সম্পাদকীয় | সংবাদ প্রতিদিনঃ
ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন জাতি একদিকে নতুন প্রত্যাশার দিকে তাকিয়ে আছে, অন্যদিকে বিদায়ী বছরের গভীর শোক ও বেদনাবিধুর স্মৃতি বহন করছে। সময়ের এই সন্ধিক্ষণ আমাদের সামনে শুধু ভবিষ্যতের সম্ভাবনাই নয়, অতীতের দায় ও আত্মত্যাগের ইতিহাসও নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।
বিদায়ী ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তে বাংলাদেশ হারিয়েছে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক নেতৃত্বকে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপোষহীন দেশনেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ ডিসেম্বর ভোরে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে এক শূন্যতা, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সংসদীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকারের প্রশ্নে তাঁর সংগ্রামী ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ থাকবে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিতর্ক সত্ত্বেও একটি বিষয় অনস্বীকার্য—বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সময়ের এক শক্ত প্রতীক। প্রতিকূলতা, কারাবরণ, অসুস্থতা—সবকিছুর মধ্যেও তিনি রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে সরে আসেননি। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি দলের নয়, পুরো জাতির জন্যই এক শোকাবহ অধ্যায়। নতুন বছরের শুরুতে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর স্মৃতির প্রতি মাথা নত করে।
একই সঙ্গে ডিসেম্বর মাসেই জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে আরেকটি বেদনাদায়ক ঘটনা। শহীদ শরীফ ওসমান হাদি দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, ন্যায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর জীবনাবসান সমাজের বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাঁর মৃত্যু কেবল একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি আইন-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে রাষ্ট্র ও সমাজের সামনে কঠিন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির আত্মত্যাগ আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়—গণতন্ত্র ও ন্যায়ের পথ কখনো সহজ নয়। ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়িয়েছে, তাদের ত্যাগই ভবিষ্যতের পথ আলোকিত করেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ত্যাগ একটি শক্ত বার্তা—ভয় নয়, সত্যের পক্ষেই থাকতে হবে।
ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬ তাই আমাদের জন্য শুধু উদ্যাপনের নয়, গভীর আত্মসমালোচনারও সময়। আমরা কি সত্যকে যথাযথ সম্মান দিচ্ছি? ভিন্নমতকে সহনশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করছি? নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ ভূমিকা পালন করছে কি না—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজাই নতুন বছরের বড় দায়িত্ব।
এই প্রেক্ষাপটে সংবাদ প্রতিদিন তার দায়িত্ব নতুন করে ঘোষণা করতে চায়। সংবাদ প্রকাশ মানে শুধু তথ্য পরিবেশন নয়—এটি ইতিহাসের দলিল তৈরি করা। গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তির এই সময়ে সত্য, নির্ভুলতা ও ভারসাম্যই সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি। নতুন বছরে আমরা আরও দৃঢ়ভাবে জনস্বার্থ, প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠ এবং ক্ষমতার জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করছি।
নতুন বছর মানেই নতুন সম্ভাবনা। কিন্তু সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করতে হলে শহীদদের ত্যাগ ও নেতাদের সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিতে হবে। সহনশীলতা, মানবিকতা ও ন্যায়বোধ ছাড়া কোনো সমাজ টেকসই হতে পারে না। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও সমাজকে এগিয়ে নেওয়াই হোক ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬-এর প্রধান অঙ্গীকার।
শোকের ভার নিয়েও আমরা প্রত্যাশা করি—এই নতুন বছর হোক সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর, ন্যায়ের প্রশ্নে আপসহীন থাকার এবং একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়ার বছর।
Happy New Year 2026.
সম্পাদক
সংবাদ প্রতিদিন
ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬: শোকের স্মৃতি, সংগ্রামের ইতিহাস ও সত্যের দায়
সম্পাদকীয় | সংবাদ প্রতিদিনঃ
ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন জাতি একদিকে নতুন প্রত্যাশার দিকে তাকিয়ে আছে, অন্যদিকে বিদায়ী বছরের গভীর শোক ও বেদনাবিধুর স্মৃতি বহন করছে। সময়ের এই সন্ধিক্ষণ আমাদের সামনে শুধু ভবিষ্যতের সম্ভাবনাই নয়, অতীতের দায় ও আত্মত্যাগের ইতিহাসও নতুন করে মনে করিয়ে দেয়।
বিদায়ী ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তে বাংলাদেশ হারিয়েছে এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক নেতৃত্বকে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপোষহীন দেশনেত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ ডিসেম্বর ভোরে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে এক শূন্যতা, যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সংসদীয় রাজনীতির প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ভোটাধিকারের প্রশ্নে তাঁর সংগ্রামী ভূমিকা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ থাকবে।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও বিতর্ক সত্ত্বেও একটি বিষয় অনস্বীকার্য—বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন সময়ের এক শক্ত প্রতীক। প্রতিকূলতা, কারাবরণ, অসুস্থতা—সবকিছুর মধ্যেও তিনি রাজনৈতিক বিশ্বাস থেকে সরে আসেননি। তাঁর প্রয়াণ শুধু একটি দলের নয়, পুরো জাতির জন্যই এক শোকাবহ অধ্যায়। নতুন বছরের শুরুতে জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর স্মৃতির প্রতি মাথা নত করে।
একই সঙ্গে ডিসেম্বর মাসেই জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে আরেকটি বেদনাদায়ক ঘটনা। শহীদ শরীফ ওসমান হাদি দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া, ন্যায় ও অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁর জীবনাবসান সমাজের বিবেককে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তাঁর মৃত্যু কেবল একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি আইন-শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে রাষ্ট্র ও সমাজের সামনে কঠিন প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
শহীদ শরীফ ওসমান হাদির আত্মত্যাগ আবারও স্মরণ করিয়ে দেয়—গণতন্ত্র ও ন্যায়ের পথ কখনো সহজ নয়। ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে যারা দাঁড়িয়েছে, তাদের ত্যাগই ভবিষ্যতের পথ আলোকিত করেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে এই ত্যাগ একটি শক্ত বার্তা—ভয় নয়, সত্যের পক্ষেই থাকতে হবে।
ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬ তাই আমাদের জন্য শুধু উদ্যাপনের নয়, গভীর আত্মসমালোচনারও সময়। আমরা কি সত্যকে যথাযথ সম্মান দিচ্ছি? ভিন্নমতকে সহনশীলতার সঙ্গে গ্রহণ করছি? নাগরিকের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানগুলো যথাযথ ভূমিকা পালন করছে কি না—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজাই নতুন বছরের বড় দায়িত্ব।
এই প্রেক্ষাপটে সংবাদ প্রতিদিন তার দায়িত্ব নতুন করে ঘোষণা করতে চায়। সংবাদ প্রকাশ মানে শুধু তথ্য পরিবেশন নয়—এটি ইতিহাসের দলিল তৈরি করা। গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তির এই সময়ে সত্য, নির্ভুলতা ও ভারসাম্যই সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি। নতুন বছরে আমরা আরও দৃঢ়ভাবে জনস্বার্থ, প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠ এবং ক্ষমতার জবাবদিহিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করছি।
নতুন বছর মানেই নতুন সম্ভাবনা। কিন্তু সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়ন করতে হলে শহীদদের ত্যাগ ও নেতাদের সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিতে হবে। সহনশীলতা, মানবিকতা ও ন্যায়বোধ ছাড়া কোনো সমাজ টেকসই হতে পারে না। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও সমাজকে এগিয়ে নেওয়াই হোক ইংরেজি নববর্ষ ২০২৬-এর প্রধান অঙ্গীকার।
শোকের ভার নিয়েও আমরা প্রত্যাশা করি—এই নতুন বছর হোক সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর, ন্যায়ের প্রশ্নে আপসহীন থাকার এবং একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাওয়ার বছর।
Happy New Year 2026.
সম্পাদক
সংবাদ প্রতিদিন