ইমরান হোসেন, কুষ্টিয়াঃ
জাতীয় সংসদে নারী সংসদ সদস্যদের হিজাব ও নিকাব নিয়ে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের নারী শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার এবং এ বিষয়ে কোনো অবমাননাকর মন্তব্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, “ইবিতে নিকাব প্রতিবাদ” শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার প্রতীকী অবস্থান।
কর্মসূচিতে বক্তারা জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নিকাব সংক্রান্ত বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির বক্তব্যে দায়িত্বশীলতা, সংবেদনশীলতা এবং সকল নাগরিকের বিশ্বাসের প্রতি সম্মান থাকা উচিত। অথচ সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে নারীদের ধর্মীয় চর্চা এবং ব্যক্তিগত পছন্দকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। বক্তারা আরও বলেন, দেশের নারী সমাজকে ছোট করে দেখার কিংবা তাদের পোশাক নিয়ে বিদ্রূপ করার সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ সময় “ইবিতে নিকাব প্রতিবাদ” কর্মসূচি থেকে বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহার এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস ও সংবিধানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সংবিধান প্রণয়ন কমিটির ৩৪ সদস্যের মধ্যে বেগম রাজিয়া বানু ছিলেন একমাত্র নারী সদস্য এবং তিনি পর্দানশিন জীবনাচার অনুসরণ করেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে পর্দা, হিজাব কিংবা নিকাবকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা দেশের ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও সাংবিধানিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বক্তারা দাবি করেন, ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি নারীর নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও পরিচয়কেও মর্যাদা দিতে হবে। তাদের মতে, “ইবিতে নিকাব প্রতিবাদ” কর্মসূচি সেই সম্মান ও সহনশীলতার বার্তাই বহন করছে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, একটি বহুমাত্রিক সমাজে ভিন্ন মত, ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভিন্ন জীবনাচারের মানুষের সহাবস্থানই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ধর্মীয় পোশাককে উপহাস করা সামাজিক সম্প্রীতির জন্যও ক্ষতিকর। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তা ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক বিভাজনের কারণ হতে পারে। এ কারণে তারা সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রদানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় স্বাধীনতা, নারীর মর্যাদা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে একটি সহনশীল সমাজ গঠনের আহ্বান জানান। তারা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অন্যের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি সম্মান প্রদর্শনও সমান জরুরি। মানববন্ধন থেকে ভবিষ্যতে ধর্মীয় অনুশীলন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নারীর অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য না করার আহ্বান জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, “ইবিতে নিকাব প্রতিবাদ” কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল সম্মান, সহমর্মিতা ও সাংবিধানিক অধিকারের পক্ষে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
আরোও পড়ুন – কুষ্টিয়ায় হত্যাচেষ্টা মামলায় যুবদল নেতা আটক, আদালত থেকে কারাগারে প্রেরণ
ইবিতে নিকাব নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে নারী শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন
ইমরান হোসেন, কুষ্টিয়াঃ
জাতীয় সংসদে নারী সংসদ সদস্যদের হিজাব ও নিকাব নিয়ে করা মন্তব্যকে কেন্দ্র করে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত মর্যাদা এবং সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের নারী শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে পোশাক পরিধান করা প্রত্যেক নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার এবং এ বিষয়ে কোনো অবমাননাকর মন্তব্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, “ইবিতে নিকাব প্রতিবাদ” শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি নারীর মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার প্রতীকী অবস্থান।
কর্মসূচিতে বক্তারা জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নিকাব সংক্রান্ত বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তারা বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির বক্তব্যে দায়িত্বশীলতা, সংবেদনশীলতা এবং সকল নাগরিকের বিশ্বাসের প্রতি সম্মান থাকা উচিত। অথচ সংশ্লিষ্ট বক্তব্যে নারীদের ধর্মীয় চর্চা এবং ব্যক্তিগত পছন্দকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। বক্তারা আরও বলেন, দেশের নারী সমাজকে ছোট করে দেখার কিংবা তাদের পোশাক নিয়ে বিদ্রূপ করার সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ সময় “ইবিতে নিকাব প্রতিবাদ” কর্মসূচি থেকে বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহার এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস ও সংবিধানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী সংবিধান প্রণয়ন কমিটির ৩৪ সদস্যের মধ্যে বেগম রাজিয়া বানু ছিলেন একমাত্র নারী সদস্য এবং তিনি পর্দানশিন জীবনাচার অনুসরণ করেই রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে পর্দা, হিজাব কিংবা নিকাবকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা দেশের ঐতিহাসিক বাস্তবতা ও সাংবিধানিক চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বক্তারা দাবি করেন, ধর্মীয় মূল্যবোধকে সম্মান করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি নারীর নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও পরিচয়কেও মর্যাদা দিতে হবে। তাদের মতে, “ইবিতে নিকাব প্রতিবাদ” কর্মসূচি সেই সম্মান ও সহনশীলতার বার্তাই বহন করছে।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, একটি বহুমাত্রিক সমাজে ভিন্ন মত, ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভিন্ন জীবনাচারের মানুষের সহাবস্থানই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তাই কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ধর্মীয় পোশাককে উপহাস করা সামাজিক সম্প্রীতির জন্যও ক্ষতিকর। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তা ভবিষ্যতে আরও বড় সামাজিক বিভাজনের কারণ হতে পারে। এ কারণে তারা সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রদানের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা ধর্মীয় স্বাধীনতা, নারীর মর্যাদা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে একটি সহনশীল সমাজ গঠনের আহ্বান জানান। তারা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অন্যের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের প্রতি সম্মান প্রদর্শনও সমান জরুরি। মানববন্ধন থেকে ভবিষ্যতে ধর্মীয় অনুশীলন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও নারীর অধিকার নিয়ে কোনো ধরনের অবমাননাকর মন্তব্য না করার আহ্বান জানানো হয়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, “ইবিতে নিকাব প্রতিবাদ” কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল সম্মান, সহমর্মিতা ও সাংবিধানিক অধিকারের পক্ষে একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
আরোও পড়ুন – কুষ্টিয়ায় হত্যাচেষ্টা মামলায় যুবদল নেতা আটক, আদালত থেকে কারাগারে প্রেরণ