কক্সবাজার সার্ফিং টুর্নামেন্ট উদ্বোধন, স্পোর্টস ট্যুরিজম গড়ার ঘোষণা

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কাউছার উদ্দিন হৃদয়

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘কিউট ৮ম জাতীয় সার্ফিং টুর্নামেন্ট’। এই কক্সবাজার সার্ফিং আয়োজন ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শক, পর্যটক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো সৈকত এলাকা। শুক্রবার সকালে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়, যা কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। তিনি বলেন, কক্সবাজার সার্ফিং প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে সরকার দেশের পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে ‘স্পোর্টস ট্যুরিজম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা পেলে বাংলাদেশের তরুণ সার্ফাররা একদিন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের সুনাম বয়ে আনবে।


বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি বলেন, কক্সবাজার সার্ফিং ইভেন্ট দেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় দিক উন্মোচন করেছে, যা পর্যটন খাতের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তার মতে, সার্ফিংকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানের আয়োজন ভবিষ্যতে কক্সবাজারকে একটি বৈশ্বিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে।


নীল সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সার্ফারদের দৃষ্টিনন্দন পারফরম্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করে। দুই দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় পুরুষ ও নারী বিভাগে প্রায় ৭০ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন। কক্সবাজার সার্ফিং প্রতিযোগিতার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে সৈকতে ভিড় জমায় অসংখ্য পর্যটক, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।


বাংলাদেশ সার্ফিং এসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম মুজাহিদ উদ্দিন জানান, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের সার্ফাররা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, এই ধরনের কক্সবাজার সার্ফিং আয়োজন নিয়মিত হলে দেশের তরুণদের মধ্যে নতুন ক্রীড়া আগ্রহ সৃষ্টি হবে।


উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী সার্ফিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি জানান, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার ইতোমধ্যে ক্রীড়া ভাতা চালু করেছে। পাশাপাশি আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী নতুন ক্রীড়া কার্যক্রম শুরু এবং আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে এগিয়ে চলা এই সার্ফারদের স্বপ্ন এখন আরও বড়। সংশ্লিষ্টদের মতে, ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতা ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই তরুণরাই একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের জন্য গর্ব বয়ে আনবে।

কক্সবাজার সার্ফিং টুর্নামেন্ট উদ্বোধন, স্পোর্টস ট্যুরিজম গড়ার ঘোষণা

এপ্রিল ৩, ২০২৬

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কাউছার উদ্দিন হৃদয়

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী পয়েন্টে উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘কিউট ৮ম জাতীয় সার্ফিং টুর্নামেন্ট’। এই কক্সবাজার সার্ফিং আয়োজন ঘিরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শক, পর্যটক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো সৈকত এলাকা। শুক্রবার সকালে বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়, যা কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক। তিনি বলেন, কক্সবাজার সার্ফিং প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে সরকার দেশের পর্যটন খাতকে আরও সমৃদ্ধ করতে ‘স্পোর্টস ট্যুরিজম’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সঠিক প্রশিক্ষণ ও সুযোগ-সুবিধা পেলে বাংলাদেশের তরুণ সার্ফাররা একদিন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে দেশের সুনাম বয়ে আনবে।


বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল। তিনি বলেন, কক্সবাজার সার্ফিং ইভেন্ট দেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় দিক উন্মোচন করেছে, যা পর্যটন খাতের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তার মতে, সার্ফিংকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানের আয়োজন ভবিষ্যতে কক্সবাজারকে একটি বৈশ্বিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে।


নীল সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সার্ফারদের দৃষ্টিনন্দন পারফরম্যান্স দর্শকদের মুগ্ধ করে। দুই দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় পুরুষ ও নারী বিভাগে প্রায় ৭০ জন প্রতিযোগী অংশ নিয়েছেন। কক্সবাজার সার্ফিং প্রতিযোগিতার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে সৈকতে ভিড় জমায় অসংখ্য পর্যটক, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।


বাংলাদেশ সার্ফিং এসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম মুজাহিদ উদ্দিন জানান, যথাযথ পৃষ্ঠপোষকতা ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের সার্ফাররা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, এই ধরনের কক্সবাজার সার্ফিং আয়োজন নিয়মিত হলে দেশের তরুণদের মধ্যে নতুন ক্রীড়া আগ্রহ সৃষ্টি হবে।


উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী সার্ফিংয়ের জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন এবং উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তিনি জানান, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সরকার ইতোমধ্যে ক্রীড়া ভাতা চালু করেছে। পাশাপাশি আগামী ৩০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী নতুন ক্রীড়া কার্যক্রম শুরু এবং আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে এগিয়ে চলা এই সার্ফারদের স্বপ্ন এখন আরও বড়। সংশ্লিষ্টদের মতে, ধারাবাহিক পৃষ্ঠপোষকতা ও উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই তরুণরাই একদিন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে এবং দেশের জন্য গর্ব বয়ে আনবে।