এনায়েত করীম রাজিব, বাগেরহাটঃ
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পাগলা শ্যামনগর গ্রামের কিশোরী রাবেয়া খাতুনের জীবন এক কঠিন সংগ্রামের নাম। জন্ম থেকেই সে বহন করছে ভয়াবহ বাস্তবতা। তার মুখের ডান পাশে বড় আকারের মুখের টিউমার ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে, আর একইসঙ্গে একটি চোখে সম্পূর্ণভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। তবুও জীবন থেমে যায়নি তার। শারীরিক সীমাবদ্ধতা আর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেও সে আজ দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া, পড়া লেখা করা এবং স্বপ্ন দেখা—সবকিছুই তার এই কঠিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে মুখের টিউমার তার প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা হয়ে আছে, তবুও সে হাল ছাড়েনি।
রাবেয়া খাতুন বর্তমানে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। সহপাঠীদের মতো স্বাভাবিক জীবন না থাকলেও তার স্বপ্ন অনেক বড়। সে চায় লেখাপড়া শেষ করে নিজের পরিচয় তৈরি করতে এবং পরিবারের দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে। কিন্তু বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। প্রতিদিন স্কুলে যেতে তার শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে হয়। সমাজের নানা কটু মন্তব্য ও দৃষ্টিভঙ্গি তাকে আঘাত করলেও সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েনি। বরং মুখের টিউমার থাকা সত্ত্বেও তার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও দৃঢ় হয়েছে, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে এবং এক অনুপ্রেরণার নাম করেছে।
রাবেয়ার বাবা মালেক মাতব্বর একজন দিনমজুর। সীমিত আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে মেয়ের চিকিৎসা করানো তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জন্মের পর থেকেই তার মুখে টিউমার ধরা পড়ে, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বড় হতে থাকে। চিকিৎসকদের মতে, উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এই দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এত বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করা অসম্ভব। ফলে মুখের টিউমার দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে এবং তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
স্থানীয়রা জানান, রাবেয়ার মানসিক দৃঢ়তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শারীরিক কষ্ট থাকা সত্ত্বেও সে নিয়মিত স্কুলে যায় এবং পড়াশোনায় ভালো ফল করার চেষ্টা করে। অনেকেই মনে করেন, সময়মতো চিকিৎসা পেলে রাবেয়ার জীবন সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন, কারণ মুখের টিউমার তার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে পারে যদি দ্রুত চিকিৎসা না হয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তার জন্য সহায়তার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
রাবেয়া খাতুন নিজে বলেন, অনেক কষ্ট হলেও সে পড়াশোনা ছাড়তে চায় না। তার স্বপ্ন একদিন বড় কিছু হওয়ার। তার মা রোজিনা বেগম ও বাবা মালেক মাতব্বর আশা করছেন, যদি কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে তারা মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারবেন। সমাজের সামান্য সহানুভূতিই বদলে দিতে পারে এই কিশোরীর জীবন। একটি মানবিক উদ্যোগ হয়তো রাবেয়াকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিতে পারে, যেখানে মুখের টিউমার শুধু অতীতের একটি কষ্টের গল্প হয়ে থাকবে।
আরোও পড়ুন- জমি নিয়ে হামলায় বাগেরহাটে নারী আহত, বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
মুখের টিউমার ও এক চোখে দৃষ্টিহীন রাবেয়ার সংগ্রামী জীবন: চিকিৎসার অভাবে থমকে স্বপ্ন
এনায়েত করীম রাজিব, বাগেরহাটঃ
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পাগলা শ্যামনগর গ্রামের কিশোরী রাবেয়া খাতুনের জীবন এক কঠিন সংগ্রামের নাম। জন্ম থেকেই সে বহন করছে ভয়াবহ বাস্তবতা। তার মুখের ডান পাশে বড় আকারের মুখের টিউমার ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে, আর একইসঙ্গে একটি চোখে সম্পূর্ণভাবে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে। তবুও জীবন থেমে যায়নি তার। শারীরিক সীমাবদ্ধতা আর দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেও সে আজ দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া, পড়া লেখা করা এবং স্বপ্ন দেখা—সবকিছুই তার এই কঠিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে মুখের টিউমার তার প্রতিটি পদক্ষেপে বাধা হয়ে আছে, তবুও সে হাল ছাড়েনি।
রাবেয়া খাতুন বর্তমানে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। সহপাঠীদের মতো স্বাভাবিক জীবন না থাকলেও তার স্বপ্ন অনেক বড়। সে চায় লেখাপড়া শেষ করে নিজের পরিচয় তৈরি করতে এবং পরিবারের দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে। কিন্তু বাস্তবতা অত্যন্ত কঠিন। প্রতিদিন স্কুলে যেতে তার শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে হয়। সমাজের নানা কটু মন্তব্য ও দৃষ্টিভঙ্গি তাকে আঘাত করলেও সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েনি। বরং মুখের টিউমার থাকা সত্ত্বেও তার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও দৃঢ় হয়েছে, যা তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলেছে এবং এক অনুপ্রেরণার নাম করেছে।
রাবেয়ার বাবা মালেক মাতব্বর একজন দিনমজুর। সীমিত আয়ে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে মেয়ের চিকিৎসা করানো তাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জন্মের পর থেকেই তার মুখে টিউমার ধরা পড়ে, যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও বড় হতে থাকে। চিকিৎসকদের মতে, উন্নত চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এই দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এত বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করা অসম্ভব। ফলে মুখের টিউমার দিন দিন জটিল আকার ধারণ করছে এবং তার স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
স্থানীয়রা জানান, রাবেয়ার মানসিক দৃঢ়তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শারীরিক কষ্ট থাকা সত্ত্বেও সে নিয়মিত স্কুলে যায় এবং পড়াশোনায় ভালো ফল করার চেষ্টা করে। অনেকেই মনে করেন, সময়মতো চিকিৎসা পেলে রাবেয়ার জীবন সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। এলাকাবাসীর দাবি, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন, কারণ মুখের টিউমার তার ভবিষ্যৎ নষ্ট করে দিতে পারে যদি দ্রুত চিকিৎসা না হয়। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তার জন্য সহায়তার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
রাবেয়া খাতুন নিজে বলেন, অনেক কষ্ট হলেও সে পড়াশোনা ছাড়তে চায় না। তার স্বপ্ন একদিন বড় কিছু হওয়ার। তার মা রোজিনা বেগম ও বাবা মালেক মাতব্বর আশা করছেন, যদি কেউ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে তারা মেয়ের চিকিৎসা করাতে পারবেন। সমাজের সামান্য সহানুভূতিই বদলে দিতে পারে এই কিশোরীর জীবন। একটি মানবিক উদ্যোগ হয়তো রাবেয়াকে নতুন জীবন ফিরিয়ে দিতে পারে, যেখানে মুখের টিউমার শুধু অতীতের একটি কষ্টের গল্প হয়ে থাকবে।
আরোও পড়ুন- জমি নিয়ে হামলায় বাগেরহাটে নারী আহত, বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ