মেঘনা নদী রক্ষায় কঠোর প্রশাসন, নবীনগরে অবৈধ ড্রেজার জব্দ

মাজহারুল ইসলাম বাদলঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অবশেষে কঠোর অবস্থানে গেল জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নবীনগরের নাছিরাবাদ বালুমহালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।


অভিযান পরিচালনা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রিন্স সরকার। অভিযানে যৌথবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন, যা পুরো অভিযানে প্রশাসনিক দৃঢ়তার বার্তা দেয়।


অভিযান চলাকালে চুক্তিপত্রে নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে চরলাপাং মৌজায় ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় নদীর বুকে সক্রিয় অবস্থায় থাকা দুটি ড্রেজার জব্দ করা হয় এবং চারজন ড্রেজার শ্রমিককে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।


জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রিন্স সরকার অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকারি অনুমোদন ও শর্ত অমান্য করে যারা প্রাকৃতিক সম্পদ লুটে নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান চলবে। প্রশাসনের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।


উল্লেখ্য, নবীনগরের মেঘনা নদী ও আশপাশের চরাঞ্চল বর্তমানে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। চরলাপাং, মানিকনগর, সাহেবনগরসহ নদীতীরবর্তী একাধিক গ্রামে দিনরাত ড্রেজারের বিকট শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। শতাধিক খননযন্ত্রের দাপটে নদীভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।


এতে করে ফসলি জমি ধ্বংসের মুখে পড়ছে, পাশাপাশি মসজিদ, মাদ্রাসা ও অসংখ্য বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলন চললেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব ছিল।


ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে। অনেকেই আশা করছেন, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মেঘনা নদীকে অবৈধ বালু সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

মেঘনা নদী রক্ষায় কঠোর প্রশাসন, নবীনগরে অবৈধ ড্রেজার জব্দ

জানুয়ারি ৮, ২০২৬

মাজহারুল ইসলাম বাদলঃ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় মেঘনা নদীতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অবশেষে কঠোর অবস্থানে গেল জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে অবৈধ বালু উত্তোলন নিয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) নবীনগরের নাছিরাবাদ বালুমহালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।


অভিযান পরিচালনা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রিন্স সরকার। অভিযানে যৌথবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করেন, যা পুরো অভিযানে প্রশাসনিক দৃঢ়তার বার্তা দেয়।


অভিযান চলাকালে চুক্তিপত্রে নির্ধারিত এলাকার বাইরে গিয়ে চরলাপাং মৌজায় ড্রেজার ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ সময় নদীর বুকে সক্রিয় অবস্থায় থাকা দুটি ড্রেজার জব্দ করা হয় এবং চারজন ড্রেজার শ্রমিককে আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।


জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রিন্স সরকার অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সরকারি অনুমোদন ও শর্ত অমান্য করে যারা প্রাকৃতিক সম্পদ লুটে নিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান চলবে। প্রশাসনের এই উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।


উল্লেখ্য, নবীনগরের মেঘনা নদী ও আশপাশের চরাঞ্চল বর্তমানে অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের জন্য একটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। চরলাপাং, মানিকনগর, সাহেবনগরসহ নদীতীরবর্তী একাধিক গ্রামে দিনরাত ড্রেজারের বিকট শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে। শতাধিক খননযন্ত্রের দাপটে নদীভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে।


এতে করে ফসলি জমি ধ্বংসের মুখে পড়ছে, পাশাপাশি মসজিদ, মাদ্রাসা ও অসংখ্য বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালু উত্তোলন চললেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব ছিল।


ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই অভিযান স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরিয়েছে। অনেকেই আশা করছেন, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে মেঘনা নদীকে অবৈধ বালু সন্ত্রাসীদের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।