বাবুগঞ্জ-উজিরপুরে নদীভাঙন রোধে ১,২৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে

উজিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি: সবুজ হাওলাদারঃ

বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ ও উজিরপুর উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে একটি বড় সুখবর সামনে এসেছে। বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য শরফুদ্দিন আহমেদ (সান্টু)-এর উদ্যোগে নদীভাঙন রোধ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন দৃশ্যমান অগ্রগতির পথে রয়েছে। প্রায় ১ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সন্ধ্যা ও সুগন্ধা নদীর তীর সংরক্ষণে একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এমপি শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু উল্লেখ করেন, বাবুগঞ্জ ও উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বছরের পর বছর ধরে ভয়াবহ নদীভাঙনের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতি বছর হাজার হাজার একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ অবস্থায় একটি টেকসই নদীভাঙন রোধ প্রকল্প ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে তিনি জোর দেন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নদীভাঙনের কারণে শুধু কৃষিজমিই নয়, অসংখ্য বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, রাস্তা-ঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে, অনেক পরিবারকে বারবার স্থান পরিবর্তন করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত নদীভাঙন রোধ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীতীর সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমপি সান্টু জানান, ইতোমধ্যে প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-তে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং দ্রুত অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, নদীতীর সংরক্ষণ এবং আধুনিক প্রকৌশল পদ্ধতি প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এই নদীভাঙন রোধ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং কৃষি, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নদীভাঙনের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অনেকেই ইতোমধ্যে তাদের বসতভিটা ও জমি হারিয়েছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাস্তবায়ন শুরু হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশার অবসান ঘটবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাস্তবায়ন সফল হলে এটি দেশের একটি দৃষ্টান্তমূলক নদীভাঙন রোধ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে।

আরোও পড়ুন – উজিরপুরে রহস্যজনক মৃত্যু: স্বামীর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি মাদ্রাসা শিক্ষিকার

বাবুগঞ্জ-উজিরপুরে নদীভাঙন রোধে ১,২৯৮ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে

এপ্রিল ১১, ২০২৬

উজিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি: সবুজ হাওলাদারঃ

বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ ও উজিরপুর উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনে একটি বড় সুখবর সামনে এসেছে। বরিশাল-২ আসনের সংসদ সদস্য শরফুদ্দিন আহমেদ (সান্টু)-এর উদ্যোগে নদীভাঙন রোধ প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া এখন দৃশ্যমান অগ্রগতির পথে রয়েছে। প্রায় ১ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সন্ধ্যা ও সুগন্ধা নদীর তীর সংরক্ষণে একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ অনেকটাই লাঘব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে এমপি শরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু উল্লেখ করেন, বাবুগঞ্জ ও উজিরপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে বছরের পর বছর ধরে ভয়াবহ নদীভাঙনের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতি বছর হাজার হাজার একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে কৃষকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ অবস্থায় একটি টেকসই নদীভাঙন রোধ প্রকল্প ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে তিনি জোর দেন।

চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, নদীভাঙনের কারণে শুধু কৃষিজমিই নয়, অসংখ্য বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মন্দির, রাস্তা-ঘাটসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে রয়েছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে, অনেক পরিবারকে বারবার স্থান পরিবর্তন করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত নদীভাঙন রোধ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নদীতীর সুরক্ষা নিশ্চিত হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমপি সান্টু জানান, ইতোমধ্যে প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-তে অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং দ্রুত অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ, নদীতীর সংরক্ষণ এবং আধুনিক প্রকৌশল পদ্ধতি প্রয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। এই নদীভাঙন রোধ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং কৃষি, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তারা নদীভাঙনের কারণে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অনেকেই ইতোমধ্যে তাদের বসতভিটা ও জমি হারিয়েছেন। তারা আশা করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পটির অনুমোদন ও বাস্তবায়ন শুরু হলে এই অঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশার অবসান ঘটবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বাস্তবায়ন সফল হলে এটি দেশের একটি দৃষ্টান্তমূলক নদীভাঙন রোধ প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হবে।

আরোও পড়ুন – উজিরপুরে রহস্যজনক মৃত্যু: স্বামীর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি মাদ্রাসা শিক্ষিকার