৮ দফা দাবিতে কৃষক সমাবেশ, ক্ষতিপূরণ দাবি জোরালো

শাহরিয়ার খান নাফিজ, হবিগঞ্জ:

হবিগঞ্জ জেলায় আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কৃষক সমাবেশ আয়োজন করেছে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট। বুধবার (৬ মে) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এই কৃষক সমাবেশ-এ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শতাধিক কৃষক অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার কৃষকদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সমাবেশ শেষে কৃষিমন্ত্রী এবং জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথক দুটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সংগঠক জাফর আলী এবং সঞ্চালনা করেন শফিকুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, চলতি মৌসুমে আগাম বন্যার কারণে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে কৃষকরা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন। কৃষক সমাবেশ থেকে বক্তারা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ হবিগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক কমরেড নুরুজ্জামান তরফদার, সদস্য ডা. সুনীল রায়, কৃষক নেতা ওয়াদুদ মিয়া, ফারুক মিয়া ও রাজ্জাক মিয়া। তারা বলেন, কৃষকদের ফসল ঘরে তুলতে সরকারি উদ্যোগে শ্রমিক, নৌকা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হবে। এছাড়া হাটে হাটে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র চালু করে ১৭০০ টাকা মণ দরে ধান ক্রয়ের দাবি জানান। বক্তারা উল্লেখ করেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে কৃষকদের লোকসান অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর মিয়া ও সিদ্দিক মিয়া। তারা বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে এই বাস্তবতা বিবেচনায় কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। কৃষক সমাবেশ থেকে আরও দাবি জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের জন্য সারা বছরের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে এবং বকেয়া কৃষি ঋণ মওকুফ করতে হবে। পাশাপাশি নতুন ফসল আবাদের জন্য সহজ শর্তে নতুন ঋণ প্রদান করারও আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়াও বক্তারা প্রত্যেক ইউনিয়নে সরকারি উদ্যোগে ঠান্ডা গুদাম স্থাপনের দাবি জানান, যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ করতে পারেন এবং ন্যায্যমূল্য পান। জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে ৪০ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবিও উত্থাপন করা হয়। সমাবেশ শেষে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবুল হাসেম স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

আরোও পড়ুন – সুনামগঞ্জে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার ও কোর্ট পরিদর্শনে সিলেট রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি

৮ দফা দাবিতে কৃষক সমাবেশ, ক্ষতিপূরণ দাবি জোরালো

মে ৬, ২০২৬

শাহরিয়ার খান নাফিজ, হবিগঞ্জ:

হবিগঞ্জ জেলায় আগাম বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কৃষক সমাবেশ আয়োজন করেছে সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্ট। বুধবার (৬ মে) সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এই কৃষক সমাবেশ-এ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শতাধিক কৃষক অংশ নেন। আয়োজকরা জানান, হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার কৃষকদের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। সমাবেশ শেষে কৃষিমন্ত্রী এবং জেলা প্রশাসকের কাছে পৃথক দুটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সংগঠক জাফর আলী এবং সঞ্চালনা করেন শফিকুল ইসলাম। বক্তারা বলেন, চলতি মৌসুমে আগাম বন্যার কারণে বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক সংকট তৈরি করেছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি পদক্ষেপ না নিলে কৃষকরা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন। কৃষক সমাবেশ থেকে বক্তারা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রণয়ন করে দ্রুত ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ হবিগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক কমরেড নুরুজ্জামান তরফদার, সদস্য ডা. সুনীল রায়, কৃষক নেতা ওয়াদুদ মিয়া, ফারুক মিয়া ও রাজ্জাক মিয়া। তারা বলেন, কৃষকদের ফসল ঘরে তুলতে সরকারি উদ্যোগে শ্রমিক, নৌকা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ করতে হবে। এছাড়া হাটে হাটে সরকারি ক্রয় কেন্দ্র চালু করে ১৭০০ টাকা মণ দরে ধান ক্রয়ের দাবি জানান। বক্তারা উল্লেখ করেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন হলে কৃষকদের লোকসান অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর মিয়া ও সিদ্দিক মিয়া। তারা বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে এই বাস্তবতা বিবেচনায় কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি। কৃষক সমাবেশ থেকে আরও দাবি জানানো হয়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারের জন্য সারা বছরের খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে এবং বকেয়া কৃষি ঋণ মওকুফ করতে হবে। পাশাপাশি নতুন ফসল আবাদের জন্য সহজ শর্তে নতুন ঋণ প্রদান করারও আহ্বান জানানো হয়।

এছাড়াও বক্তারা প্রত্যেক ইউনিয়নে সরকারি উদ্যোগে ঠান্ডা গুদাম স্থাপনের দাবি জানান, যাতে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসল সংরক্ষণ করতে পারেন এবং ন্যায্যমূল্য পান। জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতে ৪০ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবিও উত্থাপন করা হয়। সমাবেশ শেষে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন। জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. আবুল হাসেম স্মারকলিপি গ্রহণ করেন এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

আরোও পড়ুন – সুনামগঞ্জে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার ও কোর্ট পরিদর্শনে সিলেট রেঞ্জের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত ডিআইজি