সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহীঃ
রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় দাঁড়ায়, তখন পরিবেশ রক্ষা আর আইনের শাসন—দুটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ একটি গাছ কাটলে মামলা হয়; কিন্তু প্রশাসন বা সরকারি কর্মকর্তার নির্দেশে অনুমোদন ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ উঠলে সেটির জবাবদিহি কোথায়—এমন প্রশ্ন এখন বাগমারা উপজেলা, রাজশাহী জুড়ে।
সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের জ্বালানির বাগমারায় সরকারি গাছ কাটা
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পের জ্বালানির যোগান দেওয়ার কথা উল্লেখ করে একটি সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভবানীগঞ্জ–তাহেরপুর সড়কে।
ইউএনও’র নির্দেশে বাগমারায় সরকারি গাছ কাটা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কের পাশে থাকা একটি সরকারি গাছ শ্রমিক দিয়ে কেটে ফেলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই গাছ কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন শ্রমিক দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশেই তারা গাছটি কাটেন।
ভিডিও করতে গিয়ে ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ
গাছ কাটার দৃশ্য দেখে এক পথচারী ভিডিও ধারণ করতে গেলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বাগমারা থানার এক এসআইয়ের মাধ্যমে ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, পুলিশ ফোনটি নেয়নি। পরে এসআই শাহিনের মাধ্যমে জানা যায়, সেনাবাহিনীর সদস্যরা ফোনটি নিয়েছিলেন এবং পরে তা ফেরত দেওয়া হয়।
এসআই শাহিন বলেন, ঘটনাস্থলে দাঁড়ানো দেখে সেনাবাহিনীর সদস্যদের অনুরোধ করে ফোনটি ফেরত এনে মালিককে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী ইউএনও’র নির্দেশেই গাছ কাটা হয়েছে।
ইউএনও’র স্বীকারোক্তি
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম প্রথমে গাছ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন, সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে রান্নার লাকড়ির প্রয়োজন হওয়ায় গাছটি কাটা হয়েছে। অনুমোদনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
বন বিভাগের অবস্থান
রাজশাহী বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. জাহাঙ্গীর আলম তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে সহকারী বন সংরক্ষক নায়েমা আক্তার বলেন, অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটা গুরুতর অপরাধ এবং এ ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গাছের মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি
তিনি আরও জানান, রাস্তার পাশের গাছ বন বিভাগ, সড়ক ও জনপথ কিংবা বিএমডির আওতাভুক্ত কিনা—তা যাচাই জরুরি। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও বিএমডি সূত্রে জানা গেছে, উক্ত গাছ তাদের আওতাভুক্ত নয়; এটি বন বিভাগের দায়িত্বাধীন।
পরিবেশবাদীদের প্রতিক্রিয়া
রাজশাহীর পরিবেশবাদী সংগঠন বরেন্দ্র ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাস-এর সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক বলেন,
“রক্ষক যদি ভক্ষক হয়ে যায়, তাহলে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তর যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
আরোও পড়ুন – নবীনগরে সড়কের সরকারি গাছ কেটে লুটপাট, নিরব প্রশাসন

রক্ষক যখন ভক্ষক: বাগমারায় সরকারি গাছ কাটায় প্রশ্নের মুখে প্রশাসন
সাকিবুল ইসলাম স্বাধীন, রাজশাহীঃ
রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় দাঁড়ায়, তখন পরিবেশ রক্ষা আর আইনের শাসন—দুটিই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। সাধারণ মানুষ একটি গাছ কাটলে মামলা হয়; কিন্তু প্রশাসন বা সরকারি কর্মকর্তার নির্দেশে অনুমোদন ছাড়াই গাছ কাটার অভিযোগ উঠলে সেটির জবাবদিহি কোথায়—এমন প্রশ্ন এখন বাগমারা উপজেলা, রাজশাহী জুড়ে।
সেনাবাহিনীর ক্যাম্পের জ্বালানির বাগমারায় সরকারি গাছ কাটা
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় সেনাবাহিনীর অস্থায়ী ক্যাম্পের জ্বালানির যোগান দেওয়ার কথা উল্লেখ করে একটি সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ১৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভবানীগঞ্জ–তাহেরপুর সড়কে।
ইউএনও’র নির্দেশে বাগমারায় সরকারি গাছ কাটা
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কের পাশে থাকা একটি সরকারি গাছ শ্রমিক দিয়ে কেটে ফেলা হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই গাছ কাটার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা কয়েকজন শ্রমিক দাবি করেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশেই তারা গাছটি কাটেন।
ভিডিও করতে গিয়ে ফোন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ
গাছ কাটার দৃশ্য দেখে এক পথচারী ভিডিও ধারণ করতে গেলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন কেড়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বাগমারা থানার এক এসআইয়ের মাধ্যমে ফোনটি ফেরত দেওয়া হয়।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে বাগমারা থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, পুলিশ ফোনটি নেয়নি। পরে এসআই শাহিনের মাধ্যমে জানা যায়, সেনাবাহিনীর সদস্যরা ফোনটি নিয়েছিলেন এবং পরে তা ফেরত দেওয়া হয়।
এসআই শাহিন বলেন, ঘটনাস্থলে দাঁড়ানো দেখে সেনাবাহিনীর সদস্যদের অনুরোধ করে ফোনটি ফেরত এনে মালিককে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী ইউএনও’র নির্দেশেই গাছ কাটা হয়েছে।
ইউএনও’র স্বীকারোক্তি
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল ইসলাম প্রথমে গাছ কাটার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করেন, সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে রান্নার লাকড়ির প্রয়োজন হওয়ায় গাছটি কাটা হয়েছে। অনুমোদনের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে ফোন কেটে দেন।
বন বিভাগের অবস্থান
রাজশাহী বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা ড. জাহাঙ্গীর আলম তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে সহকারী বন সংরক্ষক নায়েমা আক্তার বলেন, অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটা গুরুতর অপরাধ এবং এ ক্ষেত্রে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
গাছের মালিকানা নিয়ে বিভ্রান্তি
তিনি আরও জানান, রাস্তার পাশের গাছ বন বিভাগ, সড়ক ও জনপথ কিংবা বিএমডির আওতাভুক্ত কিনা—তা যাচাই জরুরি। তবে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ও বিএমডি সূত্রে জানা গেছে, উক্ত গাছ তাদের আওতাভুক্ত নয়; এটি বন বিভাগের দায়িত্বাধীন।
পরিবেশবাদীদের প্রতিক্রিয়া
রাজশাহীর পরিবেশবাদী সংগঠন বরেন্দ্র ইয়ুথ এ্যাকশন ফর সোস্যাল চেঞ্জ-ইয়্যাস-এর সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক বলেন,
“রক্ষক যদি ভক্ষক হয়ে যায়, তাহলে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তর যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
আরোও পড়ুন – নবীনগরে সড়কের সরকারি গাছ কেটে লুটপাট, নিরব প্রশাসন
