুর্গাপুর, মোহনপুর, চারঘাট, পুঠিয়া, বাঘা, গোদাগাড়ী, তানোর ও বাগমারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালালমুক্ত পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়মিত নজরদারি ও প্রশাসনিক তৎপরতার ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে দালালদের অবাধ বিচরণ আগের তুলনায় কমেছে। তবে এই পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী করতে নিয়মিত অভিযান, অভিযোগ গ্রহণ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে হাসপাতালের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, রোস্টার অনুযায়ী চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, সরকারি ওষুধের সঠিক ব্যবহার এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, সকাল ৮টার মধ্যে চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি বরাদ্দের ওষুধ যেন প্রকৃত রোগীদের হাতে পৌঁছায়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ওষুধের অপচয়, অনিয়ম ও সম্ভাব্য চুরি প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের ওয়ার্ড, শৌচাগার ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়টিও তদারকির আওতায় রয়েছে।
রোগীদের সঙ্গে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীদের আচরণ উন্নত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। কারণ শুধু চিকিৎসক কিংবা ওষুধের ব্যবস্থা থাকলেই মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয় না; রোগীর প্রতি আন্তরিকতা, দ্রুত সেবা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদানের বিষয়গুলোও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে রাজশাহী জেলার বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অসীম কর্মকার বলেন, রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান শুধু একজন অভিভাবক নন, তিনি একজন সংস্কারক হিসেবে কাজ করছেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, নিয়মিত মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন এবং জিরো টলারেন্স নীতির কারণে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দালাল ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিমুক্ত করতে সক্ষম হয়েছেন বলে তিনি জানান। তাঁর মতে, সরকারি হাসপাতাল মূলত সাধারণ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসাস্থল। তাই রোগীদের সন্তুষ্টি ও সেবার মান উন্নয়নই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট সবার প্রধান লক্ষ্য।
এদিকে নাটোর জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী নাটোর জেলায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি নাটোর সদর হাসপাতালে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে এক দালালকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে রোগীদের হয়রানি বন্ধ এবং সেবার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি। সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু নির্দেশনা জারি নয়, অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করায় হাসপাতালকেন্দ্রিক অনিয়ম প্রতিরোধের উদ্যোগ আরও কার্যকর হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, সরকারি হাসপাতাল হবে গরিব ও অসহায় মানুষের শেষ ভরসার জায়গা। এখানে দালালদের কোনো স্থান নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সবার জন্য স্বাস্থ্য এবং মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর স্মার্ট স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাঁরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া এবং চিকিৎসার মান বাড়াতে এ ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে নিয়মিত পরিদর্শন, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি, ওষুধের যথাযথ ব্যবহার, পরিচ্ছন্নতা এবং দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিচালক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে রাজশাহী বিভাগে নেওয়া এসব উদ্যোগের ইতিবাচক ফল ধরে রাখতে হলে প্রতিটি হাসপাতালেই নিয়মিত নজরদারি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে রোগীদের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা গেলে সাধারণ মানুষের সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি আস্থা আরও বাড়বে। শেষ পর্যন্ত এসব উদ্যোগের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে রোগীরা কতটা হয়রানিমুক্ত, সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন, তার ওপর।
আরোও পড়ুন – রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের বক্তব্য নিয়ে ছাত্রদল নেতার পাল্টা প্রতিক্রিয়া