জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে স্ত্রী পান্না বিবিকে হত্যার দায়ে স্বামী সিরাজুল ইসলাম শেখ ওরফে লালুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। বুধবার (৪ নভেম্বর) জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক হাসিবুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। প্রায় তিন বছর আগে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সিরাজুল ইসলাম শেখ লালু জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গুডুম্বা গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তার শেখের ছেলে। নিহত পান্না বিবি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ঘোড়াদহ মধ্যপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। ২০১০ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করে আসছিলেন। তবে দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত হলেও তাদের কোনো সন্তান হয়নি। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হতো। একপর্যায়ে সেই বিরোধ ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।
মামলার বিবরণ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ মার্চ রাতে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী পান্না বিবিকে হত্যা করেন সিরাজুল ইসলাম। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে তার গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করা হয় এবং পরে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তী সময়ে মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য মর্গে পাঠানো হয়। একটি পারিবারিক বিরোধের পরিণতিতে একজন নারীর এমন নির্মম মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন ৮ মার্চ আক্কেলপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার মেয়ের মৃত্যুর জন্য জামাতাকে দায়ী করা হয়। মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের উপপরিদর্শক আমিরুল ইসলাম। তদন্তের বিভিন্ন ধাপ শেষে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আমিরুল ইসলাম ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে তদন্তে পাওয়া তথ্য ও মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়। এরপর মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের জন্য আদালতে গড়ায়। সেখানে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত অভিযোগ, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে চলে। দীর্ঘ সময় ধরে শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর আদালত মামলার সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে রায় ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন। এভাবেই ২০২৩ সালে দায়ের হওয়া মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারক হাসিবুল হক আসামি সিরাজুল ইসলাম শেখ লালুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। অর্থাৎ মূল সাজা ও অর্থদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা পরিশোধ না করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কারাভোগের বিধানও রাখা হয়েছে। আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা স্ত্রী হত্যার মামলাটির বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসে।
পারিবারিক সহিংসতা ও আইনের বার্তা
পারিবারিক কলহ কখনোই সহিংসতা কিংবা প্রাণঘাতী অপরাধের গ্রহণযোগ্য কারণ হতে পারে না। দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ, সন্তান না হওয়া কিংবা পারস্পরিক মনোমালিন্যের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা প্রয়োজন। কিন্তু কোনো বিরোধের জেরে একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া গুরুতর অপরাধ। আক্কেলপুরের এই মামলায় স্ত্রীকে হত্যা করার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় আবারও মনে করিয়ে দেয়, পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে সংঘটিত অপরাধও আইনের আওতায় আসে। একই সঙ্গে নারী ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের গুরুত্বও সামনে আসে।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায় নিহত পান্না বিবির পরিবারের জন্য বিচার পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০২৩ সালের ৭ মার্চের ঘটনা থেকে শুরু করে তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল এবং আদালতের শুনানি—সবশেষে ২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর রায় ঘোষণা করা হলো। স্ত্রীকে হত্যা মামলায় দণ্ডিত সিরাজুল ইসলাম শেখ লালুর বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া এই সাজা অপরাধের বিচারিক পরিণতি তুলে ধরেছে। তবে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সময়মতো আইনগত সহায়তা গ্রহণের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আরোও পড়ুন – অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক: উত্তরবঙ্গে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় লালমনিরহাটেও সতর্কতা
জয়পুরহাটে স্ত্রীকে হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
জয়পুরহাট প্রতিনিধিঃ
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে স্ত্রী পান্না বিবিকে হত্যার দায়ে স্বামী সিরাজুল ইসলাম শেখ ওরফে লালুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। বুধবার (৪ নভেম্বর) জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক হাসিবুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। প্রায় তিন বছর আগে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত সিরাজুল ইসলাম শেখ লালু জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গুডুম্বা গ্রামের মৃত আব্দুস ছাত্তার শেখের ছেলে। নিহত পান্না বিবি বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ঘোড়াদহ মধ্যপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। ২০১০ সালে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করে আসছিলেন। তবে দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর দাম্পত্য জীবন অতিবাহিত হলেও তাদের কোনো সন্তান হয়নি। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রায়ই পারিবারিক কলহ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হতো। একপর্যায়ে সেই বিরোধ ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।
মামলার বিবরণ ও তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ মার্চ রাতে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী পান্না বিবিকে হত্যা করেন সিরাজুল ইসলাম। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে তার গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করা হয় এবং পরে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। পরবর্তী সময়ে মরদেহের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য মর্গে পাঠানো হয়। একটি পারিবারিক বিরোধের পরিণতিতে একজন নারীর এমন নির্মম মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা আনোয়ার হোসেন বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন ৮ মার্চ আক্কেলপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার মেয়ের মৃত্যুর জন্য জামাতাকে দায়ী করা হয়। মামলা দায়েরের পর পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হয়। পরে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান তৎকালীন জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের উপপরিদর্শক আমিরুল ইসলাম। তদন্তের বিভিন্ন ধাপ শেষে তিনি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আমিরুল ইসলাম ২০২৩ সালের ৩০ জুলাই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে তদন্তে পাওয়া তথ্য ও মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হয়। এরপর মামলাটি বিচারিক কার্যক্রমের জন্য আদালতে গড়ায়। সেখানে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত অভিযোগ, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়া এগিয়ে চলে। দীর্ঘ সময় ধরে শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর আদালত মামলার সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে রায় ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেন। এভাবেই ২০২৩ সালে দায়ের হওয়া মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) জয়পুরহাটের অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালতে মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারক হাসিবুল হক আসামি সিরাজুল ইসলাম শেখ লালুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। অর্থাৎ মূল সাজা ও অর্থদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা পরিশোধ না করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কারাভোগের বিধানও রাখা হয়েছে। আদালতের এই রায়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা স্ত্রী হত্যার মামলাটির বিচারিক সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসে।
পারিবারিক সহিংসতা ও আইনের বার্তা
পারিবারিক কলহ কখনোই সহিংসতা কিংবা প্রাণঘাতী অপরাধের গ্রহণযোগ্য কারণ হতে পারে না। দাম্পত্য জীবনে মতবিরোধ, সন্তান না হওয়া কিংবা পারস্পরিক মনোমালিন্যের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা প্রয়োজন। কিন্তু কোনো বিরোধের জেরে একজন মানুষের জীবন কেড়ে নেওয়া গুরুতর অপরাধ। আক্কেলপুরের এই মামলায় স্ত্রীকে হত্যা করার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় আবারও মনে করিয়ে দেয়, পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে সংঘটিত অপরাধও আইনের আওতায় আসে। একই সঙ্গে নারী ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা এবং সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগের গুরুত্বও সামনে আসে।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায় নিহত পান্না বিবির পরিবারের জন্য বিচার পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ২০২৩ সালের ৭ মার্চের ঘটনা থেকে শুরু করে তদন্ত, অভিযোগপত্র দাখিল এবং আদালতের শুনানি—সবশেষে ২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর রায় ঘোষণা করা হলো। স্ত্রীকে হত্যা মামলায় দণ্ডিত সিরাজুল ইসলাম শেখ লালুর বিরুদ্ধে আদালতের দেওয়া এই সাজা অপরাধের বিচারিক পরিণতি তুলে ধরেছে। তবে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে সচেতনতা, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং সময়মতো আইনগত সহায়তা গ্রহণের বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আরোও পড়ুন – অ্যানথ্রাক্স আতঙ্ক: উত্তরবঙ্গে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় লালমনিরহাটেও সতর্কতা