ওসমানীনগর(সিলেট)প্রতিনিধিঃ
সিলেটের ওসমানীনগরে আলোচিত জিরা জব্দ মামলায় আটক আবুল কালাম আজাদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, রিমান্ড মঞ্জুর হলে সীমান্তভিত্তিক চোরাচালান চক্র, অবৈধ পণ্য পরিবহনের রুট এবং জড়িত অন্যান্য সদস্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ওসমানীনগর থানার এসআই আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালতে রিমান্ড আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। আগামী ১২ মে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। তিনি বলেন, আটক আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত অবৈধ চোরাচালান কার্যক্রমের নেপথ্যের তথ্য উদঘাটন সম্ভব হবে। বিশেষ করে কোন সীমান্ত রুট ব্যবহার করে ভারতীয় জিরা দেশে প্রবেশ করানো হতো এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সংঘটিত জিরা জব্দ অভিযানের পর থেকেই চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, আটক আবুল কালাম আজাদকে রিমান্ডে নেওয়া হলে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন জড়িত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যেতে পারে।
এর আগে গত ৫ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসমানীনগর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রামে অভিযান চালায়। এসআই (নি.) আশীষ চন্দ্র তালুকদারের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল হামিদের বসতবাড়ির বিভিন্ন কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জিরার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা।
অভিযানের সময় কয়েকজন ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আবুল কালাম আজাদকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে মোট ১৮ হাজার ৯০ কেজি ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ৬০৩টি বস্তার প্রতিটিতে ছিল প্রায় ৩০ কেজি করে জিরা। বড় পরিসরের এই জিরা জব্দ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আবুল কালাম আজাদ পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি তার পলাতক ভাই আব্দুল মুমিনসহ কয়েকজন সহযোগীর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে ভারতীয় জিরা দেশে আনতেন। পরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হতো। তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, এই চক্রের সঙ্গে আরও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন।
এ ঘটনায় ওসমানীনগর থানার এসআই আশীষ চন্দ্র বাদী হয়ে আবুল কালাম আজাদ, তার ভাই আব্দুল মুমিন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকির বিভিন্ন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, এই চোরাচালান সিন্ডিকেটের পেছনে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের নাম তদন্তে উঠে এলেও এখন পর্যন্ত এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের মতে, পুরো সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলে সীমান্তভিত্তিক অবৈধ বাণিজ্য অনেকাংশে কমে আসবে।
আরোও পড়ুন –রাজশাহী সীমান্তে মাদক উদ্ধার: বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ ও সিরাপ জব্দ
জিরা জব্দ মামলায় কালামের ৫ দিনের রিমান্ড চায় ওসমানীনগর পুলিশ
ওসমানীনগর(সিলেট)প্রতিনিধিঃ
সিলেটের ওসমানীনগরে আলোচিত জিরা জব্দ মামলায় আটক আবুল কালাম আজাদের ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, রিমান্ড মঞ্জুর হলে সীমান্তভিত্তিক চোরাচালান চক্র, অবৈধ পণ্য পরিবহনের রুট এবং জড়িত অন্যান্য সদস্যদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসনও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ওসমানীনগর থানার এসআই আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আদালতে রিমান্ড আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। আগামী ১২ মে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে। তিনি বলেন, আটক আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত অবৈধ চোরাচালান কার্যক্রমের নেপথ্যের তথ্য উদঘাটন সম্ভব হবে। বিশেষ করে কোন সীমান্ত রুট ব্যবহার করে ভারতীয় জিরা দেশে প্রবেশ করানো হতো এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত ছিল, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি সংঘটিত জিরা জব্দ অভিযানের পর থেকেই চোরাচালান সিন্ডিকেটের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছেন এবং সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, আটক আবুল কালাম আজাদকে রিমান্ডে নেওয়া হলে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন জড়িত ব্যক্তির পরিচয় পাওয়া যেতে পারে।
এর আগে গত ৫ মে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওসমানীনগর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রামে অভিযান চালায়। এসআই (নি.) আশীষ চন্দ্র তালুকদারের নেতৃত্বে পরিচালিত ওই অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুল হামিদের বসতবাড়ির বিভিন্ন কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া জিরার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১২ লাখ ১৫ হাজার ৮০০ টাকা।
অভিযানের সময় কয়েকজন ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে আবুল কালাম আজাদকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ির বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়ে মোট ১৮ হাজার ৯০ কেজি ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া ৬০৩টি বস্তার প্রতিটিতে ছিল প্রায় ৩০ কেজি করে জিরা। বড় পরিসরের এই জিরা জব্দ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আবুল কালাম আজাদ পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি তার পলাতক ভাই আব্দুল মুমিনসহ কয়েকজন সহযোগীর মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে ভারতীয় জিরা দেশে আনতেন। পরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব পণ্য দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হতো। তদন্ত কর্মকর্তাদের ধারণা, এই চক্রের সঙ্গে আরও প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও পরিবহন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারেন।
এ ঘটনায় ওসমানীনগর থানার এসআই আশীষ চন্দ্র বাদী হয়ে আবুল কালাম আজাদ, তার ভাই আব্দুল মুমিন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় চোরাচালান ও শুল্ক ফাঁকির বিভিন্ন ধারা যুক্ত করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয় কয়েকটি সূত্র দাবি করেছে, এই চোরাচালান সিন্ডিকেটের পেছনে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি রয়েছেন, যাদের নাম তদন্তে উঠে এলেও এখন পর্যন্ত এজাহারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয়দের মতে, পুরো সিন্ডিকেটকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলে সীমান্তভিত্তিক অবৈধ বাণিজ্য অনেকাংশে কমে আসবে।
আরোও পড়ুন –রাজশাহী সীমান্তে মাদক উদ্ধার: বিজিবির অভিযানে ভারতীয় মদ ও সিরাপ জব্দ