রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন, অবশেষে মুখ খুললেন ড. মো. ইমাম হোসেন

মো: জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) প্রক্টর ড. মো. ইমাম হোসেন-কে ঘিরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া কিছু ছবিকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে ড. মো. ইমাম হোসেন-কে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়। বিশেষ করে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী পালন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব ছবি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

একাংশের মতে, এসব কর্মকাণ্ড ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিফলন হতে পারে। তাদের দাবি, ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখার প্রবণতা থেকেই এ ধরনের অংশগ্রহণ দেখা যায়। তবে অন্য একটি অংশ বলছে, একজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ড. মো. ইমাম হোসেন এসব রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।

এই বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বক্তব্য দিয়েছেন ড. মো. ইমাম হোসেন। তিনি বলেন, “আমি দায়িত্ববোধ ও কর্তব্য পালনের অংশ হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কোনো রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে নয়। যারা এসব প্রচার করছে, তাদের উদ্দেশ্য অসৎ।”

তিনি আরও জানান, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় সরকারি ও জাতীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্বাভাবিক বিষয়। এসব কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা হিসেবে দেখাটা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি না করার আহ্বান জানান ড. মো. ইমাম হোসেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। এর পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মাভাবিপ্রবিতেও প্রশাসনিক পরিবর্তন আসে। ভিসিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য হয়ে পড়লে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. তৌহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেন-কে মাভাবিপ্রবির নতুন প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বর্তমানে ড. মো. ইমাম হোসেন-কে ঘিরে চলমান বিতর্ক ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে তার বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরোও পড়ুন – মাভাবিপ্রবি নথি বিকৃতি: প্রক্টর অপসারণে আলটিমেটাম

রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন, অবশেষে মুখ খুললেন ড. মো. ইমাম হোসেন

এপ্রিল ৪, ২০২৬

মো: জিসান রহমান, মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) প্রক্টর ড. মো. ইমাম হোসেন-কে ঘিরে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া কিছু ছবিকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক নতুন করে সামনে আসে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।

ভাইরাল হওয়া ছবিগুলোতে ড. মো. ইমাম হোসেন-কে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা যায়। বিশেষ করে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী পালন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গ্রুপ ছবিতে তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব ছবি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

একাংশের মতে, এসব কর্মকাণ্ড ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রতিফলন হতে পারে। তাদের দাবি, ক্ষমতাসীন সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বজায় রাখার প্রবণতা থেকেই এ ধরনের অংশগ্রহণ দেখা যায়। তবে অন্য একটি অংশ বলছে, একজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ড. মো. ইমাম হোসেন এসব রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন।

এই বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বক্তব্য দিয়েছেন ড. মো. ইমাম হোসেন। তিনি বলেন, “আমি দায়িত্ববোধ ও কর্তব্য পালনের অংশ হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কোনো রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে নয়। যারা এসব প্রচার করছে, তাদের উদ্দেশ্য অসৎ।”

তিনি আরও জানান, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় সরকারি ও জাতীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্বাভাবিক বিষয়। এসব কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা হিসেবে দেখাটা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক তৈরি না করার আহ্বান জানান ড. মো. ইমাম হোসেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। এর পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মাভাবিপ্রবিতেও প্রশাসনিক পরিবর্তন আসে। ভিসিসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য হয়ে পড়লে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. তৌহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইমাম হোসেন-কে মাভাবিপ্রবির নতুন প্রক্টর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বর্তমানে ড. মো. ইমাম হোসেন-কে ঘিরে চলমান বিতর্ক ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। তবে তার বক্তব্যের পর বিষয়টি নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরোও পড়ুন – মাভাবিপ্রবি নথি বিকৃতি: প্রক্টর অপসারণে আলটিমেটাম