ভোলা জেলার মদনপুর চর এলাকায় কিশোরীকে বাবার দ্বারা ধর্ষণ: অভিযুক্ত ইউসুফ গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চর এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, যেখানে কিশোরী মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার দ্বারা ধর্ষণ হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউসুফ (৩৭) নামের ওই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী ১৫ বছর বয়সী কিশোরীটি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত ইউসুফ পেশায় একজন কৃষক এবং তার দুটি বিয়ে রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় দেড় বছর আগে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী তাসলিমা বেগমকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর কিশোরী মেয়েটিকে প্রথম স্ত্রীর কাছে চরফ্যাশন এলাকায় রেখে দেওয়া হয়। তবে কিছুদিন পর পুনরায় তাকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন ইউসুফ।

অভিযোগ অনুযায়ী, মেয়েটিকে নিজের কাছে আনার পর থেকেই সুযোগ পেলেই তাকে শারীরিকভাবে বাবার দ্বারা ধর্ষণ এর সীকার হতো। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই নির্যাতনের ফলে একপর্যায়ে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে এলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করেন এবং তাকে ভোলা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তবে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে।

ভোলা সদর হাসপাতালের এক সিনিয়র স্টাফ নার্স জানান, ভুক্তভোগীর প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে ভুক্তভোগী কিশোরী তার বাবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে। তার বক্তব্য, বাবার দ্বারা ধর্ষণ এর মত এমন অপরাধের কঠোর বিচার হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগীর মা তাসলিমা বেগমও অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ভোলা সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ ইব্রাহিম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিকভাবে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

তারা মনে করেন, বাবার দ্বারা ধর্ষণ এর মত এ ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরোও পড়ুন –শ্রীনগরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

ভোলা জেলার মদনপুর চর এলাকায় কিশোরীকে বাবার দ্বারা ধর্ষণ: অভিযুক্ত ইউসুফ গ্রেপ্তার

এপ্রিল ৫, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চর এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে, যেখানে কিশোরী মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার দ্বারা ধর্ষণ হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ইউসুফ (৩৭) নামের ওই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী ১৫ বছর বয়সী কিশোরীটি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের বরাত দিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত ইউসুফ পেশায় একজন কৃষক এবং তার দুটি বিয়ে রয়েছে। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় দেড় বছর আগে তিনি তার দ্বিতীয় স্ত্রী তাসলিমা বেগমকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। এরপর কিশোরী মেয়েটিকে প্রথম স্ত্রীর কাছে চরফ্যাশন এলাকায় রেখে দেওয়া হয়। তবে কিছুদিন পর পুনরায় তাকে নিজের কাছে নিয়ে আসেন ইউসুফ।

অভিযোগ অনুযায়ী, মেয়েটিকে নিজের কাছে আনার পর থেকেই সুযোগ পেলেই তাকে শারীরিকভাবে বাবার দ্বারা ধর্ষণ এর সীকার হতো। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই নির্যাতনের ফলে একপর্যায়ে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। বিষয়টি ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে এলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর ভুক্তভোগীর মা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করেন এবং তাকে ভোলা ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তবে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে কিছুটা উন্নতি দেখা গেছে।

ভোলা সদর হাসপাতালের এক সিনিয়র স্টাফ নার্স জানান, ভুক্তভোগীর প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থার উন্নতির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে ভুক্তভোগী কিশোরী তার বাবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে। তার বক্তব্য, বাবার দ্বারা ধর্ষণ এর মত এমন অপরাধের কঠোর বিচার হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে ভুক্তভোগীর মা তাসলিমা বেগমও অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। ভোলা সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ ইব্রাহিম জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিকভাবে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

তারা মনে করেন, বাবার দ্বারা ধর্ষণ এর মত এ ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আরোও পড়ুন –শ্রীনগরে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার