ইউনিয়ন অফিস ভাঙচুরের নামে মামলা বাণিজ্য? তদন্তে উঠে আসছে নতুন তথ্য

মাজহারুল ইসলাম বাদলঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় বিটঘর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ভাঙচুর ও বাজারে লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলা এখন পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত চললেও মামলার অভিযোগ ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতির কথা বলছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, নির্দিষ্ট দিনে সংঘবদ্ধভাবে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় এবং সংলগ্ন বাজারের একাধিক দোকান থেকে প্রায় ৯০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। মামলায় ৫৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এজাহারের ভাষ্য অনুযায়ী ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত ও সহিংস।
তবে স্থানীয় বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। বিটঘর বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ওই দিন তারা তাদের দোকানে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করেছেন এবং কোনো ধরনের ব্যাপক ভাঙচুর বা লুটপাটের ঘটনা তাদের চোখে পড়েনি। অনেকেই দাবি করেছেন, দোকানের তালা ভাঙা বা মালামাল খোয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের দাবি, ঘটনার সময় তারা নবীনগর এলাকায় উপস্থিতই ছিলেন না। কেউ কর্মস্থলে, কেউ আবার জেলার বাইরে অবস্থান করছিলেন বলে তারা দাবি করেছেন। ফলে মামলায় উল্লিখিত সময় ও ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা মামলাটিকে বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। একাধিক অভিযুক্তের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মামলার নাম থেকে অব্যাহতির আশ্বাস দিয়ে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেওয়ার পরও তাদের নাম বাদ পড়েনি। এসব অভিযোগ মামলাটিকে তথাকথিত মামলা বাণিজ্যের অভিযোগে জড়িয়ে ফেলেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও মামলাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিএনপি সংশ্লিষ্ট নেতারা এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে দাবি করছেন। আবার স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরাও প্রকাশ্যে বলছেন, তারা এ ধরনের কোনো বড় ভাঙচুরের ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মামলাটি রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করা সম্ভব নয় বলে তারা মন্তব্য করেছেন।
এদিকে সাধারণ মানুষের মনে একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। যদি সত্যিই বড় ধরনের ভাঙচুর হয়ে থাকে, তাহলে সিসিটিভি বা দৃশ্যমান প্রমাণ সামনে আসছে না কেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসছে না কেন। এই মামলা কি প্রকৃত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করবে, নাকি ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য সাধনের মাধ্যম হয়ে উঠবে—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে নবীনগরবাসী।

ইউনিয়ন অফিস ভাঙচুরের নামে মামলা বাণিজ্য? তদন্তে উঠে আসছে নতুন তথ্য

ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫

মাজহারুল ইসলাম বাদলঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় বিটঘর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় ভাঙচুর ও বাজারে লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলা এখন পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত চললেও মামলার অভিযোগ ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতির কথা বলছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, নির্দিষ্ট দিনে সংঘবদ্ধভাবে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় এবং সংলগ্ন বাজারের একাধিক দোকান থেকে প্রায় ৯০ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। মামলায় ৫৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৭০ থেকে ৮০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এজাহারের ভাষ্য অনুযায়ী ঘটনাটি ছিল পরিকল্পিত ও সহিংস।
তবে স্থানীয় বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। বিটঘর বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ওই দিন তারা তাদের দোকানে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করেছেন এবং কোনো ধরনের ব্যাপক ভাঙচুর বা লুটপাটের ঘটনা তাদের চোখে পড়েনি। অনেকেই দাবি করেছেন, দোকানের তালা ভাঙা বা মালামাল খোয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজন ব্যক্তির পরিবার ও স্বজনদের দাবি, ঘটনার সময় তারা নবীনগর এলাকায় উপস্থিতই ছিলেন না। কেউ কর্মস্থলে, কেউ আবার জেলার বাইরে অবস্থান করছিলেন বলে তারা দাবি করেছেন। ফলে মামলায় উল্লিখিত সময় ও ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা মামলাটিকে বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। একাধিক অভিযুক্তের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মামলার নাম থেকে অব্যাহতির আশ্বাস দিয়ে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দেওয়ার পরও তাদের নাম বাদ পড়েনি। এসব অভিযোগ মামলাটিকে তথাকথিত মামলা বাণিজ্যের অভিযোগে জড়িয়ে ফেলেছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও মামলাটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। বিএনপি সংশ্লিষ্ট নেতারা এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে দাবি করছেন। আবার স্থানীয় আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরাও প্রকাশ্যে বলছেন, তারা এ ধরনের কোনো বড় ভাঙচুরের ঘটনা সম্পর্কে অবগত নন।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মামলাটি রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মামলার প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করা সম্ভব নয় বলে তারা মন্তব্য করেছেন।
এদিকে সাধারণ মানুষের মনে একাধিক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। যদি সত্যিই বড় ধরনের ভাঙচুর হয়ে থাকে, তাহলে সিসিটিভি বা দৃশ্যমান প্রমাণ সামনে আসছে না কেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য প্রকাশ্যে আসছে না কেন। এই মামলা কি প্রকৃত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করবে, নাকি ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য সাধনের মাধ্যম হয়ে উঠবে—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে নবীনগরবাসী।