কিয়াম মেটালের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ, মহাসড়ক ঘেঁষে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ

ইমরান হোসেন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ

কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কুমারগাড়া এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মহাসড়ক আইন অমান্য করে সড়কের একেবারে সন্নিকটে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে, যা শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং জননিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয়দের আপত্তিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিয়াম মেটালের সামনের অংশে মহাসড়ক ঘেঁষে একটি বড় আকারের পাকা স্থাপনার নির্মাণকাজ চলছে। ইতোমধ্যে ভবনটির ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জায়গা দখল করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয়রা বলছেন, মহাসড়কের পাশে এ ধরনের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের ফলে ভবিষ্যতে সড়ক সম্প্রসারণ, যান চলাচল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মহাসড়ক আইন-২০২১ অনুযায়ী মহাসড়কের উভয় পাশের নির্ধারিত সীমার মধ্যে কোনো ধরনের স্থায়ী বা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইনটির ৯(১১) ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, ভূমির প্রান্তসীমা থেকে ১০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি জায়গা দখল করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু অবৈধ স্থাপনা নির্মাণই নয়, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের কারণে পরিবেশগত ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। কারখানার পাশে স্থাপিত বয়লার থেকে নির্গত গরম পানি ও শিল্পবর্জ্য আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ির দিকে ছড়িয়ে পড়ছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের মতে, বর্ষাকালে এসব বর্জ্য আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কৃষি উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি বয়লার বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনা ঘটলে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও সাধারণ মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসী আরও জানান, এর আগেও একই স্থানে কিয়াম মেটালের একটি টিনের চিমনি ছিল। ওই চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়া, ছাই ও দূষিত কণার কারণে পথচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ভোগান্তির শিকার হন। একাধিকবার অভিযোগ ও প্রতিবাদের পর চিমনিটি সরিয়ে নেওয়া হলেও বর্তমানে সেখানে নতুন পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে শিল্পকারখানার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি জায়গা দখল করে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও অনিয়ম বাড়তে পারে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পরিবেশ দূষণ, জনস্বাস্থ্য হুমকি কিংবা অবৈধ স্থাপনা সংক্রান্ত অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়কের পাশে শিল্পকারখানার ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ দুর্ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব অনেক বিস্তৃত হতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করে বলেছে, বিষয়টি একাধিকবার কিয়াম মেটাল কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মহাসড়কের নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সওজ বিভাগ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

আরোও পড়ুন – কুষ্টিয়ায় মাদকসহ আটক লায়লা বেগম, অভিযানে আরও দুইজন গ্রেপ্তার

কিয়াম মেটালের বিরুদ্ধে সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগ, মহাসড়ক ঘেঁষে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ

জুন ১৬, ২০২৬

ইমরান হোসেন, কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ

কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের কুমারগাড়া এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, মহাসড়ক আইন অমান্য করে সড়কের একেবারে সন্নিকটে স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে, যা শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়, বরং জননিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং স্থানীয়দের আপত্তিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিয়াম মেটালের সামনের অংশে মহাসড়ক ঘেঁষে একটি বড় আকারের পাকা স্থাপনার নির্মাণকাজ চলছে। ইতোমধ্যে ভবনটির ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত শ্রমিকদের কাজ করতে দেখা গেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জায়গা দখল করে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি। স্থানীয়রা বলছেন, মহাসড়কের পাশে এ ধরনের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের ফলে ভবিষ্যতে সড়ক সম্প্রসারণ, যান চলাচল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মহাসড়ক আইন-২০২১ অনুযায়ী মহাসড়কের উভয় পাশের নির্ধারিত সীমার মধ্যে কোনো ধরনের স্থায়ী বা পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইনটির ৯(১১) ধারায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, ভূমির প্রান্তসীমা থেকে ১০ মিটারের মধ্যে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব দুই বছরের কারাদণ্ড, সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। এ অবস্থায় সরকারি জায়গা দখল করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু অবৈধ স্থাপনা নির্মাণই নয়, প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমের কারণে পরিবেশগত ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। কারখানার পাশে স্থাপিত বয়লার থেকে নির্গত গরম পানি ও শিল্পবর্জ্য আশপাশের কৃষিজমি ও বসতবাড়ির দিকে ছড়িয়ে পড়ছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের মতে, বর্ষাকালে এসব বর্জ্য আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং কৃষি উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। পাশাপাশি বয়লার বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনা ঘটলে মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহন ও সাধারণ মানুষের জানমালের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

এলাকাবাসী আরও জানান, এর আগেও একই স্থানে কিয়াম মেটালের একটি টিনের চিমনি ছিল। ওই চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়া, ছাই ও দূষিত কণার কারণে পথচারী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ভোগান্তির শিকার হন। একাধিকবার অভিযোগ ও প্রতিবাদের পর চিমনিটি সরিয়ে নেওয়া হলেও বর্তমানে সেখানে নতুন পাকা স্থাপনা নির্মাণ করে শিল্পকারখানার কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি জায়গা দখল করে এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের প্রবণতা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও অনিয়ম বাড়তে পারে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক। বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী পরিবেশ দূষণ, জনস্বাস্থ্য হুমকি কিংবা অবৈধ স্থাপনা সংক্রান্ত অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাসড়কের পাশে শিল্পকারখানার ঝুঁকিপূর্ণ স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ দুর্ঘটনা ঘটলে তার প্রভাব অনেক বিস্তৃত হতে পারে।

স্থানীয় সচেতন মহল অভিযোগ করে বলেছে, বিষয়টি একাধিকবার কিয়াম মেটাল কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং নির্মাণকাজ অব্যাহত রয়েছে। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, অবৈধ স্থাপনা অপসারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে মহাসড়কের নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, সওজ বিভাগ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

আরোও পড়ুন – কুষ্টিয়ায় মাদকসহ আটক লায়লা বেগম, অভিযানে আরও দুইজন গ্রেপ্তার