মো. আতিকুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ভিসির অপসারণ দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সোমবার (১১ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে হামলার ঘটনায় অন্তত ৯ জন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝেও চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, এমন শিক্ষক হামলা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং উদ্বেগের বিষয়।
সকাল ১০টার দিকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রশাসনিক অনিয়ম, উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতা এবং কয়েকজন শিক্ষককে শোকজ করার প্রতিবাদে মানববন্ধনে অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ কারণে তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। কিন্তু কর্মসূচি চলাকালে হঠাৎ মোটরসাইকেল বহর নিয়ে একদল ব্যক্তি এসে মানববন্ধনে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা প্রথমে চেয়ার, ব্যানার ও মাইক ভাঙচুর করে। পরে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর চড়াও হয়ে ধাক্কাধাক্কি ও মারধর শুরু করে। এতে মুহূর্তের মধ্যে ক্যাম্পাসজুড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শিক্ষক হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক মাটিতে পড়ে আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ সেন্টার ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যান। ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলেছেন।
হামলায় আহত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন, প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান, প্রফেসর ড. আব্দুল মালেক, প্রফেসর ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম, প্রফেসর আবুল বাশার খান, প্রফেসর ড. খোকন হোসেন, প্রফেসর ড. আব্দুর রশিদ, প্রফেসর ড. স্বপন কুমার ফৌজদার, প্রফেসর ড. এম এইচ কাউসার এবং প্রফেসর ড. তন্বী চন্দ। আহতদের কয়েকজন জানান, তারা কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই হামলাকারীরা এসে তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। শিক্ষকদের দাবি, এটি পরিকল্পিত শিক্ষক হামলা এবং এর মাধ্যমে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, দুমকি উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা রিপন শরীফের নেতৃত্বে হামলাটি চালানো হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত রিপন শরীফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি মহল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে চায় এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তবে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষক হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে অনেক শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থী জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের সভাপতি আবু বক্কর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, শিক্ষকদের ওপর হামলার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষকদের একাংশের মতে, এ ধরনের সহিংসতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এ বিষয়ে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, মানববন্ধন চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কিছু প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও বাইরে থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে। বর্তমানে ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শিক্ষক হামলার ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষকদের ওপর এমন হামলা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি দেশের শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শাস্তি এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আরোও পড়ুন – হাবিপ্রবি সংঘর্ষ: নারী কেলেঙ্কারির জেরে দুই হলে দফায় দফায় হামলা, আহত ৫০+
পবিপ্রবিতে শিক্ষক হামলা, মানববন্ধনে আহত ৯ শিক্ষক
মো. আতিকুল ইসলাম,নিজস্ব প্রতিবেদক, পটুয়াখালী
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) ভিসির অপসারণ দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সোমবার (১১ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে হামলার ঘটনায় অন্তত ৯ জন জ্যেষ্ঠ শিক্ষক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুরো ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝেও চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বলছেন, এমন শিক্ষক হামলা দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং উদ্বেগের বিষয়।
সকাল ১০টার দিকে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা প্রশাসনিক অনিয়ম, উন্নয়ন কার্যক্রমে স্থবিরতা এবং কয়েকজন শিক্ষককে শোকজ করার প্রতিবাদে মানববন্ধনে অংশ নেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ কারণে তারা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করছিলেন। কিন্তু কর্মসূচি চলাকালে হঠাৎ মোটরসাইকেল বহর নিয়ে একদল ব্যক্তি এসে মানববন্ধনে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলাকারীরা প্রথমে চেয়ার, ব্যানার ও মাইক ভাঙচুর করে। পরে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর চড়াও হয়ে ধাক্কাধাক্কি ও মারধর শুরু করে। এতে মুহূর্তের মধ্যে ক্যাম্পাসজুড়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। শিক্ষক হামলার ঘটনায় বেশ কয়েকজন শিক্ষক মাটিতে পড়ে আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাদের উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ সেন্টার ও স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিকে নিয়ে যান। ঘটনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলেছেন।
হামলায় আহত শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন, প্রফেসর ড. আতিকুর রহমান, প্রফেসর ড. আব্দুল মালেক, প্রফেসর ড. এবিএম সাইফুল ইসলাম, প্রফেসর আবুল বাশার খান, প্রফেসর ড. খোকন হোসেন, প্রফেসর ড. আব্দুর রশিদ, প্রফেসর ড. স্বপন কুমার ফৌজদার, প্রফেসর ড. এম এইচ কাউসার এবং প্রফেসর ড. তন্বী চন্দ। আহতদের কয়েকজন জানান, তারা কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই হামলাকারীরা এসে তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। শিক্ষকদের দাবি, এটি পরিকল্পিত শিক্ষক হামলা এবং এর মাধ্যমে আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আন্দোলনরত শিক্ষকদের অভিযোগ, দুমকি উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা রিপন শরীফের নেতৃত্বে হামলাটি চালানো হয়েছে। যদিও অভিযুক্ত রিপন শরীফ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি মহল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ অস্থিতিশীল করতে চায় এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে। তবে ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষক হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে অনেক শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থী জড়িতদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জিয়া পরিষদের সভাপতি আবু বক্কর এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, শিক্ষকদের ওপর হামলার মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি অবিলম্বে হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। শিক্ষকদের একাংশের মতে, এ ধরনের সহিংসতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এ বিষয়ে দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সেলিম উদ্দীন বলেন, মানববন্ধন চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে কিছু প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও বাইরে থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে। বর্তমানে ক্যাম্পাস এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শিক্ষক হামলার ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলছেন, শিক্ষকদের ওপর এমন হামলা শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি দেশের শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে। তারা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের শাস্তি এবং নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আরোও পড়ুন – হাবিপ্রবি সংঘর্ষ: নারী কেলেঙ্কারির জেরে দুই হলে দফায় দফায় হামলা, আহত ৫০+