মো: জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাফি মাহমুদ যুক্তরাষ্ট্রের একটি শীর্ষস্থানীয় R1 শ্রেণিভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল-ফান্ডেড পিএইচডি প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েছেন। “রাফি মাহমুদ পিএইচডি” অর্জনের এই সাফল্য ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অনুপ্রেরণা তৈরি করেছে। তার প্রাপ্ত অফারের মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ, স্বাস্থ্য বীমা এবং জীবনযাপনের ব্যয় বাবদ বছরে প্রায় ৩৪ হাজার ডলারের গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ। আগামী আগস্ট ২০২৬ থেকে তার এই নতুন শিক্ষাযাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুটা রাফির জন্য মোটেও সহজ ছিল না। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০১৭ সালে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি মাভাবিপ্রবিতে ভর্তি হন। প্রথম দিকে তার একাডেমিক ফলাফলও আশানুরূপ ছিল না, এমনকি কয়েকটি সেমিস্টারে তার সিজিপিএ নেমে আসে ২.১৯-এ। তবে কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে তিনি ঘুরে দাঁড়ান। পরবর্তীতে অনার্স সম্পন্ন করেন ৩.৩৫ সিজিপিএ নিয়ে এবং মাস্টার্সে অর্জন করেন ৩.৬৭ সিজিপিএ। “রাফি মাহমুদ পিএইচডি” অর্জনের এই পথচলা প্রমাণ করে, শুরুটা দুর্বল হলেও শেষটা শক্তিশালী করা সম্ভব।
রাফির গবেষণাভিত্তিক ক্যারিয়ারের বড় মোড় আসে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান icddr,b-তে কাজ করার মাধ্যমে। সেখানে দুই বছরেরও বেশি সময় কাজ করে তিনি গবেষণায় বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তার রয়েছে ৭টি পিয়ার-রিভিউড গবেষণা প্রকাশনা, ২টি পোস্টার প্রেজেন্টেশন এবং ডেনমার্কে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ওরাল প্রেজেন্টেশনের অভিজ্ঞতা। এসব অর্জন “রাফি মাহমুদ পিএইচডি” সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তার গবেষণার মূল বিষয় যক্ষ্মা (টিউবারকিউলোসিস) এবং এর আণবিক জটিলতা। তিনি মূলত সুপ্ত ও সক্রিয় যক্ষ্মার পার্থক্য নির্ণয় এবং ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মার কার্যপ্রণালী নিয়ে কাজ করছেন। তার মতে, যক্ষ্মা জীবাণু দীর্ঘ সময় মানবদেহে সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে এবং কখন এটি সক্রিয় হবে তা নির্ধারণ করা এখনো চ্যালেঞ্জ। এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ক্ষেত্রেই তিনি ভবিষ্যতে আরও অবদান রাখতে চান, যা “রাফি মাহমুদ পিএইচডি” যাত্রাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
আইইএলটিএস পরীক্ষায় ৭ স্কোর অর্জনের পর তিনি মাত্র চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। যদিও বিশ্বখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান Cold Spring Harbor Laboratory থেকে প্রত্যাখ্যাত হন, তবুও একটি R1 বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফুল-ফান্ডেড অফার পান। তার মতে, আন্তর্জাতিক পিএইচডিতে শুধুমাত্র সিজিপিএ নয়, গবেষণা অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, শক্তিশালী পার্সোনাল স্টেটমেন্ট এবং সুপারিশপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। “রাফি মাহমুদ পিএইচডি” সাফল্য সেই বাস্তবতারই উদাহরণ।
রাফি মাহমুদ বলেন, জীবনের কঠিন সময়গুলোই তাকে আরও শক্তিশালী করেছে। হুইলচেয়ারে বসে পরীক্ষা দেওয়া থেকে শুরু করে একাডেমিক চ্যালেঞ্জ—সবকিছুই ছিল তার জন্য কঠিন অভিজ্ঞতা। তবে তিনি কখনো হাল ছাড়েননি। তার বিশ্বাস, লক্ষ্য স্থির রেখে নিয়মিত পরিশ্রম করলে যেকোনো সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ, বিশেষ করে যক্ষ্মা প্রতিরোধে অবদান রাখতে চান।
আরোও পড়ুন –মাভাবিপ্রবির শিক্ষক দম্পতি একই সঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন: অসাধারণ সাফল্যের গল্প
অনার্সে ৩.৩৫ সিজিপিএ নিয়েও ফুল-ফান্ডেড পিএইচডি পেলেন রাফি মাহমুদ
মো: জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাফি মাহমুদ যুক্তরাষ্ট্রের একটি শীর্ষস্থানীয় R1 শ্রেণিভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুল-ফান্ডেড পিএইচডি প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েছেন। “রাফি মাহমুদ পিএইচডি” অর্জনের এই সাফল্য ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অনুপ্রেরণা তৈরি করেছে। তার প্রাপ্ত অফারের মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ, স্বাস্থ্য বীমা এবং জীবনযাপনের ব্যয় বাবদ বছরে প্রায় ৩৪ হাজার ডলারের গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ। আগামী আগস্ট ২০২৬ থেকে তার এই নতুন শিক্ষাযাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুটা রাফির জন্য মোটেও সহজ ছিল না। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০১৭ সালে দ্বিতীয়বার ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি মাভাবিপ্রবিতে ভর্তি হন। প্রথম দিকে তার একাডেমিক ফলাফলও আশানুরূপ ছিল না, এমনকি কয়েকটি সেমিস্টারে তার সিজিপিএ নেমে আসে ২.১৯-এ। তবে কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় মনোবলের মাধ্যমে তিনি ঘুরে দাঁড়ান। পরবর্তীতে অনার্স সম্পন্ন করেন ৩.৩৫ সিজিপিএ নিয়ে এবং মাস্টার্সে অর্জন করেন ৩.৬৭ সিজিপিএ। “রাফি মাহমুদ পিএইচডি” অর্জনের এই পথচলা প্রমাণ করে, শুরুটা দুর্বল হলেও শেষটা শক্তিশালী করা সম্ভব।
রাফির গবেষণাভিত্তিক ক্যারিয়ারের বড় মোড় আসে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান icddr,b-তে কাজ করার মাধ্যমে। সেখানে দুই বছরেরও বেশি সময় কাজ করে তিনি গবেষণায় বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। তার রয়েছে ৭টি পিয়ার-রিভিউড গবেষণা প্রকাশনা, ২টি পোস্টার প্রেজেন্টেশন এবং ডেনমার্কে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ওরাল প্রেজেন্টেশনের অভিজ্ঞতা। এসব অর্জন “রাফি মাহমুদ পিএইচডি” সাফল্যের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তার গবেষণার মূল বিষয় যক্ষ্মা (টিউবারকিউলোসিস) এবং এর আণবিক জটিলতা। তিনি মূলত সুপ্ত ও সক্রিয় যক্ষ্মার পার্থক্য নির্ণয় এবং ওষুধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মার কার্যপ্রণালী নিয়ে কাজ করছেন। তার মতে, যক্ষ্মা জীবাণু দীর্ঘ সময় মানবদেহে সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে এবং কখন এটি সক্রিয় হবে তা নির্ধারণ করা এখনো চ্যালেঞ্জ। এই গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ক্ষেত্রেই তিনি ভবিষ্যতে আরও অবদান রাখতে চান, যা “রাফি মাহমুদ পিএইচডি” যাত্রাকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
আইইএলটিএস পরীক্ষায় ৭ স্কোর অর্জনের পর তিনি মাত্র চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন। যদিও বিশ্বখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান Cold Spring Harbor Laboratory থেকে প্রত্যাখ্যাত হন, তবুও একটি R1 বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফুল-ফান্ডেড অফার পান। তার মতে, আন্তর্জাতিক পিএইচডিতে শুধুমাত্র সিজিপিএ নয়, গবেষণা অভিজ্ঞতা, প্রকাশনা, শক্তিশালী পার্সোনাল স্টেটমেন্ট এবং সুপারিশপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। “রাফি মাহমুদ পিএইচডি” সাফল্য সেই বাস্তবতারই উদাহরণ।
রাফি মাহমুদ বলেন, জীবনের কঠিন সময়গুলোই তাকে আরও শক্তিশালী করেছে। হুইলচেয়ারে বসে পরীক্ষা দেওয়া থেকে শুরু করে একাডেমিক চ্যালেঞ্জ—সবকিছুই ছিল তার জন্য কঠিন অভিজ্ঞতা। তবে তিনি কখনো হাল ছাড়েননি। তার বিশ্বাস, লক্ষ্য স্থির রেখে নিয়মিত পরিশ্রম করলে যেকোনো সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করা সম্ভব। ভবিষ্যতে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি বাংলাদেশে সংক্রামক রোগ, বিশেষ করে যক্ষ্মা প্রতিরোধে অবদান রাখতে চান।
আরোও পড়ুন –মাভাবিপ্রবির শিক্ষক দম্পতি একই সঙ্গে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন: অসাধারণ সাফল্যের গল্প