সীমান্ত হত্যা প্রতিবাদে ফুলতলা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল, পুশইন বন্ধের দাবি

মোঃ ইয়াছিন আলী সামু, জুড়ী প্রতিনিধি (মৌলভীবাজার)

আন্তর্জাতিক সীমারেখা ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের দাবিতে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের ফুলতলা বাজারে সীমান্ত হত্যা প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) বাদ জুমআ ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিলটি ফুলতলা বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং পরে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা সীমান্ত এলাকায় মানুষ হত্যার ঘটনা ও কথিত পুশইনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মানবাধিকার সুরক্ষার দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আয়োজিত সীমান্ত হত্যা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তারা বলেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষ প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছে। আন্তর্জাতিক আইন, মানবিক মূল্যবোধ এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের স্বার্থে এ ধরনের ঘটনার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

ফুলতলা ইউনিয়ন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জুড়ী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাস্টার মো. আজিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব রুমেল আহমদ, জুড়ী উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন (সুরমান), উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের অন্যতম সদস্য মাস্টার মোস্তাকিম আলী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুড়ী উপজেলার অন্যতম শীর্ষ নেতা মো. তারেক মিয়া।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ফুলতলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল, জুড়ী উপজেলা পূর্ব শিবির শাখার সভাপতি মো. রুমেল আহমদ, উপজেলা দক্ষিণ শিবির শাখার সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম, ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. ইছহাক আলী, ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা কুতুব উদ্দিন এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. ইদ্রিস আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, সীমান্ত হত্যা প্রতিবাদ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর। সীমান্তে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত মানুষের জানমাল রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তাই সীমান্ত হত্যা প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

আরোও পড়ুন – বড়লেখায় চায়না-৩ লিচু বিক্রিতে ব্যস্ত কৃষকরা, জমজমাট মৌসুমি বাজার

সীমান্ত হত্যা প্রতিবাদে ফুলতলা বাজারে বিক্ষোভ মিছিল, পুশইন বন্ধের দাবি

জুন ১২, ২০২৬

মোঃ ইয়াছিন আলী সামু, জুড়ী প্রতিনিধি (মৌলভীবাজার)

আন্তর্জাতিক সীমারেখা ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের দাবিতে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের ফুলতলা বাজারে সীমান্ত হত্যা প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) বাদ জুমআ ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিলটি ফুলতলা বাজারের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং পরে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা সীমান্ত এলাকায় মানুষ হত্যার ঘটনা ও কথিত পুশইনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং মানবাধিকার সুরক্ষার দাবি জানান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আয়োজিত সীমান্ত হত্যা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বক্তারা সীমান্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন। তারা বলেন, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষ প্রতিনিয়ত অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কের মধ্যে জীবনযাপন করছে। আন্তর্জাতিক আইন, মানবিক মূল্যবোধ এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্কের স্বার্থে এ ধরনের ঘটনার স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন বলে তারা মত প্রকাশ করেন।

ফুলতলা ইউনিয়ন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ফরিদ উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ১১ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জুড়ী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাস্টার মো. আজিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৌলভীবাজার জেলা এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব রুমেল আহমদ, জুড়ী উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন (সুরমান), উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের অন্যতম সদস্য মাস্টার মোস্তাকিম আলী এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জুড়ী উপজেলার অন্যতম শীর্ষ নেতা মো. তারেক মিয়া।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ফুলতলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি নুরুল ইসলাম সোহেল, জুড়ী উপজেলা পূর্ব শিবির শাখার সভাপতি মো. রুমেল আহমদ, উপজেলা দক্ষিণ শিবির শাখার সভাপতি নাজমুল ইসলাম ও সেক্রেটারি আমিনুল ইসলাম, ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. ইছহাক আলী, ৭ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মাওলানা কুতুব উদ্দিন এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. ইদ্রিস আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, সীমান্ত হত্যা প্রতিবাদ শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর। সীমান্তে নিরীহ মানুষের প্রাণহানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

বক্তারা আরও বলেন, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত মানুষের জানমাল রক্ষা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

সমাবেশের শেষ পর্যায়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং সীমান্ত অঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। তাই সীমান্ত হত্যা প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে উত্থাপিত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পরে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

আরোও পড়ুন – বড়লেখায় চায়না-৩ লিচু বিক্রিতে ব্যস্ত কৃষকরা, জমজমাট মৌসুমি বাজার