নাহিদ হাসান, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধিঃ
নরসিংদীতে চাঞ্চল্যকর একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে আলোচিত সারোয়ার হত্যা মামলা-র গুরুত্বপূর্ণ রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোঃ আনোয়ার হোসেন (২৭) ও আশিক (২১) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে নরসিংদী সদর মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোঃ কলিমুল্লাহ এসব তথ্য জানান। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর্থিক লেনদেনজনিত বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত সারোয়ার হোসেন (২২) নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার চন্দগাতী এলাকার হাজি রহমানের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি পরিবার নিয়ে নরসিংদী শহরের টাওয়াদী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হওয়ায় তার আকস্মিক মৃত্যু স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। কয়েকদিন ধরে তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু করলে ধীরে ধীরে সারোয়ার হত্যা মামলা-র নানা তথ্য সামনে আসতে থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ১৫ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর গ্রামের বেরিবাঁধ এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্তে কাজ শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আনোয়ার ও আশিককে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ যাচাই করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি সারোয়ার হোসেনের। এরপর তদন্তে নতুন গতি আসে এবং সারোয়ার হত্যা মামলা-র মূল রহস্য উন্মোচিত হতে শুরু করে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেন নিয়ে সারোয়ারের সঙ্গে আনোয়ারের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পনা করা হয় হত্যার। গত ১৩ জুন কৌশলে সারোয়ারকে তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের কোনো স্পষ্ট সূত্র না থাকলেও প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে সারোয়ার হত্যা মামলা-র জট খুলতে সক্ষম হয় পুলিশ।

তদন্তে আরও জানা গেছে, হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পর অভিযুক্তরা সারোয়ারের ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ব্যাটারি খুলে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ব্যাটারি বিক্রির ঘটনাটি হত্যার পর আলামত গোপনের একটি প্রচেষ্টা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে এ ঘটনায় আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।
পুলিশ বলছে, অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের পর অল্প সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা তদন্ত দলের জন্য একটি বড় সাফল্য। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত তদন্তের ফলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। এদিকে নিহতের পরিবার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সারোয়ার হত্যা মামলা-র তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আরোও পড়ুন – নরসিংদির পলাশে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামী গ্রেপ্তার
সারোয়ার হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ২
নাহিদ হাসান, নরসিংদী জেলা প্রতিনিধিঃ
নরসিংদীতে চাঞ্চল্যকর একটি ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা নজরদারি এবং ধারাবাহিক তদন্তের মাধ্যমে আলোচিত সারোয়ার হত্যা মামলা-র গুরুত্বপূর্ণ রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোঃ আনোয়ার হোসেন (২৭) ও আশিক (২১) নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে নরসিংদী সদর মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মোঃ কলিমুল্লাহ এসব তথ্য জানান। পুলিশ বলছে, প্রাথমিক তদন্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর্থিক লেনদেনজনিত বিরোধের বিষয়টি সামনে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত সারোয়ার হোসেন (২২) নেত্রকোনার কেন্দুয়া থানার চন্দগাতী এলাকার হাজি রহমানের ছেলে। জীবিকার তাগিদে তিনি পরিবার নিয়ে নরসিংদী শহরের টাওয়াদী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য হওয়ায় তার আকস্মিক মৃত্যু স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। কয়েকদিন ধরে তার কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্ত শুরু করলে ধীরে ধীরে সারোয়ার হত্যা মামলা-র নানা তথ্য সামনে আসতে থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, ১৫ জুন রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার নজরপুর ইউনিয়নের চম্পকনগর গ্রামের বেরিবাঁধ এলাকা থেকে একটি অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্তে কাজ শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আনোয়ার ও আশিককে আটক করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্য এবং প্রযুক্তিগত প্রমাণ যাচাই করে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে উদ্ধার হওয়া মরদেহটি সারোয়ার হোসেনের। এরপর তদন্তে নতুন গতি আসে এবং সারোয়ার হত্যা মামলা-র মূল রহস্য উন্মোচিত হতে শুরু করে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেন নিয়ে সারোয়ারের সঙ্গে আনোয়ারের বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পনা করা হয় হত্যার। গত ১৩ জুন কৌশলে সারোয়ারকে তার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাসহ নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডের কোনো স্পষ্ট সূত্র না থাকলেও প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানের মাধ্যমে সারোয়ার হত্যা মামলা-র জট খুলতে সক্ষম হয় পুলিশ।

তদন্তে আরও জানা গেছে, হত্যাকাণ্ড সংঘটনের পর অভিযুক্তরা সারোয়ারের ব্যবহৃত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ব্যাটারি খুলে অন্যত্র বিক্রি করে দেয়। এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ। ব্যাটারি বিক্রির ঘটনাটি হত্যার পর আলামত গোপনের একটি প্রচেষ্টা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে এ ঘটনায় আরও গ্রেপ্তার হতে পারে।
পুলিশ বলছে, অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের পর অল্প সময়ের মধ্যে হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা তদন্ত দলের জন্য একটি বড় সাফল্য। স্থানীয়দের মতে, দ্রুত তদন্তের ফলে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। এদিকে নিহতের পরিবার হত্যার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সারোয়ার হত্যা মামলা-র তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং আদালতে উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আরোও পড়ুন – নরসিংদির পলাশে স্কুল ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় প্রধান আসামী গ্রেপ্তার